×

খবর

সড়ক দুর্ঘটনায় মাতৃহারা

সেই শিশুকে মামার জিম্মায় দেয়ার নির্দেশ

Icon

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : ময়মনসিংহের ভালুকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা ও দেড় বছরের শিশু আহত হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারে ব্যবস্থা নিতে র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং ময়মনসিংহ পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে নিহত নারীর শিশুসন্তান জায়েদকে আপাতত তার মামার জিম্মায় দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরটি নজরে আনার পর বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি ফাহমিদা কাদের চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে পত্রিকায় প্রকাশিত খবরটি নজরে আনা আইনজীবী মনজিল মোরশেদ সাংবাদিকদের বলেন, আদালত মর্মান্তিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কিছু আদেশ দিয়েছেন। ভালুকায় দায়ের করা মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত করে দায়ী গাড়ি শনাক্ত এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার করতে ময়মনসিংহের পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্যসহ অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ২০ মে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ডিআইজিকে বিষয়টি তদারক করতে বলা হয়েছে। র‌্যাবের ডিজি আসামি গ্রেপ্তারের জন্য ব্যবস্থা নেবেন। ভিন্ন কোনো দাবি না থাকায় শিশুটির তত্ত্বাবধান ও হেফাজতের জন্য তার মামার কাছে অস্থায়ীভাবে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শিশুটির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া শিশুটির অভিভাবকত্ব নিয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন দাখিল ও নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাত ৩টার দিকে ময়মনসিংহের ভালুকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মায়ের মৃত্যু হলেও কোল থেকে ছিটকে পড়ে অলৌকিক বেঁচে যায় দেড় বছরের শিশুপুত্র জায়েদ। মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে শিশুটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শিশুটির ছবি দেয়া হলে দুদিন পর শিশুটির মামা রবিন মিয়া ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে মর্গে থাকা বোন জায়েদা খাতুনের মরদেহ এবং চিকিৎসাধীন ভাগ্নে জায়েদকে শনাক্ত করেন। নিহত জায়েদা খাতুন সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার খুশিউড়া গ্রামের মো. রমিজ উদ্দিনের মেয়ে। এদিকে গত রবিবার সকালে হাসপাতালের পরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিশুটিকে দেখতে ওয়ার্ডে যান। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক গোলাম ফেরদৌস সাংবাদিকদের জানান, শিশুটি এখন শঙ্কামুক্ত। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকবে। প্রকৃত অভিভাবক পেলে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ভালুকা হাইওয়ে থানার ওসি মো. আতাউর রহমান জানান, গত শুক্রবার রাত ৩টার দিকে ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় মা ও শিশুপুত্রকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কীভাবে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে তা আমরা জানি না। স্থানীয় লোকজন খবর দিলে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ওই নারী মারা যান। শিশুপুত্রটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশুটির মামা রবিন মিয়া জানান, তার বোনের প্রথমে ময়মনসিংহের তারাকান্দায় বিয়ে হলেও স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় সেই সংসার ভেঙে যায়। এরপর জায়েদা খাতুনের বিয়ে হয় নরসিংদীর পলাশ থানার গজারিয়া ইউনিয়নের কফিল উদ্দিনের ছেলে মো. ফারুক মিয়ার সঙ্গে। স্বামী ফারুক মিয়া এর আগেও একটি বিয়ে করেন। সেই ঘরে এক স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর হাসপাতালসহ কোথাও স্বামীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App