×

খবর

মুহুর্মুহু গোলার শব্দ

টেকনাফ সীমান্তে আরো নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি

Icon

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : মিয়ানমারে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ চলছে। রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ টিকিয়ে রাখতে দুই পক্ষই বোমা ও মর্টার শেল হামলা চালাচ্ছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ও সাবরাং সীমান্তসহ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় রাখাইন থেকে বোমা বিস্ফোরণ ও মর্টার শেলের মুহুর্মুহু বিকট শব্দ শোনা গেছে। গোলার শব্দে স্থানীয় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে আরো নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আরাকান আর্মি ও দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে। মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সদস্যরা পালিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে। এদের সঙ্গে সন্ত্রাসী সংগঠনের বা সাধারণ নাগরিকদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও স্থল সীমান্তে বিজিবির টহল বাড়ানো হয়েছে। বিজিবির সদস্যরা স্পিডবোর্ট নিয়ে নদীতে টহল দিচ্ছে। এছাড়া রাখাইনের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বান্দরবান সীমান্তেও একইভাবে টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, নতুন করে মিয়ানমার সরকারি বাহিনীর যে সব সদস্য বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে কয়েক দফায় মিয়ানমার সেনা, বিজিপি ও ইমিগ্রেশন পুলিশ সদস্যসহ ৬১৮ জন পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। গত ২৫ এপ্রিল ২৮৮ জনকে এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি ৩৩০ জনকে নৌপথে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। এখন যারা আছে তাদেরও একইভাবে ফেরত পাঠানো হবে। এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারে গুলি, বোমা, মর্টার শেল ও গ্রেনেড বিস্ফোরণের শব্দ টেকনাফ সীমান্তের টেকনাফ সদর, হ্নীলা, হোয়াইক্যং এলাকার গ্রামগুলো থেকে শোনা যায়। গোলাগুলির কারণে গত দুইমাস ধরে নাফ নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। এর ফলে টেকনাফের প্রায় সাত হাজার জেলে অনেকটা বেকার হয়ে পড়েছে। নদীর তীরে থাকা জমিতেও কাজ করতে পারছে না কৃষকরা। অপরদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাখাইন রাজ্যে গোলাগুলি শুরুর পর থেকেই নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App