×

খবর

পাহাড়ে অস্ত্র রেখে সমতলে আসেন রহিম

অন্য জঙ্গি সংগঠনেও অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল

Icon

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার মাস্টারমাইন্ড ও সংগঠনের প্রধান শামিন মাহফুজ যখন পাহাড়ে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরু করেন, তখন থেকেই আব্দুর রহিম অস্ত্র সংগ্রহের কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে এই রহিম সংগঠনটির প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী হয়ে ওঠেন। শুধু অস্ত্র সরবরাহ নয়, জঙ্গি সংগঠনের সদস্য রিক্রুটের কাজ শুরু করেন। কিন্তু পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান শুরু হলে তিনি অস্ত্রগুলো মাটির নিচে চাপা দিয়ে সমতলে ফিরে আসেন। অস্ত্রের পাশাপাশি ই¤েপ্রাভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) তৈরির কেমিকেলও সরবরাহের কথা ছিল রহিমের। শুধু জামায়াতুল শারক্বীয়ায় নয়, অন্য জঙ্গি সংগঠনেও অস্ত্র সরবরাহ করতেন তিনি। বর্তমানেও অন্য একটি জঙ্গি সংগঠনে অস্ত্র সরবারহ করতে চেয়েছিলেন আবদুর রহিম। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত বুধবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এসব তথ্য জানিয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার আব্দুর রহিম ২০১৯ সালের দিকে ‘রহিম ডাকাত’ গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়ে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেন। জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়াকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে আসছিলেন তিনি। পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হলে এসব অস্ত্র মাটির নিচে লুকিয়ে সমতলে চলে যান। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুর রহিম জানান, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির গহীন বনে ড্রামের ভেতরে মাটির নিচে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির ছাগল খাইয়্যা এলাকার পাহাড়ের ঢালে ঘন জঙ্গলের মধ্যে মাটির নিচ থেকে অস্ত্র-গুলি ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি ৭.৬৫ বিদেশি পিস্তল, দেশীয় তৈরি চারটি বন্দুক, দেশীয় তৈরি বারুদ লোডেড গান তিনটি, একটি ওয়ান শুটার গান, ধারালো অস্ত্র একটি, গুলি ১৬টি, কার্তুজ ১১টি, শটগানের খোসা ২৪টি, বাইনোকুলার দুটি, গ্যাস মাস্ক একটি, চার্জার লাইট একটি, রিচার্জেবল ব্যাটারি একটি, ওয়াকিটকি ও চার্জার দুটি, এসিড সদৃশ তরল পদার্থ ছয় লিটার, ইলেকট্রিক তার ৬০ ফুট, মোবাইল সিগন্যাল বুস্টার একটি, তারসহ এন্টেনা একটি, হাতুড়ি, করাত, ইলেকট্রিক হোল্ডার ও প্লাস্টিকের ড্রাম। সিটিটিসি প্রধান বলেন, ২০২৩ সালের ২৩ জুন শারক্বীয়ার মাস্টারমাইন্ড ও সংগঠনের প্রধান শামিন মাহফুজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের পর শারক্বীয়ার প্রশিক্ষণ, অস্ত্রগুলোর উৎস, অর্থায়ন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শামিন মাহফুজকে গ্রেপ্তারের আগে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. ইয়াছিন এবং বান্দরবান থেকে অস্ত্র সরবরাহকারী মো. কবির আহাম্মদকে ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয়। আব্দুর রহিমের সঙ্গে এই কবির আহাম্মদের যোগাযোগ ছিল। কবিরই সংগঠনের জন্য কাজ করতে রহিমকে প্রস্তাব দেন। রহিম তার প্রস্তাবে রাজি হন এবং অস্ত্র সরবরাহের পাশাপাশি সংগঠনের জন্য সদস্য সংগ্রহ শুরু করেন। পাহাড়ে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশ নেওয়া কতজন পলাতক রয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান বলেন, প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া সবার তালিকা পেয়েছি। প্রায় সবাই গ্রেপ্তার হয়েছেন। শুধু তাই নয়, যারা প্রশিক্ষণের দাওয়াত পেয়েছেন তাদেরও নাম পেয়েছি। তাদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাহাড়ে বড় আতঙ্কের নাম আইইডি, গ্রেপ্তার আব্দুর রহিম আইইডির সরঞ্জাম সরবরাহ করেছেন কি না- এই প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান বলেন, এ বিষয়ে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তার কাছে যেহেতু কেমিক্যাল পাওয়া গেছে এবং প্রশিক্ষণ ক্যাম্পেও আইইডি প্রশিক্ষণ দেয়ার বিষয়েও তথ্য পেয়েছি। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক। দেশের বাইরে অন্য কোনো সংগঠনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে কি না- জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান বলেন, দেশে বা দেশের বাইয়ে তার কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বর্তমানে ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র নেতৃত্ব কে দিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মনে করি সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়ার মতো কেউ নেই। এই সংগঠনের সব শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App