×

খবর

ওয়ার্কার্স পার্টির আলোচনা সভায় বক্তারা

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নদী সমস্যার সমাধান জরুরি

Icon

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : গঙ্গা চুক্তি শেষ পর্যায়ে, তিস্তা চুক্তি অধরাই রয়ে গেছে, আন্তর্জাতিক নদীগুলো নিয়ে বাংলাদেশের দুঃখের শেষ হচ্ছে না। ইতোমধ্যে উত্তর বাংলার মেরুকরণ ঘটছে, আর দক্ষিণ বাংলায় উঠে আসছে লবণাক্ততা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নেই নদীর পানির সমস্যার সমাধান করতে হবে। গতকাল শনিবার বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির এক আলোচনা সভায় এ অভিমত ব্যক্ত করেন বক্তারা।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন : প্রেক্ষিত পদ্মা ও তিস্তা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা, তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী, নদী ও পরিবেশবিদ মাহবুব সিদ্দিকী, সাংবাদিক ও পানি বিশেষজ্ঞ শেখ রোকন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অন্তত ১৩৩টি অভিন্ন নদী রয়েছে। আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যেতে হবে। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও ঐকমত্য।

আন্তর্জাতিক নদীর পানির হিস্যা লাভের ন্যায্যতা নিয়ে মওলানা ভাসানীর ফারাক্কা মার্চের উল্লেখ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, সেদিন তার ওই উদ্যোগ ও পরবর্তীতে পশ্চিম বাংলার বামফ্রন্ট সরকার বিশেষ করে জ্যোতি বসুর ভূমিকায় গঙ্গার পানি চুক্তি সম্পাদন সম্ভব হলেও গঙ্গা চুক্তিতে যেভাবে পানির হিস্যা ভাবা হয়েছিল তা কখনো পাওয়া যায়নি বরং ফারাক্কাসহ গঙ্গার উজানে পানি প্রত্যাহার করার ফলে বাংলাদেশের জন্য গঙ্গার পানি প্রাপ্তি কার্যত অসম্ভব পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ পরিকল্পনা এ বিপদকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। গঙ্গা চুক্তি শেষ হওয়ার আগে ওই চুক্তির পর্যালোচনার ভিত্তিতে চুক্তি নবায়ন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিস্তা চুক্তি সম্পর্কে মেনন বলেন, বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তির জন্য আর অপেক্ষা করতে পারে না। তিস্তায় পানি না দিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় ভারতের অর্থায়নের সাম্প্রতিক প্রস্তাব কার্যত ‘গরু মেরে জুতা দানের’ শামিল। তিনি আরো বলেন, কারো জন্য অপেক্ষা নয়, তিস্তার মানুষকে বাঁচাতে, উত্তর বাংলাকে বাঁচাতে, নিজস্ব অর্থায়নে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। তিস্তা পাড়ের মানুষের অর্থ দিয়ে সেটা করা সম্ভব। এজন্য তিস্তা কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব করেন রাশেদ খান মেনন।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, গঙ্গা-তিস্তার পানি নিয়ে আর অপেক্ষা নয়। আশা করি সরকার এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। তা না হলে ওয়ার্কার্স পার্টি এ নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।

শেখ রোকন বলেন, তিস্তা চুক্তি এখন ভূ-রাজনীতির শিকার। সৃষ্টি হয়েছে নতুন নতুন জটিলতা। তিস্তা নিয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন ও ভারত সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশকে। ভারত সরকার অর্থায়ন করতে চায়, কিন্তু পানি দিতে পারে না কেন? ভারত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অন্তত ৩৫ বার তিস্তা চুক্তির প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর চুক্তি হয় না। তিস্তার মহাপরিকল্পনায় বহুপক্ষীয় অর্থায়ন হতে হবে, তাহলেই ভারসাম্য আসবে।

অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, তিস্তা চুক্তি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এ অপেক্ষার অবসান জরুরি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App