×

খবর

শতভাগ নিয়ন্ত্রণে সুন্দরবনের আগুন

Icon

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বাগেরহাট ও খুলনা প্রতিনিধি : সুন্দরবনে লাগা আগুন ৪৩ ঘণ্টা পর শতভাগ নিয়ন্ত্রণে আসার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তবে তিন দিন পর্যন্ত আগুন লাগার স্থানে ড্রোন দিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ করা হবে। গতকাল সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এমন ঘোষণা দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশাসন ও মেইনটেন্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, বনের আগুন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। এটা সাধারণ কোনো আগুন নয়। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ কাজে নৌ বাহিনী, কোস্ট গার্ড, ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জনসাধারণসহ বনবিভাগের সার্বিক সহযোগিতা পেয়েছি। সুন্দরবন দুর্গম এলাকা হওয়ায় বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে আগুন নেভাতে পানি ছিটানো হয়েছে। সবাই মিলে একযোগে কাজ করে আগুন শতভাগ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। তবে আরো এক থেকে দুই দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এ সময় খুলনাঞ্চলের বন সংরক্ষণ মিহির কুমার দো জানান, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার ভোর থেকে তৃতীয় দফায় কাজ শুরু করা হয়। এখন আর কোথাও আগুন, এমনকি ধোঁয়াও বের হচ্ছে না। কাজেই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে। যেহেতু বনের আগুন তাই বনবিভাগের পক্ষ থেকে আরো দুই-তিন দিন এই এলাকা ড্রোনের সাহায্যে বিশেষভাবে নজরদারিতে রাখবে বনকর্মীরা। এর আগে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার ভোর থেকে বনবিভাগ, নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কোথাও কোনো ধরনের আগুনের ধোঁয়া দেখা যায় কি না সেজন্য ড্রোনের মাধ্যমে অনুসন্ধান করেন। আর এই অনুসন্ধানে কোথাও কোনো ধোঁয়া বা আগুনের অস্তিত্ব না পাওয়ায় আগুন শতভাগ নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আর আগুন লাগার শুরু থেকে এই আগুন নেভানোর কাজে নিরলস সহায়তা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন ও বাগেরহাট জেলার উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান সরকার ঘটনাস্থল সরজমিন পরিদর্শন করে জানান, আগুনে বেশ কিছু সুন্দরী গাছ ও গুল্ম লতা পুড়ে গেছে। আমাদের জানা মতে কোনো ধরনের বন্যপ্রাণীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে পরিবেশের কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাবে না। এটি তদন্ত সাপেক্ষ ব্যাপার। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে গত রবিবার রাত ১০টার দিকে প্রেস ব্রিফিং করেন প্রধান বন সংরক্ষক আমির হুসাইন চৌধুরী। তিনি বলেন, বাগেরহাটে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আমরবুনিয়ার লতিফের ছিলা এলাকায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও নিচের দিকে কোথাও আগুনের অস্তিত্ব আছে কিনা, তা আরো দুদিন খতিয়ে দেখা হবে। আর আগুন থেকে থাকলে তা যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে এজন্য ৫ একর জায়গায় ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখতেও তদন্ত শুরু করেছে বনবিভাগ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য : চাঁদপাই রেঞ্জের অন্তর্গত আমুরবুনিয়া টহল ফাঁড়ির নিয়ন্ত্রণাধীন বনাঞ্চলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর যে সব স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে ছোট পরিসরে আগুন ও ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিল। রবিবার সারা রাত বনকর্মীরা দলভিত্তিক নিজস্ব ফায়ার ফাইটিং ইকুপমেন্টের মাধ্যমে সব স্থানের আগুন নিভিয়ে ফেলেন। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বনবিভাগের পক্ষ থেকে এখন ড্রোনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হচ্ছে। ড্রোনের মাধ্যমে মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সোমবার তিনবার আগুনের ধোঁয়া শনাক্ত করে তা দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বর্গকিলোমিটার এলাকার অগ্নিকাণ্ডের কথা বলা হচ্ছে। প্রকৃত পক্ষে হলো ৭.৯ একর, যার মধ্যে ৫ একর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বনের আগুনের ক্ষেত্রে মাটির গভীরে গাছের শিকড়ের মধ্যেও আগুন থেকে যায়, যা পরবর্তীতে কয়েক ঘণ্টার পরে পুনরায় আগুনের বা ধোঁয়ার সূত্রপাত হতে পারে। সেজন্য দুর্ঘটনা এড়াতে তিন দিন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে বনবিভাগের টহল দল আগুন মনিটরিং এবং কোনো স্থানে নতুন কোনো আগুনের সূত্রপাত ঘটলে তা নিভিয়ে ফেলার জন্য দায়িত্বরত থাকবেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে বনবিভাগের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্বরত আছেন। ফায়ার সার্ভিসের টিম মঙ্গলবারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকবেন। আগুন নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ এবং প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী সুন্দরবনের আগুননির্বাপন কর্মকাণ্ড সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি ও সমন্বয় করছেন। অপরদিকে, সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ডের প্রেক্ষিতে জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কমিটি গঠন করেছে বন অধিদপ্তর। প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর স্বাক্ষরে খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দোকে সভাপতি এবং খুলনার ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১০ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App