×

খবর

ধাক্কা দিয়ে ছিনতাইয়ে জড়িত ৩ জন গ্রেপ্তার

টার্গেট পুরান ঢাকার স্বর্ণ ও হুন্ডি ব্যবসায়ীরা

Icon

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : পুরান ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই চালিয়ে আসা একটি চক্রের ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- খোকন দাস ওরফে বাইল্যা খোকন, রেজাউল করিম ও কামাল হোসেন। ডিবি লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি টিমের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম ও খুলনায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মূলত টাকা বহনকারী ব্যক্তিকে টার্গেট করে এ চক্রের সদস্যরা নিজ থেকে আচমকা ধাক্কা দিয়ে ঝগড়া শুরু করে। এরপর পাশেই ওঁৎ পেতে থাকা চক্রের অন্য সদস্যরা এসে মারধর করে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা লুট করে নেয়। সাধারণত হুন্ডির ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে চক্রটি। গ্রেপ্তার খোকন দাস ওরফে বাইল্যা খোকন এ চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী। রেজাউল করিম মূল অপারেশনাল সংগঠক ও কামাল হোসেন ভুক্তভোগীর গতিবিধি রেকি করা দলের সদস্য।

৩ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে গতকাল বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ডিবি লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান জানান, গত ২৬ এপ্রিল একটি জুয়েলার্সের কর্মচারী মহিউদ্দিন ৭০ লাখ টাকা নিয়ে পায়ে হেঁটে তাঁতিবাজারের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। বিকাল ৫টার দিকে ইসলামপুরের নবনারায়ণ লেনের প্রবেশ মুখে পৌঁছামাত্র একজন তাকে ধাক্কা দিয়ে উল্টো অভিযোগ করে, ধাক্কা কেন দিলা। মহিউদ্দিন ক্ষমা চেয়ে চলে যেতে চাইলে আশপাশ থেকে ৭-৮ জন এসে তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে তার চোখে আঙ্গুল দিয়ে গুল লাগিয়ে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গত ২৭ এপ্রিল জুয়েলার্সের মালিক আকিদুল ইসলামের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে থানায় ডাকাতির মামলা হয়। এরপর আশপাশের সিসি ক্যামেরা বিশ্লেষণ, ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ছায়াতদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে এই ডাকাতি মামলার পরিকল্পনাকারী ও জড়িতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত হয়। তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গত ২৫ মে চট্টগ্রাম ও খুলনায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ সাড়ে ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এর আগে কোতোয়ালি থানা পুলিশ বাবু ও শাহ আলম নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ডিসি মশিউর বলেন, পুরান ঢাকায় বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রতিদিন লাখ-লাখ টাকা লেনদেন করেন। মোটা অঙ্কের টাকা পরিবহনের ক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার নির্দেশনা থাকলেও কাছাকাছি জায়গায় টাকা স্থানান্তর করা হয় বলে তারা পুলিশকে জানান না।

পুরান ঢাকার এই এলাকাগুলোয় প্রতিদিন শত কোটি টাকার বৈধ লেনদেনের পাশাপাশি অনেকেই হুন্ডির টাকা লেনদেন করে থাকেন। ডাকাত-ছিনতাইকারীরা সাধারণত এই হুন্ডি ব্যবসায়ীদের টাকা টার্গেট করে। কারণ হুন্ডির টাকা লেনদেন করা আইনে স্বীকৃত নয়। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অধিকাংশ সময় বিষয়টি পুলিশকে জানান না। কিন্তু বৈধ ব্যবসায়ীরাও কখনো কখনো ডাকাতদের কবলে পড়েন।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিষয়ে ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, কোনো ব্যবসায়ী কীভাবে টাকা লেনদেন করেন তা ভালোভাবেই জানেন বাইল্যা খোকন। অপারেশনাল কমান্ডার রেজাউল করিম একসময় পুরান ঢাকাতেই ব্যবসা করতেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App