×

খবর

ফিটনেসবিহীন বাস ও ব্যাটারির রিকশা বন্ধের নির্দেশ সেতুমন্ত্রীর

Icon

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : আগামী ৩০ জুনের মধ্যে ফিটনেসবিহীন সব বাস চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রাজধানীতে যেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলতে না পারে এ বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এসব নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত কোনো গাড়ি (তিন চাকার) যেন ঢাকা সিটিতে না চলে। আমরা ২২টি মহাসড়কে নিষিদ্ধ করেছি। শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, চালাতে যেন না পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। রাজধানীতে ফিটনেসহীন গাড়ির বিষয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে যে ধরনের লক্কড়ঝক্কড় ও রংচটা গাড়ি চলে তা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে দেখা যায় না। মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শহরে আধুনিক গণপরিবহন চলাচল করে। কিন্তু ঢাকায় লক্কড়ঝক্কড় ও রংচটা গাড়ি চলে। এগুলো দেখতেও তো খারাপ লাগে। এর চেয়ে ঢাকার বাইরে মফস্বল এলাকাগুলোতে উন্নতমানের গণপরিবহন চলে। এই ‘লক্কড়ঝক্কড়’ বাসগুলোর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না- বিআরটিএ কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করেন মন্ত্রী। বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা আনতে বিআরটিএ অনেক কর্মসূচি ও আইন করে। কিন্তু রেজাল্ট কী? সড়কের দুর্ঘটনা ও যানজট তো কমছে না। পাশাপাশি উন্নয়নের পরও সড়ক, মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা কেন তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, সড়কে পরিবহনে যদি শৃঙ্খলা না আসে তাহলে নিরাপদ সড়কের স্বপ্ন দেখে কী লাভ। এদিকে দেশের বাইকচালকদের আবারো সতর্ক করে দিয়ে হেলমেট না থাকলে জ¦ালানি সরবরাহ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, নো হেলমেট, নো ফুয়েল। দেশের সব জায়গায় এমনকি মফস্বলেও এই নীতি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী মনে করছেন, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলের কারণেই দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে। সড়ক পরিবহন আইনে হেলমেট ছাড়া বাইক চালালে ১০ হাজার টাকা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। কিন্তু আইনের বাস্তবায়ন দেখা যায় না বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই। মন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে ও পরে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এগুলো মন্ত্রী নয়, মানুষ হিসেবে আমাদের কষ্ট দেয়। আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রধান কারণ মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা। এক অটোরিকশায় ৭ থেকে ৮ জন থাকে। একটা দুর্ঘটনা হলে অটোরিকশার সবাই মারা যায়। ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্ঘটনা বিশ্বের কোথাও শূন্যের কোঠায় নেই। তবে বাংলাদেশে এটি কমে আসবে। আর সড়কে শৃঙ্খলা না থাকলে, এত মেগা প্রকল্প এবং ছয় থেকে আট লেনের সড়কেরও কোনো সুফল আসবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, সমতল থেকে পাহাড়ে আজকে সুন্দর সুন্দর রাস্তা, এত রাস্তা হওয়ার পরও শৃঙ্খলা আসে না। এত কিছু করে কী লাভ, কোনো ফলাফল আসছে না। এত রাস্তা, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, টানেল করা হচ্ছে কিন্তু যানজট বা দুর্ঘটনা কমছে না। সবাই তো আমাকে বলে। এদিকে সভায় বিভিন্ন অংশীজনের তোপের মুখে পড়েন সড়ক সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী। বিশেষ করে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জট, দুর্ঘটনা বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খানের প্রশ্নের মুখে পড়েন সড়ক সচিব। অনুষ্ঠানে উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকার রাস্তা অধিকাংশই সংস্কার করে দুই সিটি, আর রোডট্যাক্স আদায় করে সড়ক বিভাগ। মেয়র সেই টাকার ভাগ চাইলেন। উত্তরের মেয়র মুক্তি চাইলেন ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকেও। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার প্রমুখ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App