×

খবর

চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীতে ফ্ল্যাট বিক্রির ফাঁদ পেতে প্রতারণা

Icon

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : জাল দলিলের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট বিক্রির ফাঁদ পেতে বহু ক্রেতাকে পথে বসিয়েছে ফ্ল্যাট জালিয়াত চক্রের সদস্যরা। পাশাপাশি ফ্ল্যাট বিক্রির অগ্রিম টাকা নিয়ে ও ব্যাংক ঋণের বোঝা চাপিয়েও ভুক্তভোগীদের করেছে নিঃস্ব। ফ্ল্যাট জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী এ চক্রের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন পরিদপ্তর, ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং দালালরা জড়িত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ পর্যন্ত অর্ধ শতাধিক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। ফ্ল্যাট জালিয়াতি চক্রের ৭ জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান, অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গত শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ ফ্ল্যাট জালিয়াতি চক্রের ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। এর আগে চক্রের মাস্টারমাইন্ড জয়নাল আবেদীন ওরফে ইদ্রিসকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন- ইদ্রিসের প্রধান সহযোগী মো. রাকিব হোসেন (৩৩), জয়নালের ভায়রা কে এম মোস্তাফিজুর রহমান (৫৪), জাল কাগজপত্র ও এনআইডি প্রস্তুতকারক মো. লিটন মাহমুদ (৪০), ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল প্রস্তুতকারক হাবিবুর রহমান মিঠু (৩০), এনআরবিসির ব্যাংক কর্মকর্তা হিরু মোল্যা (৪৪), আব্দুস সাত্তার (৫৪) এবং সৈয়দ তারেক আলী (৫৪)। এর আগেও এই চক্রের ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল সিআইডি। তাদের দেয়া তথ্যের ওপর ভিত্তিতে এদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিল, একই ব্যক্তির একাধিক এনআইডি ও টিন নম্বর, ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড এবং নগদ ৩ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী বলেন, দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, এ সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের হোতা জয়নাল আবেদীন ইদ্রিস। তার সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের ক্রেতা হিসেবে হাজির হন। ফ্ল্যাট কেনার জন্য শুরুতে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট বায়না করেন। এরপর মালিকানার তথ্য যাচাইয়ের কথা বলে মালিকের কাছ থেকে দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্রের নকল সংগ্রহ করেন। ফ্ল্যাটের মালিকের কাছ থেকে নেয়া দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্রের তথ্য নিয়ে ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসের অসাধু লোকদের মাধ্যমে তৈরি করেন জাল দলিল। জয়নাল আবেদীন ইদ্রিস জাল দলিলে কখনো নিজে মালিক হন আবার কখনো চক্রের অন্য সদস্যদেরও মালিক বানান। এরপর সেই জাল দলিল দিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রির ফাঁদ পাতেন। ফ্ল্যাট পছন্দ হলে ক্রেতার কাছ থেকে বায়না বাবদ অগ্রিম টাকাও নেন জয়নাল। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কতিপয় কর্মকর্তাদের যোগসাজশে জাল দলিল দেখিয়ে ক্রেতার নামে ব্যাংক ঋণ নিয়ে সেই টাকাও আত্মসাৎ করেন। এভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ট ফ্ল্যাটের দলিল দিয়ে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। তিনি বলেন, সিআইডি অনুসন্ধানে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে জয়নাল আবেদীন ইদ্রিসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান রুমানা জুয়েলার্স, নীড় এস্টেট প্রোপার্টিস লিমিটেড, স্নেহা এন্টারপ্রাইজ, ই আর ইন্টারন্যাশনালসহ চক্রের ২৫ সদস্যের বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা-পূর্ব থানায় মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করেছে সিআইডি। সিআইডি প্রধান বলেন, এ চক্রের মাস্টারমাইন্ড জয়নাল আবেদীন ইদ্রিস রাজধানীর মিরপুরে কোঅপারেটিভ মার্কেটের একটি স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী ছিলেন। পরে জয়নাল আবেদীন ও শহিদুল ইসলাম সবুজ মিলে ফ্ল্যাট জালিয়াতি শুরু করেন। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত হয়ে শত-কোটি টাকার মালিক বনে যান জয়নাল। তার অন্যতম প্রধান সহযোগী দুই স্ত্রী- রোমানা সিদ্দিক ও রাবেয়া আক্তার মুক্তা। প্রতারণার জন্য নিজ নামে ৬টি সক্রিয় এনআইডি ব্যবহার করেন। এসব এনআইডি দিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকে ৫০টির বেশি হিসাব খোলেন। জয়নাল ফ্ল্যাটের মালিকানার দলিলের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ অবৈধ অর্থে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৭ তলা বাড়ি, ৩টি ফ্ল্যাট, মিরপুর ও আশকোনায় ৩টি ফ্ল্যাট কিনেছেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App