×

খবর

সুবর্ণচরে এমপি একরামপুত্র শাবাব জয়ী

চার কেন্দ্রে ভোট পুনঃগণনার দাবি পরাজিত প্রার্থীর

Icon

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালী প্রতিনিধি : সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৪ কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল স্থগিত করে পুনরায় ভোট গ্রহণ এবং বাতিল করা ১৯১৪টি ভোট পুনঃগণনা করতে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে পরাজিত প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর এই আবেদন করেন এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম। খায়রুল আনম চৌধুরী উপজেলা পরিষদের তিনবারের চেয়ারম্যান। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। গত বুধবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীর ছেলে আতাহার ইশরাক শাবাব চৌধুরীর কাছে তিনি পরাজিত হন। নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী আতাহার ইশরাক আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৬৪৮ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী খায়রুল আনম চৌধুরী দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৯৪৫ ভোট। লিখিত আবেদনে এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম বলেন, বুধবার সকাল ৮টা থেকে সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদের আওতাধীন ৪০ নম্বর চর মহি উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, ৪১ নম্বর চর মহি উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪২ নম্বর চর মহি উদ্দিন এন এ প্রো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৪৭ নম্বর হাজীপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রগুলোতে আমার প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী আনারস প্রতীকের কর্মী-সমর্থকরা ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়াসহ নানাভাবে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে। তারপরও ভোটাররা সব বাধা অতিক্রম করে সুশৃঙ্খলভাবে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। ভোট শেষে গণনা শুরু হলে আমার প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীর এজেন্ট-কর্মী প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের যোগসাজশে আমার দোয়াত কলম প্রতিকের বেশ কিছু ভোট আনারসের বান্ডিলে বেঁধে গণনা করার চেষ্টা করে। এ সময় আমার এজেন্টের আপত্তির মুখে সঠিকভাবে ভোট গোছানোর পর গণনা করা হলে অভিযুক্ত কেন্দ্রগুলোতে আমি জয়লাভ করেছি বলে গণনায় প্রকাশ পায়। খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম আরো বলেন, পরবর্তী সময়ে আমার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে বিপুলসংখ্যক অব্যবহৃত ব্যালেটে নতুন করে সিল দিয়ে ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করে আমাকে পরাজিত দেখানোর চেষ্টা করা হয় বলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। এসব কেন্দ্রের ভোট গণনার পর নতুন করে ভোট সংযোজন করায় ফলাফল মারাত্মক প্রাভাবিত হয়েছে। যার কারণে ওই কেন্দ্রগুলোর ভোটের ফলাফল স্থগিত রেখে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে বাতিলক্রমে অভিযুক্ত কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। একই আবেদনে সেলিম বলেন, বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায় পুরো উপজেলায় ১৯১৪টি ভোট বাতিল দেখানো হয়েছে, যা সম্পূন্ন অবৈধ এবং অযোক্তিক। এই বর্ণিত বাতিলকৃত ভোটগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসমূহে আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্টরা প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে আপত্তি করেন কিন্তু প্রিজাইডিং অফিসাররা তাদের আপত্তি শোনেননি। ৪টি ভোট কেন্দ্রের ভোট গণনা ও ভোট গ্রহণ শেষে নতুন করে ব্যালট জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটের ফলাফল পাল্টে দেয়ায় ওই কেন্দ্রগুলোর ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করে পুনঃরায় ভোটের তারিখ নির্ধারণের ব্যবস্থা এবং ওই বাতিলকৃত ১৯১৪টি ভোট পুনঃগণনা করার পর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার দাবি জানান এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম। নোয়াখালী জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নওয়াবুল ইসলাম লিখিত আবেদটি পেয়েছেন নিশ্চিত করে বলেন, এটি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিষয়। ট্রাইব্যুনাল চাইলে পরবর্তী সময় পুনঃনির্বাচন কিংবা ভোট পুনঃগণনা করতে পারেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App