×

খবর

ব্যবসায়ীদের গভর্নর

ব্যাংকঋণের সুদহার ১৪ শতাংশের বেশি হবে না

Icon

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ব্যাংকঋণের সুদ ১৪ শতাংশের বেশি হবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) নেতারা এক বৈঠকে সুদহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে তিনি এ আশ্বাস দেন। এ সময় ডলারের দাম নির্ধারিত ১১৭ টাকায় রাখার দাবি জানান দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিষ্ঠান মালিকরা। জবাবে গভর্নর বলেন, ডলারের দাম ১১৭ টাকার সর্বোচ্চ ১ টাকা কম বা বেশি করতে পারবে তফসিলি ব্যাংক। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতি, ব্যাংক খাত, সুদহার ও ডলার রেট নিয়ে কথা হয়েছে বৈঠকে। সেখানে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ডলার রেট ১১৭ টাকায় রাখার দাবি জানানো হয়। গভর্নর বলেছেন, ডলারের দাম ১১৭ টাকার সর্বোচ্চ ১ টাকা কম বা বেশি করতে পারবে ব্যাংক। এছাড়া ব্যাংকের সুদের হার ১৪ শতাংশের বেশি যেন না হয় সে বিষয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী নেতা। তিনি বলেন, সুদের হার সর্বোচ্চ ১ শতাংশ কম-বেশি হতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যাংকের ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জ বাতিল বা কম করার কথা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা কমাতে নীতি সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে এবং স্থিতিশীল রাখারও দাবি জানানো হয়েছে। গভর্নর বলেছেন, এখন থেকে স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদে নীতি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। প্রসঙ্গত, গত ৮ মে ব্যাংকঋণের সুদহার নির্ধারণ পদ্ধতি সিক্স মান্থ মুভিং অ্যাভারেজ রেট (স্মার্ট) প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণের সুদহার নির্ধারিত হবে। ঋণের সুদহার সম্পূর্ণরূপে বাজারভিত্তিক করার জন্য ছয় মাসের ট্রেজারি বিলের গড় সুদভিত্তিক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু এখন এই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পিছু হটছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ধারণা করা হচ্ছে, আইএমএফের শর্তের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এদিকে গত বুধবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, যেসব গ্রাহকের নির্ধারিত একক গ্রাহক ঋণসীমা অতিক্রম করেছিল, তাদের ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণ নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। এরপরও কিছু গ্রাহক একক গ্রাহক ঋণের ঊর্ধ্বসীমা শিথিল করার জন্য আবেদন করছেন, যা নির্দেশনার পরিপন্থি। এমন প্রেক্ষাপটে বৃহৎ ঋণ ঝুঁকি হ্রাস, করপোরেট সুশাসন সমুন্নত রাখা এবং ঋণ বিতরণে উত্তম চর্চা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য একক গ্রাহক ঋণসীমা কোনোক্রমেই অতিক্রম না করার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া যাচ্ছে। কিন্তু গতকাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে সেই নির্দেশনা যথাযথ বাস্তবায়ন করবেন না বলে জানিয়েছেন গভর্নর।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App