×

খবর

২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন

Icon

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির তুলনায় তা মাত্র ২ হাজার কোটি ও সংশোধিত এডিপির তুলনায় ২০ হাজার কোটি টাকা বেশি। নতুন এডিপির ৯০ শতাংশের বেশি ব্যয় হবে ১০ খাতের উন্নয়নে। এতে খরচ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৩ কোটি টাকা। বরাবরের মতোই এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য এই বরাদ্দ অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারম্যান শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. শহীদুজ্জামান সরকার। এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব সত্যজিত কর্মকার উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জন্য ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে এনইসি। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি ও বৈদেশিক ঋণ থেকে ১ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল এডিপির বাইরেও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৩ হাজার ২৮৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা, যা এসব প্রতিষ্ঠান নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করবে। সব মিলিয়ে নতুন এডিপির আকার দাঁড়াবে ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে এবার এডিপির আকার বাড়ছে ২ হাজার কোটি টাকা। তবে চলতি অর্থবছরে আকার কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকায়। সেই হিসাবে নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার বাড়ছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত এডিপিতে ১ হাজার ৩৩৭টি প্রকল্প রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন সংস্থা নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প রয়েছে ৭৯টি। এবারই প্রথম বৈদেশিক ঋণের রেকর্ড লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৬ হাজার কোটি টাকা বেশি। গত অর্থবছরের মূল এডিপিতে ছিল ৯৪ হাজার কোটি টাকা। পরে সংশোধন করে বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৮৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এডিপিতে ১ অর্থবছরের ব্যবধানে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বাড়ছে ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ বিদেশি অর্থায়ন দেশের অর্থনীতিকে চাপে ফেলবে কি না জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী আবদুস সালাম বলেন, আমরা যে বৈদেশিক ঋণ নিচ্ছি সেগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করেই নেয়া হয়। আগের মতো সুতা লাগানো ঋণ নেয়া হয় না। কারণ ঋণ দিয়ে এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে- এসব থাকলে আমরা সেই ঋণ নিই না। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, প্রকল্প বাছাইয়ে যথাযথ মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। পরিকল্পনা সচিব সত্যজিত কর্মকার বলেন, এবার উচ্চাভিলাষী এডিপি তৈরি করা হয়নি। গত বছরের তুলনায় এবার ২ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়াতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দসহ মোট প্রকল্প থাকছে ১ হাজার ৩২১টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ১৩৩টি, কারিগরি সহায়তার ৮৭টি ও সমীক্ষা প্রকল্প রয়েছে ২১টি। মোট প্রকল্পের মধ্যে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপি থেকে স্থানান্তর হবে ১ হাজার ২৭৭টি প্রকল্প। বাকিগুলোর মধ্যে নতুন অনুমোদিত প্রকল্প রয়েছে ৬০টি। এছাড়া আগামী অর্থবছরের এডিপিতে নতুন কিন্তু অনুমোদনহীন প্রকল্প যুক্ত হচ্ছে ১ হাজার ৮৯৪টি, বৈদেশিক অর্থায়নের সুবিধা অনুমোদনহীন নতুন ২৫৭টি প্রকল্প এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) প্রকল্প থাকবে ৮০টি। নতুন এডিপিতে বরাদ্দের দিক থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতকে। মোট এডিপির প্রায় ২৭ শতাংশ বা ৭১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এ খাতে। রাজধানীর নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প, পদ্মা রেলসেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ চলমান বেশ কিছু প্রকল্প রয়েছে খাতটিতে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতে। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা বা মোট বরাদ্দের ১৫ শতাংশের বেশি। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে শিক্ষা খাতে। এ খাতে আগামী অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৩১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট এডিপির প্রায় ১২ শতাংশ। এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে ১০টি বড় প্রকল্প। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫১ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। এগুলো হলো চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। এছাড়া ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল লাইন-১, পাওয়ার গ্রিডের নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ, বিমানবন্দর থার্ড টার্মিনাল ও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App