×

খবর

ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’

সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চট্টগ্রামে সর্বাত্মক প্রস্তুতি

Icon

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘রেমালের’ প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে নগরীর সাগর তীরবর্তী এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে চলে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন। উপকূলবর্তী এলাকায় সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রস্তুত রয়েছে ২৯০টি মেডিকেল টিম।

গতকাল শনিবার দুপুর থেকে নগরীর উপকূলবর্তী এলাকা ও বিভিন্ন পাহাড়ে রেড ক্রিসেন্টের টিম নিয়ে মাইকিং শুরু করা হয়। এছাড়া সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরীর দামপাড়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যালয়ে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। যে কোনো প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ০১৮১৮৯০৬০৩৮ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

চসিকের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন জানিয়েছেন, জরুরি প্রয়োজনে বিতরণের জন্য শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর টাইাগারপাসে অস্থায়ী নগর ভবনে সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে সভা হবে। এদিকে গতকাল শনিবার রাত ৯টায় জরুরি সভায় বসে জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। এতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা যোগ দেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান ভোরের কাগজকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের উপকূলবর্তী সব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ২৯০টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ৭৮৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।’

গতকাল শনিবার রাত ৮টায় বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি রাত ৮টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪০৫ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

এদিকে, চট্টগ্রাম নগরীসহ এর আশপাশের এলাকায় গতকাল বিকালে কিছুটা বৃষ্টি হয়েছে। তবে ভ্যাপসা গরম এখনো অব্যাহত আছে। তবে সেই সামান্য বৃষ্টিই নগরবাসীকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে তীব্র গরম থেকে।

নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ ও পূর্বাভাস কর্মকর্তা মেঘনাথ তঞ্চঙ্গ্যা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামে গতকাল শনিবার তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি বেশি। আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় অস্থায়ী অথবা দমকা ঝড়ো হাওয়াসহ মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও আছে।

সাগর উত্থাল থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য উঠানামায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ লাইটারেজ জাহাজকে কর্ণফুলী নদীর উজানে ও বিভিন্ন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে দেখা গেছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারির কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তর তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দর তাদের নিজস্ব অ্যালার্ট-১ জারি করেছে সতর্কতার অংশ হিসেবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘বন্দরের কার্যক্রমে এখনো কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে জেটিতে ও বহির্নোঙ্গরে থাকা জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জেটিতে পণ্য উঠানামা ও ইয়ার্ড থেকে খালাসেও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষও পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা গেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App