×

খবর

চট্টগ্রামে দম্পতি গ্রেপ্তার

এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা

Icon

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে চাকরি দেয়ার নাম করে অর্থ আত্মসাৎকারী প্রতারক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গ্রেপ্তারকৃতরা শুধু একটি পরিবার থেকেই ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। প্রতারণার পাশাপাশি তারা মাদক ব্যবসায়ও জড়িত বলে জানিয়েছে র‌্যাব। সীতাকুণ্ডের প্রেমতলা কলেজ রোড এলাকায় গত ২৩ মে একটি বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে এনএসআইয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়দানকারী মমতাজ বেগমকে (৩৪) গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বীকারোক্তিতে বাসার খাটের নিচে বিশেষ কৌশলে রাখা ৫টি বায়ুরোধক পলিপ্যাক থেকে ৯৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ডকুমেন্টও জব্দ করা হয়। পরে প্রতারকের সহযোগী তার স্বামী মো. মুজিবুর রহমানকে (৪৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, ২০২১ সালে ভাগনির বিয়েতে মঞ্জুর আলম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয় প্রতারক মমতাজ বেগম ও তার স্বামী মুজিবুর রহমানের। এসএসসি পাস করার পর থেকে চাকরির জন্য চেষ্টারত মঞ্জুরকে এনএসআই ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত বলে পরিচয় দেয় মমতাজ। প্রলোভন দেখায় এনএসআইয়ের ফিল্ড অফিসার পদে চাকরি দেয়ার। সেই ফাঁদে পা দেয় মঞ্জুর আলম। চাকরিপ্রত্যাশী মঞ্জুর বিষয়টি তার বোন জামাই, মামা ও বন্ধুকে জানায়। তারা সবাই চাকরির জন্য মমতাজ বেগমের বাড়িতে যায় এবং সবাইকে জনপ্রতি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে চাকরি দিতে পারবে বলে মমতাজের স্বামী মুজিবুর রহমান আশ্বস্ত করে। এজন্য প্রাথমিকভাবে নেয়া হয় ৩৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু চাকরি আর হয়নি। এনএসআইয়ের ফিল্ড অফিসার পদে চাকরি পাওয়ার আশায় ২০২১ সালের ২২ নভেম্বর মঞ্জুর আলম ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, তার মামা একরাম হোসেন ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও তার বন্ধু নয়ন ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং বোন জামাই ১২ লাখ টাকাসহ সর্বমোট ৩৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা মমতাজ বেগমকে দেয়। এই টাকার সিকিউরিটি হিসেবে স্ট্যাম্পে প্রতারকরা লিখিত অঙ্গীকারনামা প্রদান করে এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ৩৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার ৫টি চেক প্রদান করে। দীর্ঘ ২ বছর ৬ মাস পর এনএসআইয়ের সার্কুলার হলেও মমতাজ বেগম তাদের চাকরি দিতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তী সময় খোঁজ-খবর নিয়ে তারা জানতে পারেন, মমতাজ বেগম এনএসআইয়ের উপপরিচালক পদে কখনোই চাকরি করেননি এবং সরকারি কর্মকর্তার মিথ্যা পরিচয় দিয়ে চাকরি দেয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। পরবর্তী সময় টাকা ফেরত চাইলে মমতাজ বেগম ও তার স্বামী তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং হুমকি দেয়। এ ঘটনায় চাকরিপ্রত্যাশীরা র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম বরাবর লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে র‌্যাবের সঙ্গে মাঠে নামে এনএসআই।

র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) মো. শরীফ-উল-আলম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে আসামি মমতাজ বেগমকে (৩৪) আটক করা হয়। তার স্বীকারোক্তিমতে প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ডকুমেন্ট ও ৯৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে মমতাজ বেগমের দেয়া তথ্যমতে র‌্যাব ও এনএসআইয়ের আভিযানিক দল অপরাধের সহযোগী তার স্বামী মো. মুজিবুর রহমানকে (৪৬) মাহমুদাবাদ দীঘির পাড় এলাকার বসতঘর থেকে আটক করা হয়। মুজিবুর স্বীকার করেছে, সে তার স্ত্রী মমতাজ বেগমকে এনএসআইয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন লোকজনদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। এছাড়া মমতাজ দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ট্যাবলেট বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রি করে আসছে। প্রতারক স্বামী-স্ত্রীকে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App