×

খবর

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের টর্চার সেল থেকে কিশোর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৮

Icon

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের টর্চার সেল থেকে অপহৃত এক কিশোরকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় মুক্তিপণ দাবি করা গ্যাং লিডারসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, নগরীর নাসিরাবাদে এক কিশোরকে জিম্মি করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ে তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। পরে পুলিশ খবর পেয়ে কিশোর গ্যাংয়ের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। সেই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের টর্চার সেল থেকে উদ্ধার করা হয় নির্যাতনের শিকার আরিফ হোসেনকে। এ সময় কিশোর গ্যাং সদস্যদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্র, মোবাইল ফোন। তারা স্থানীয় ছাত্রলীগের নামে প্রতিনিয়ত সন্ত্রাস চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

পকেটে একাধিক মোবাইল ফোন আছে বুঝতে পেরে আরিফ হোসেনকে (১৫) জিম্মি করে মারধর শুরু করে উঠতি বয়সের কয়েক তরুণ, যারা এলাকায় ‘কিশোর গ্যাং’ হিসেবে পরিচিত। প্রথমে তাকে চোর সাজিয়ে মারধর করে চারটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয় তারা। এরপর তাকে তুলে নিয়ে ‘টর্চার সেলে’ প্রায় ১০ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের পাশাপাশি এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

ওই কিশোরের ভাই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে পুলিশের দ্বারস্থ হয়। পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে কিশোরকে উদ্ধারের পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত আটজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- হেলাল বাদশা চৌধুরী (২৫), রাকিব হোসেন (২২), মো. কাউসার (২২), মেহেরাজ সামি (২১), শেখ সাদি হাসান (২০), সাগর হোসেন (২৭), আবদুর রহমান (২১) এবং সাইফুল ইসলাম শান্ত (২৬)। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ জানান, নগরীর জিইসি মোড়সহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বাদশা একটি ‘কিশোর গ্যাং’ পরিচালনা করেন। গ্রেপ্তারকৃত হওয়া ৮ তরুণ ওই চক্রের সদস্য। এদের মধ্যে রাকিব হোসেন নিজেকে ওমরগণি এমইএস কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বলে পরিচয় দিয়েছেন।

জানা গেছে, রাকিব ছাড়া বাকিদের কেউই পড়ালেখা করেন না। তবে এমইএস কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন। মূলত: এ পরিচয়েই তারা জিইসি মোড়সহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে বেড়ান।

ঘটনার শিকার হওয়া কিশোর আরিফ হোসেন জানান, জিইসি মোড়ে নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে শুক্রবার বিকালে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট টুর্নামেন্টে তার বড় ভাই রাকিব হোসেন অংশ নেন। ভাইয়ের খেলা দেখতে তিনি দুপুরে ওই মাঠে যান। এ সময় রাকিব তার নিজের এবং আরও দুই খেলোয়াড়ের দুটি মোবাইল আরিফকে রাখতে দেন। চারটি মোবাইল পকেটে নিয়ে তিনি কিছুক্ষণ খেলা দেখেন। পরে শরবত খাওয়ার জন্য মাঠ থেকে বেরিয়ে রাস্তায় আসেন।

আরিফ বলেন, ‘আমি শরবত খেতে রাস্তায় বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাদশা ও তার সঙ্গে থাকা আরো ৩/৪ জন আমার সামনে আসে। কিছু ?বুঝে ওঠার আগেই তারা প্রথমে আমাকে থাপ্পড় মারে। এর পর আমাকে টেনেহিঁচড়ে পাশে বাটা গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে আরো ৩/৪ জন তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তারা আমাকে ঘুষি মারতে মারতে একপর্যায়ে আমার পকেট থেকে মোবাইলগুলো নিয়ে নেয়। তখন বুঝতে পারি, চারটা মোবাইল নেওয়ার কারণে আমার পকেট ফোলা ছিল।

সেটা দেখে সেগুলো ছিনতাইয়ের জন্য তারা আমাকে ফলো করছিল।’

নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ওই কিশোর আরো বলেন, ‘একেকজন আসছিল আর আমাকে মারধর করছিল। কেউ এসে থাপ্পড় মারছে, কেউ এসে লাঠি দিয়ে মেরেছে, কেউ হাতুড়ি দিয়ে হাঁটুতে আঘাত করছে, কেউ লোহার পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করেছে। চাপাতি দিয়ে আমাকে কয়েকবার পেটে আঘাতের চেষ্টা করেছে। মাথায় অস্ত্র ধরে রেখেও আমাকে ভয় দেখিয়েছে। তখন বাদশা আমার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।’

ওসি শেখ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ বলেন, ‘আরিফের ভাই রাকিব তাকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার খবর জানতে পেরে ট্রিপল নাইনে ফোন দেয়। এর ভিত্তিতে আমরা অভিযান শুরু করি। বাটা গলি এবং আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্ত করি। প্রথমে আরিফকে যে বাইকে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেটা বাকলিয়া এলাকা থেকে জব্দ করি এবং আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করি। এরপর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আকবর শাহ্ থানার ইস্পাহানি রেলগেট এলাকায় পাহাড়িকা পেট্রোল পাম্পের পেছনে অভিযান চালাই। সেখান থেকে আরিফকে উদ্ধার করি এবং বাদশাসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করি। সেই জায়গাটি বাদশা ও তার সহযোগীরা মূলত টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি।

ওসি জানান, অভিযানে আরিফের ছিনিয়ে নেওয়া চারটি মোবাইল সেট, ঘটনায় ব্যবহৃত কিরিচ, লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া, হেলাল বাদশা চৌধুরীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী বাটা গলিতে অভিযান চালিয়ে একটি এলজি ও দুটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আরিফের ভাই রাকিব হোসেন বাদী হয়ে একটি এবং পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেছে ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App