×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

খবর

জ্যান্ত পুড়ে মারা গেছেন অনেক ফিলিস্তিনি

রাফায় শরণার্থী শিবিরে হামলায় ৪০ জন নিহত

Icon

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ ডেস্ক : গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থান থেকে এসে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় আশ্রয় নেয়া ফিলিস্তিনিদের একটি শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এই হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত ও ৬৫ জন আহত হয়েছেন। নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত তাল আস-সুলতান এলাকায় তাঁবুর ভেতরে থাকা অনেক ফিলিস্তিনি ‘জ্যান্ত পুড়ে’ মারা গেছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অন্তত ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র রবিবার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ৯টার দিকে এই শিবিরে আঘাত করে। আল- জাজিরার ফ্যাক্ট চেকিং এজেন্সি সানাদ নিশ্চিত করেছে, রাফা শহরের পশ্চিমে অবস্থিত ব্রিক্স ক্যাম্প ছিল এই হামলার লক্ষ্যবস্তু। ২৪ মে আকাশ থেকে ধারণ করা ছবিতে দেখা গেছে এই অঞ্চলে শত শত তাঁবু খাটিয়ে ফিলিস্তিনিরা আশ্রয় নিয়ে আছেন। এই এলাকার কাছেই জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনআরডব্লিউএ) গুদাম।

এর আগেই বেশ কয়েক মাস পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে রকেট হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাস রাফা অঞ্চল থেকে ৮টি রকেট নিক্ষেপ করেছে।

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) রাফায় গণহত্যামূলক হামলা বন্ধের নির্দেশ দিলেও ‘এই নির্দেশে সামরিক অভিযান বন্ধের স্পষ্ট নির্দেশ নেই’- এ অজুহাত দেখিয়ে স্থল ও বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী রাফায় অবস্থিত হামাসের কমপাউন্ডে হামলা চালিয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েল আরো দাবি করেছে, এই হামলায় পশ্চিম তীরে হামাসের চিফ অব স্টাফ ও অপর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এই দুই হামাস নেতা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার জন্য দায়ী ছিলেন বলে দাবি করেছে তেল আবিব। বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েল ‘অবগত’ আছে যে, এই হামলার ফলে রাফার ওই অঞ্চলে ‘বেশ কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তি ক্ষতির শিকার হয়েছেন’ এবং এ অভিযোগ তারা ‘যাচাই’ করছে।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে শরণার্থী শিবিরে বড় আকারে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ফিলিস্তিনি দমকল বাহিনী ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটি জানিয়েছে, রাফায় তাদের ফিল্ড হাসপাতালে আহত মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে এবং অন্যান্য হাসপাতালেও ভুক্তভোগীদের ভিড় বেড়েছে। রাফার কুয়েতি হাসপাতালে আসা এক ফিলিস্তিনি জানান, বিমানহামলায় তাদের তাঁবু পুড়ে গেছে। তাঁবুগুলো গলে গেছে, সঙ্গে ভেতরে থাকা মানুষের মরদেহও গলতে শুরু করেছে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি চালুর দাবি জানানোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছে, আমরা এই ভয়ংকর ঘটনায় আতঙ্কিত- যা আবারো প্রমাণ করেছে, গাজায় কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের একজন মুখপাত্র তাল আস-সুলতানের আশ্রয় শিবিরে এই হামলাকে ‘সীমা অতিক্রমকারী হত্যাযজ্ঞ’ বলে সমালোচনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক সম্প্র্রদায়ের নিন্দা : মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে উদ্বাস্তু মানুষের আশ্রয় কেন্দ্রে পরিকল্পিত বোমা বর্ষণের অভিযোগ করেছে। বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশ অনুসারে রাফায় সামরিক অভিযান বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেলও আইসিজের নির্দেশ মেনে চলতে ইসরায়েলকে আহ্বান জানিয়েছেন। কাতার সতর্ক করে বলেছে, এই হামলার কূটনৈতিক পরিণতি যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি সমঝোতার আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা সোমবারের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, আশ্রয় খুঁজতে থাকা পরিবারগুলোর ওপর আরো হামলা সম্পর্কে রাফা থেকে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তা ভয়ংকর। শিশু ও নারীসহ ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। গাজা এখন পৃথিবীর নরক। গত রাতের দৃশ্য এর পক্ষে আরেকটি প্রমাণ।

ইতালি বলেছে, গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ইসরায়েলি হামলা এখন আর ন্যায়সঙ্গত নয়। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এটিই দেশটির সবচেয়ে কঠোর সমালোচনা। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রসেত্তো বলেন, সেখানে ক্রমবর্ধমান কঠিন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাফায় নিরীহ ফিলিস্তিনি পুরুষ, নারী ও শিশুদের অধিকারের কথা বিবেচনা না করে তাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে হামাসের কোনো সম্পর্ক নেই এবং এমন হামলা আর ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না। আমরা হতাশার সঙ্গে পরিস্থিতি দেখছি।

গাজায় নিহতের সংখ্যা ৩৬ হাজার ছাড়াল : ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ৭ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা ৩৬ হাজার ছাড়িয়েছে। হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৬৬টি সংঘর্ষ হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়া, নুসেইরাত ও গাজা নগরীতে একাধিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ১৬০ জন নিহত হয়েছেন। গত ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৫০ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছে অন্তত ৮১ হাজার ২৬ জন ।

আইসিসিতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনল রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স : আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের হত্যা ও আহত করার দায়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ)।

আরএসএফ গতকাল সোমবার জানিয়েছে, ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত অন্তত ৯ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্ত করার জন্য তারা আইসিসির কৌঁসুলিকে আহ্বান জানিয়েছে।

জানুয়ারিতে আইসিসি জানায়, তারা গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সংঘাত শুরু পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ নিয়ে তদন্ত করছে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন।

আরএসএফের কাছে বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণ রয়েছে যে কিছু সাংবাদিককে স্বেচ্ছায় হত্যা করা হয়েছে এবং বাকিরা বেসামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইডিএফের (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) নির্বিচার হামলার ভুক্তভোগী। অভিযোগে আরএসএফ ২০ ডিসেম্বর থেকে ২০ মের মধ্যে নিহত ৮ ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের কথা উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি আহত হয়ে পরবর্তী নিহত হয়েছেন এমন একজনের কথাও বলেছে।

নিউইয়র্ক ভিত্তিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) জানিয়েছে, গাজার যুদ্ধে অন্তত ১০৭ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ১৯৯২ সালের পর এত কম সময়ে এত সাংবাদিক নিহতের ঘটনা নজিরবিহীন। এটি সাংবাদিকতার জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ সময়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App