×

খবর

বাজারে সবজি মুরগির দাম আরো বেড়েছে

Icon

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : বাজারে আবার বেড়েছে সবজি ও মুরগির দাম। চড়া অবস্থায় রয়েছে মাছের বাজার। আদা-রসুন ও চালের দামও বাড়তি। ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে মুরগি, ডিম ও সবজির সরবরাহ কম। এ কারণে ৩টি পণ্যেরই দাম বাড়তি। তীব্র তাপদাহে খামারিদের মুরগি মারা যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। এতে বেড়েছে দাম। কয়েকদিনের ব্যবধানে এক লাফে সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে ২৫ টাকা পর্যন্ত। একই সঙ্গে বৈশাখী ঝড়ে কৃষকের সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। এতে বাজারে সবজির দামও বেড়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার রেয়াজউদ্দিন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। কিছুদিন ধরে বাজারে প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়। সেই পেঁপের দাম কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, বেগুন মানভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ৭৫-৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০-৬০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজি বিক্রেতা সিরাজ উদ্দীন বলেন, কিছুদিন আগে তাপপ্রবাহ, এরপর আবার কালবৈশাখী। এ কারণে কৃষকের ক্ষেতের সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা কমেছে। মূলত এ কারণেই সবজির দাম আগের চেয়ে একটু বেড়েছে। মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগির কেজি ২১০ থেকে ২২০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকা। আর তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৬০ থেকে ৬২০ টাকায়। এক মাসের ব্যবধানে প্রায় সব মুরগির দাম বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বাজারে গরুর মাংস ১০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকায় এবং খাসি ১ হাজার ১০০ টাকায়। প্রতি ডজন বাদামি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়। তবে সাদা ডিম ডজনপ্রতি ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। গত তিন মাস ধরে চড়া হওয়া মাছের বাজারে কমতির কোনো সুখবর নেই। অধিকাংশ মাছ মজুত করে রেখে কৃত্রিম সংকটের দোহাই দিয়ে চড়া দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার নিচে কোনো মাছই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। যে লইট্যা-ফাইস্যা মাছ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যেত তা এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। আর ৩০০ থেকে ৩২০ টাকার রূপচান্দা এখন ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ১৮০ টাকার টেক চান্দা ৩৫০ টাকা, ১৫০ টাকার পোয়া ৩৫০ টাকা, ৫০০ টাকার চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক মাস আগেও যেসব শিং মাছ ৩০০ টাকায় বিক্রি হতো তা এখন ৬০০ টাকা, ৩০০ টাকার কই ৫৫০ টাকা, ২০০ টাকার মাগুর ৩৫০ টাকা, ১৫০ টাকার নাইলোটিকা ২৫০ এবং ১২০ টাকার পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। এমনকি ২০০ টাকার রুই, কাতলের মতো চাষের কার্প জাতীয় মাছও বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৪২০ টাকায়। এদিকে মাসের ব্যবধানে দেশি ও আমদানি করা উভয় প্রকার রসুন ও আদার দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। বাজারভেদে দেশি রসুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা ও আমদানি করা রসুন ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আমদানির আদা কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ২০০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত কয়েকদিনে বস্তাপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। বাজারে মোটা চালের কেজি গত এক সপ্তাহে ২ টাকা বেড়ে ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর সরু চালের দাম ৩ টাকা বেড়ে ৬৫ থেকে ৭৩ টাকা হয়েছে। তবে বাজার ঘুরে দোকানভেদে এ ধরনের চাল আরো বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App