×

খবর

বান্দরবানের লামা

বন বিভাগের সেগুন গাছ উজাড় হওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত ৩

Icon

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি : সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান সেগুন গাছ বিক্রি ও দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে পাবর্ত্য বান্দরবানের লামা বন বিভাগের তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তা জুলফিকার আলীসহ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত অন্য দুজন হলেন বিট কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক ও বাগান মালি অলক কুমার সেন। লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আরিফুল হক বেলাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বন কর্মকর্তা বলেন, তৈন রেঞ্জের আওতাধীন সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কাটা ও পাচারের অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে গাছ কাটার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা জুলফিকার আলীসহ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বন বিভাগের সেগুনসহ মূল্যবান ১৮৭টি গাছ কাটার তথ্য তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে একই ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে প্রধান বন সংরক্ষকের দপ্তর। তিনজন বিভাগীয় বন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত প্রায় ১৫ জনের কমিটি গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এতে নেতৃত্ব দেন বন বিভাগের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপবন সংরক্ষক মোহাম্মদ হোছাইন। এদিন তৈন রেঞ্জের কাঁকড়াঝিরি আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন তারা। এই কমিটিকেও এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত এপ্রিল মাসে কাঁকড়াঝিরি এলাকার দুই ও তিন যুগের বেশি বয়সি সেগুনসহ অন্যান্য মূল্যবান গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠে রেঞ্জ কর্মকর্তা জুলফিকার আলীর বিরুদ্ধে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ এপ্রিল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আরিফুল হক বেলাল। ঘটনার সত্যতা পেয়ে ওই দিনই বাগানের মালিকে ক্লোজড করা হয়। একই সঙ্গে লামা বন বিভাগের সিনিয়র বন কর্মকর্তা হাবিব উল্লাহকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, গত মার্চের মাঝামাঝিতে কাঁকড়াঝিরি এলাকায় বনাঞ্চলের গাছ কাটা শুরু করে গাছ ব্যবসায়ীরা। কাঠগুলো পরিবহনে ট্রাক চলাচলের জন্য এস্কেভেটর দিয়ে সংরক্ষিত বন ও পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করা হয়। সেসময় খবরটি তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তা জুলফিকার আলীসহ বন বিভাগের স্থানীয় বিট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জানান স্থানীয়রা। কিন্তু তারা সে বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে রহস্যজনক নীরবতা পালন করেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বন ও পাহাড় কেটে তৈরি করা চোরাই রাস্তা দিয়ে কাটা গাছের কাঠগুলো লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বনপুর ও কাঠালছড়া হয়ে চকরিয়ার মালুমঘাটের দিকে নিয়ে গেছে কাঠ ব্যবসায়ীরা। যদিও তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তা খান জুলফিকার আলীর দাবি, গাছ কাটা ও পাচারের বিষয়ে বিট কর্মকর্তা কিংবা বাগান মালি তাকে কিছুই জানাননি তাকে। তাছাড়া সাময়িক বরখাস্তসংক্রান্ত কোনো নোটিস গত শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত পাননি বলেও জানান রেঞ্জ কর্মকর্তা জুলফিকার।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App