×

খবর

দুদক চেয়ারম্যান

দুর্নীতি প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে নাগরিকদের

Icon

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেছেন, দুর্নীতিবাজদের বিভিন্ন সংগঠনে প্রধান করা হচ্ছে, অনুষ্ঠানে অতিথি করে প্রথম সারিতে বসানো হচ্ছে। নাগরিকরাই দুর্নীতিবাজকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কি শুধু দুদকের একার দায়িত্ব? নাগরিকদের কী কিছুই করার নেই। দুর্নীতি প্রতিরোধে নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে সামাজিকভাবে বর্জন করতে হবে। গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) আয়োজিত ‘দুর্নীতি দমনে নাগরিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতিকে কেউ সমর্থন করে না, এটা সত্য। তবে কেউ দায়িত্বটা পালন করে না। সবাই শুধু দুদকের সমালোচনা করতে পারে। তিনি বলেন, আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি অত্যন্ত দুর্নীতিপরায়ণ হয়। তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে আপনিও দুর্নীতিকে সহায়তা করছেন। এই বিবেকটা জাগ্রত করতে হবে। আপনার পাশের বাসায় যদি ইলিশ মাছ ভাজে আপনি সেটার ঘ্রাণ পান না? আপনার পাশের বাসার লোকটা যদি দুর্নীতি করে আপনি টের পান না? আপনার কী কিছুই করণীয় নাই? ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিয়মের বাইরে কাজ করলেই তো দুর্নীতি হয়। প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট দুর্নীতির জন্য দায়ী। ওখানে দুর্নীতি অনিয়ম সব হচ্ছে। প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট যদি তাদের কাজটা ঠিক মতো করে, আমাদের কাছে দুর্নীতির অভিযোগ কম আসবে। অর্থপাচার হওয়ার পর জাতি জানতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান বিএফআইইউ অর্থ পাচারের আগে জানতে পারে না কেন? তিনি বলেন, আপনি চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার ডলার পাঠাবেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া কি পারবেন? তাহলে টাকা পাচার হয় কীভাবে? মন্দ ঋণ যে হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকে ও অন্য ব্যাংকের নিরীক্ষা আছে না? তারা তো নিরীক্ষা করে। কোথায় আসে? যখন খেলাপি হয়ে যায় তখন জানা যায়। অর্থাৎ যে যার কাজ করছে না। সবাই ছেড়ে দিয়ে আবার দেখছে দুদক কী করে। দুদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কথা বলা খুব সহজ, কাজ করা কঠিন। আমরা কাজ করি, আমরা সমালোচনা শুনব। এই সমালোচনা শোনার মানসিকতা আমাদের আছে।

আয়োজক সংগঠনের প্রেসিডেন্ট মনজিল মোরসেদ বলেন, দুদক কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। দুদকে ডেপুটেশনে যাওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সংস্থাটি ব্যবস্থা নিতে পারে না। দুদক মামলা খুব কম করছে। চুনোপুঁটি ধরা হচ্ছে। ১০০ রাঘববোয়ালের মধ্যে মাত্র যদি ৫ জন ধরেন এটা কিন্তু বলতে পারবো না যে, এটা যথার্থ হয়েছে। তিনি সংগঠনের পক্ষ থেকে দুদকে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদের হিসাব ২ বছর পরপর জনগণকে অবহিত করার জন্য সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করাসহ ১৯টি সুপারিশ উপস্থাপন করেন। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামিম হায়দার পাটওয়ারী ও সাংবাদিক জ ই মামুনসহ অনেকে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App