×

খবর

আলোচনা সভায় বক্তারা

পরিবেশ রক্ষায় বিকল্প নেই সবুজ শিল্পায়নের

Icon

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : নিজেদের পরিবেশ-প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ উন্নত বিশ্বের বাজার ধরতে চাইলে সবুজ এবং টেকসই শিল্পায়নের বিকল্প নেই, তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরী গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেয়া হচ্ছে। শিল্পের বিকাশ করতে গিয়ে যাতে পরিবেশগত কোনো ঝুঁকি না আসে তা রক্ষা করা আমাদের সবারই দায়িত্ব। চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরের আঞ্চলিক পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়নের খসড়া প্রতিবেদনের ওপর অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মশালায় বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গত মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কারণে সংশ্লিষ্ট পরিবেশগত এবং সামাজিক ঝুঁঁকি এবং প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় জানানো হয়, চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুণ্ড এবং ফেনীর সোনাগাজী এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এ মহাপরিকল্পনাটি তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রথম দুই ধাপ পাঁচ বছর মেয়াদি এবং তৃতীয় ধাপ ১০ বছর মেয়াদি।

কর্মশালায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, দীর্ঘমেয়াদে ইইউসহ উন্নত বিশ্বের বাজার ধরতে চাইলে সবুজ এবং টেকসই শিল্পায়নের বিকল্প নেই। তাই আমরা সেভাবেই এই শিল্পনগরী গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। এ সময় তিনি নিশ্চিত করেন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কোনো গাছ কাটা হবে না এবং ভূ-গর্ভস্থ পানি রক্ষায় কাজ করা হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরী শিল্পের বিস্তার ঘটাবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং অপরিকল্পিত শিল্পায়ন কমাবে; এই মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ভিন্ন ইতিবাচক দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বেজা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরীতে থাকছে কেন্দ্রীয় তিনটি বর্জ্য শোধনাগার। ৩৩ হাজার ৮০৫ একর আয়তনের এই শিল্প নগরীর ১৭ হাজার একর ভূমিতে কারখানা স্থাপন করা যাবে। বাকি এলাকার মধ্যে খোলা জায়গা, বনায়ন, বন্দর সুবিধা, আবাসন, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ, বিনোদন কেন্দ্র, সবুজায়ন ও উন্মুক্ত স্থান থাকবে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান এই মহাপরিকল্পনা সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মুক্ত করেছে উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরী বাস্তবায়িত হলে আর্থসামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে, তবে একইসঙ্গে এই মহাপরিকল্পনা যেন পরিবেশগত কোনো ঝুঁকি না নিয়ে আসে, সেদিকেও আমাদের নজর রয়েছে। এ সময় তিনি এই শিল্পনগরীকে সবুজ এবং টেকসই হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রæতি দেন।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উর রহমান বলেন, ভৌগোলিক দিক থেকে এই শিল্পনগরীর অবস্থান সুবিধাজনক; বহির্বিশ্ব চীনের বাইরে বিনিয়োগ করতে চাইলে যেন বাংলাদেশের কথা ভাবতে পারে, সেভাবেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এই শিল্পনগরটি। এ সময় তিনি এই অঞ্চলের পর্যটন খাতেও যেন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে, তা নিশ্চিতকরণেও পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজিসহ জেলা প্রশাসন, বেজা ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App