×

খবর

১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

ক্ষমতার কাছাকাছি থেকেও সাদামাটা জীবনযাপন করেছেন ড. ওয়াজেদ

Icon

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 ক্ষমতার কাছাকাছি থেকেও সাদামাটা  জীবনযাপন করেছেন ড. ওয়াজেদ
কাগজ প্রতিবেদক : বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এম ওয়াজেদ মিয়ার ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা ও রংপুরের পীরগঞ্জে দিবসটি পালন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ। তারা ড. ওয়াজেদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে কুরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় ড. ওয়াজেদ স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় ড. ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে ওয়াজেদ মিয়া স্মৃতি পাঠাগার। রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হলে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম মণ্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। এছাড়া বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মো. শৌকত আকবর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান প্রমুখ। আলোচনা সভায় জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বাংলাদেশের খ্যাতনামা পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার স্বামী। বৈবাহিক সম্পর্ক ছাড়াও তিনি বাঙালি জাতির গর্বিত ও আলোকিত মানুষ। বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী ছিলেন ড. ওয়াজেদ। ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায়ে থেকেও তার নির্মোহ জীবনযাপন তাকে জাতির কাছে করেছে চির অমর। ব্যক্তিজীবনে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে অভ্যস্ত এই বিজ্ঞানীর দুই সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হয়েও, রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুর সবচেয়ে কাছাকাছি থেকেও কোনোদিন তিনি ক্ষমতাচর্চায় আগ্রহী হননি। ক্ষমতার উত্তাপের বিপরীতে তিনি ছিলেন স্থির, অচঞ্চল, নিভৃতচারী ও নিষ্কলুষ একজন মানুষ। নিজের মেধা, শ্রম ও যোগ্যতায় তিনি ক্রমে ক্রমে হয়ে উঠেছেন সত্যিকার অর্থে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষের প্রতিচ্ছবি। গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু একাডেমির উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এতে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণুবিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া তার সমগ্র জীবনে মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা দিয়ে দেশ, জাতি ও জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তিনি বলেন, ড. ওয়াজেদ মিয়া ক্ষমতার অনেক কাছাকাছি থেকেও কখনো ক্ষমতার দাপট না দেখিয়ে বরং খুব সাদামাটা একটা জীবন কাটাতেই পছন্দ করতেন। এটাই ছিল তার জীবনের অন্যতম বড় একটি দিক। মেধাবী এই মানুষটি নীরবে, নিভৃতে নিরলসভাবে গবেষণায় থেকে দেশের উন্নয়নের জন্য আমৃত্যু কাজ করেছেন। আ ক ম মোজাম্মেল বলেন, অসাধারণ মেধার অধিকারী ছিলেন তিনি; যার প্রতিফলন ঘটে তার শিক্ষা ও কর্মজীবনে। তিনি ছিলেন দেশের আণবিক গবেষণার পথিকৃৎ। পরমাণু গবেষণায় তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন। বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে দক্ষতা ও সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার গবেষণাকর্মের পরিধি ছিল অত্যন্ত ব্যাপক। তিনি বলেন, ড. ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন। ক্ষমতার কাছে অবস্থান করলেও ড. ওয়াজেদ ছিলেন নির্লোভ, নির্মোহ ও নিভৃতচারী একজন সহজ-সরল মানুষ। বঙ্গবন্ধু একাডেমির সভাপতি শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের সহসভাপতি তালুকদার সরোয়ার হোসেন, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের সভাপতি লায়ন মো. গনি মিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিম ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. নুরুন নবী। এছাড়া রংপুরের ফতেপুরে গতকাল বেলা ১১টায় ড. ওয়াজেদ মিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, ড. ওয়াজেদ স্মৃতি সংসদ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মেরিন একাডেমি, স্বজনরাসহ সর্বস্তরের শতশত মানুষ। এরপর তারা দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। এছাড়া মরহুম ড. ওয়াজেদ মিয়ার জন্মস্থান ফতেপুরের বাড়ি জয় সদনে দিনভর কুরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App