×

খবর

যুবদলের সমাবেশে মির্জা ফখরুল

দেশ পরিচালনা করছে ‘অদৃশ্য শক্তি’

Icon

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগ নয়, ‘অদৃশ্য শক্তি’ দেশ পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ দাবি করে তারা দেশ চালাচ্ছে? আসলে কি তারা দেশ চালাচ্ছে? তারা দেশ চালায় না, এক অদৃশ্য শক্তি দেশ চালাচ্ছে এবং যাদের নির্দেশে তারা আজকে বাংলাদেশে মানুষের অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে। গতকাল শনিবার বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলন। জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, যুব দলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ রাজবন্দিদের মুক্তি, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এই বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। ফকিরাপুল থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত হাজারো নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে এই সমাবেশে অংশ নেয়। খালেদা জিয়ার ওপর সরকারের প্রতিহিংসামূলক নিপীড়ন-নির্যাতন চলছে দাবি করে অবিলম্বে তার মুক্তির কথাও সমস্বরে উচ্চারণ করেন বিএনপি মহাসচিব। সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালনের পর এই প্রথম বিএনপি মহাসচিব কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশ নিলেন। ফখরুল বলেন, ওরা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে গিলে খেয়ে ফেলেছে। প্রতিবার নির্বাচনে তারা একেকটা নতুন নতুন কৌশল নেয়। এবার করেছে ডামি নির্বাচন। ডামি নির্বাচন কী? আওয়ামী লীগ নির্বাচন করবে, সেই সঙ্গে অপজিশন ক্যান্ডিডেট বানাবে। সেটাও ডামি প্রতিনিধি থাকবে, ডামি ক্যান্ডিডেট। সেই সঙ্গে ওই গৃহপালিত দল, তাদের তারা সিলেক্ট করে দেবে যে- আপনার দল থেকে ১০ জনকে আমরা পার্লামেন্টে দেব। যদি না দেয়া হয় তখন তারা কান্নাকাটি জুড়ে দেয়- তাহলে আমি নির্বাচনে যাব না। তখন ক্ষমতাসীনরা বলে, ঠিক আছে তুমি ১০টাই পাবে, যাও। এই একটা অবস্থার মধ্যে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নিয়ে গেছে। এই তামাশার জন্য আমরা দেশ স্বাধীন করিনি। আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) বিভিন্ন সময়ে বলেন, এখন নাকি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এজন্য যদি গণতন্ত্রের চাপা হয় তাহলে এরশাদ সাহেবরা যাবেন কোথায়? তাহলে হিটলার, মুসোলিনি, নমরুদ-ফেরাউন যাবে কোথায়? হিটলার-নমরুদ-ফেরাউন কেউ টিকে থাকতে পারেনি মানুষের ওপর নির্যাতন করে। এরশাদ ও আইয়ুব খানও পারেনি। এটা ভুলে যাবেন না। মির্জা ফখরুল বলেন, এদেশের মানুষ কিন্তু লড়াকু মানুষ, বিদ্রোহী মানুষ। সব কিছু সব সময়ে মেনে নেয় না। সাময়িকভাবে হয়ত আন্দোলন কিছুটা ভাটা পড়তে পারে। অনেক বলেন যে, আবার আন্দোলন শুরু হবে। আরে আন্দোলন তো চলছে। সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আমরা এখনো বলি, এখনো সময় আছে জনগণের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, সেই জনগণকে বাধ্য করবেন না। এরা রাস্তায় বেরিয়ে এলে উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি করে আপনাদের মসনদকে ভেঙে চুরমার করে দেবে। তরুণ-যুবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো দেশের মুক্তি হয় না, তার স্বাধীনতা রক্ষা করা যায় না যদি তরুণরা-যুবকরা এগিয়ে না আসে। আপনাকে বেরিয়ে আসতে হবে, রাজপথে জনগণকে নিয়ে চলে আসতে হবে। সেই জনগণকে দিয়ে আরো শক্তিশালী ব্যুহ রচনা করতে হবে। অন্যথায় আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সবই জলাঞ্জলি যাবে। যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসানের সভাপতিত্বে এবং শফিকুল ইসলাম মিল্টন, গোলাম মওলা শাহিন, ইছহাক সরকারের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশকে ঘিরে নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App