×

খবর

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ

পঞ্চম বার তারিখ ঘোষণা সম্মেলন নিয়ে সংশয়

Icon

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : অক্টোবর মাসে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। গতকাল রবিবার চট্টগ্রামে সেনাকল্যাণ কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন তিনি। তবে মহানগরীর সম্মেলনের আগেই এর আওতাধীন যেসব ইউনিট, ওয়ার্ড, থানা কমিটির সম্মেলন ও কমিটি গঠন করা হয়নি, জুলাই মাসের মধ্যেই সেগুলোর সম্মেলন ও কমিটি গঠন অবশ্যই করে ফেলার নির্দেশ দেন হানিফ। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন করার জন্য এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো ঘোষণা দেয়া হলো। কিন্তু এ ঘোষণা কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়েও সন্দিহান নেতাকর্মীরা। কারণ এর আগে চার দফায় নগর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও সেই সম্মেলন আলোর মুখ দেখেনি।

গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত এ সভায় মাহবুবুল আলম হনিফ বলেন, আগস্ট মাস যেহেতু শোকের মাস, তাই সে মাসে আওয়ামী লীগের কোনো স্তরের সম্মেলন ও কমিটি গঠনের অবকাশ নেই। সেপ্টেম্বর মাসকে মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পর্ব হিসেবে ধরে নিয়ে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী অক্টোবর মাসে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে আড়ম্ভরপূর্ণভাবে মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

তবে মহানগর কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোটাভুটির চেয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে করার ওপর জোর দিয়েছেন দলের এই কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি বলেন, নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকে প্রাধান্য দিতে হবে, তাই ব্যক্তির পছন্দ ও অপছন্দের বিষয়টি কখনো মুখ্য হতে পারে না। নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্ব›িদ্বতা থাকতেই পারে। এই প্রতিদ্ব›িদ্বতা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার মধ্যেই হওয়া উচিত। সবচেয়ে বড় কথা, সংগঠনের বিভিন্ন ধাপ ও স্তরগুলোতে নেতৃত্ব যদি সমঝোতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে দলীয় ঐক্য, শৃঙ্খলা ও শক্তির পরিমাপ ও ঘনত্ব ভারি হয়। নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটাভুটির বিষয়টি থাকলে কেনাবেচা হওয়ার সুযোগ থাকে এবং পারস্পরিক বিভক্তি সৃষ্টিরও আশঙ্কা দেখা দেয়। মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২০০৫ সালে সর্বশেষ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছিল। এতে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও কাজী ইনামুল হক দানু। দানু মারা যাওয়ার পর ২০১৩ সালে কেন্দ্র থেকে একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই সময় মহিউদ্দিনকে সভাপতি ও আ জ ম নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর মহিউদ্দিনের মৃত্যুর পর প্রথম সহসভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী পান ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব। গত বছর তাকে পূর্ণাঙ্গ সভাপতি করা হয়েছে।

২০২১ সালের শেষ দিকে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের তৃণমূলের সম্মেলন শুরু হয়। কিন্তু এ সম্মেলন নিয়ে নেতারা দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এর ফলে নগরীতে আওয়ামী লীগের ১৩২টি ইউনিট, ৪৪ ওয়ার্ড ও ১৫টি সাংগঠনিক থানার মধ্যে শুধু কিছু ইউনিট ও ওয়ার্ড ছাড়া আর কোথাও সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। তবে ওয়ার্ড-ইউনিটের সম্মেলনগুলো নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এ অবস্থায় দফায় দফায় তারিখ ঘোষণা করা হলেও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের হয়নি। কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে ২০২২ সালে ১ অক্টোবর, ৪ ডিসেম্বর ও ১৮ ডিসেম্বর এবং সর্বশেষ গত বছরের ৩১ জুলাই চার দফায় নগর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও সেই সম্মেলন আলোর মুখ দেখেনি।

গতকাল রবিবারের সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, আওয়ামী লীগ টানা চারবার ক্ষমতায় আছে- এ নিয়ে আত্মতুষ্টির কোনো কারণ নেই। ২০০৮ সালের পরে যেসব জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে সেসব নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তেমন কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক দল না থাকলেও দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তি খুব একটা শক্তিশালী হয়নি। বরং নিজেদের মধ্যে কলহ, বিবাদ ও বিভক্তি বেড়েছে। আরো বেড়েছে দলের মধ্যে হাইব্রিডের প্রবল ¯্রােত।

প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন, নিজস্ব গ্রুপ ও প্রভাব বলয় বৃদ্ধির জন্য বাইরে থেকে ভিন্নমতের মানুষ দলে ঢোকানোর কোনো প্রয়োজন নেই।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির বলেন, কমিটির আওতাধীন ২৭টি ইউনিট ও ২৯টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়নি এবং ১৫টি থানার মধ্যে একটি থানা আওয়ামী লীগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা আওয়ামী লীগের যেসব কমিটির সম্মেলন হয়নি, সেগুলো মূলত পরিস্থিতিগত কারণে নয়, স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনীহা ও আন্তরিকতার অভাবের কারণে। তবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা সম্মেলন সমাপ্ত করে মহানগর কমিটির সম্মেলনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগসহ তার অধীনস্থ সব ধাপ ও স্তরের সাংগঠনিক কমিটিগুলোর সম্মেলন ও কমিটি গঠনের যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তাতে প্রত্যেক নেতাকর্মীর মনোবল চাঙা হয়েছে। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, সুনীল কুমার সরকার, মো. ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, খোরশেদ আলম সুজন, এম. জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এ কে এম বেলায়েত হোসেন, শফর আলী, শেখ মাহমুদ ইছহাক, কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম এমপি, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, শফিকুল ইসলাম ফারুক, শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, আহমেদুর রহমান সিদ্দিকী, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী প্রমুখ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App