×

খবর

অর্ধমন্ত্রী

জুয়া-হুন্ডির কারণেই মুদ্রা পাচার বেড়েছে

Icon

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : জুয়া ও হুন্ডির কারণে মুদ্রা পাচার বেড়ে যাচ্ছে, ফলে সরকার প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি এম আব্দুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ব্যাপক প্রসারের কারণে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ও ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে লেনদেনের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। প্রযুক্তিগত এই উন্নয়নের সুবিধা কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র অনলাইন জুয়া/বেটিং, গেমিং, ফরেক্স, ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং ও হুন্ডি প্রভৃতি অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশ থেকে মুদ্রা পাচার বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে দেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে এবং ফলশ্রæতিতে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি জানান, অনলাইন জুয়া/বেটিং ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থপাচার রোধসহ সব ধরনের অর্থপাচার রোধে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। অনলাইন জুয়া/বেটিং এবং হুন্ডির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে এ পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৫৮৬টি ব্যক্তিগত এমএফএস হিসাব বিএফআইইউ স্থগিত করেছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত এ সংক্রান্ত অভিযোগে ৫ হাজার ৭৬৬ জন এজেন্টের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য তাদের তথ্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে হুন্ডি লেনদেনে জড়িত সন্দেহে ৫ হাজার ২৯টি এমএফএস এজেন্টশিপ এরই মধ্যে বাতিল করা হয়েছে। হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সন্দেহে ২১টি মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান ও এদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৩৯টি হিসাবের তথ্যাদি সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, এ পর্যস্ত ১০ হাজার ৬৬৬টি এমএফএস এজেন্ট হিসাবের লেনদেন ব্লক করা হয়েছে। আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগারের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফিতি নিয়ন্ত্রণ ও টাকার বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি নিয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ২৭৬ এপ্রিল পর্যন্ত স্থানীয় মূদ্রাবাজারে নিট ৯ হাজার ১৩৯ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিক্রি করেছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন চুন্নুর : বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নু প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কয়েকটি প্রাইভেট ব্যাংক অন্য কয়েকটি সফল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া যখন চলছিল তখন হঠাৎ করে দেখলাম এর মালিকানা পরিবর্তন হয়ে গেল। তাহলে এই ব্যাংকটা একীভূত হওয়া থেকে কি সরে এসেছে? এর জবাবে অর্থমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়েশা খানম জানান, বিরোধী দলের চিফ হুইপ একটি স্পেসিফিক প্রশ্ন করেছেন। এর জবাবে আমাকে বলতে হবে গত ৪ এপ্রিল ২০২৩ একাদশ সংসদে আমরা ব্যাংক মার্জার রিকুইজিশন অ্যাক্ট পাস করেছিলাম। এ বছরের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে একটা গাইড লাইনও আসে, সেটা হলো কোনো ব্যাংক দুর্বল হলে তা অন্য সবল ব্যাংকের সঙ্গে মার্জার করা হবে। কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে সে বিষয়ে একটা গাইড লাইনও দেয়া হয়। সেই গাইড লাইন অনুযায়ী কোনো ব্যাংক যদি মনে করে তারা অন্য ব্যাংকের সঙ্গে মার্জ হবে তাহলে সেখানকার শেয়ার হোল্ডার, এজিএম থেকে শুরু করে সব কিছুতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে আমি যতটা জানি যে ব্যাংকটির কথা বিরোধী দলের চিফ হুইপ বলেছেন তাদের ব্যাংকের নতুন মালিকানা চেঞ্জ হয়েছে তা ঠিক নয়, তাদের বোর্ড চেঞ্জ হয়েছে। তবে এটি আমার কাছে স্পষ্ট নয়। বিস্তারিত জেনে আমি বলতে পারব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App