×
Icon ব্রেকিং
বরগুনায় সেতু ভেঙে বিয়ের মাইক্রোবাস খালে, নিহত ৮

খবর

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত

পরিবেশ সাংবাদিকতায় সরকার পূর্ণ সহযোগিতা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা নেবে

Icon

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 পরিবেশ সাংবাদিকতায় সরকার পূর্ণ  সহযোগিতা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা নেবে
কাগজ প্রতিবেদক : তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, পরিবেশ নিয়ে সাংবাদিকতার চর্চা করতে গিয়ে কোনো রিপোর্টার স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হয়রানির শিকার হলে তথ্য মন্ত্রণালয় সেই রিপোর্টারের পাশে দাঁড়াবে। সেই সাংবাদিকদের পূর্ণ সমর্থন এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করব। কারণ তাদের এসব রিপোর্টিং সরকারের সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পরিবর্তী সময় জলবায়ু পরিস্থিতিতে এখন পরিবেশ সাংবাদিকতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। পরিবেশ সুরক্ষার পক্ষেই আমাদের অবস্থান। জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে গতকাল শনিবার ‘জলবায়ু রাজনীতির প্রেক্ষিত ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাব এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত। প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের জন্য বাংলাদেশ সবচেয়ে কম দায়ী। কার্বন নিঃসরণ বাংলাদেশে ‘জিরো’ করলেও লাভ নেই। কারণ আমরা কার্বন নিঃসরণ কম করি। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হই বেশি। বড় বড় মোড়ল রাষ্ট্র পরিবেশের অনেক বেশি ক্ষতি করছে। এ মুহূর্তে ভালো থাকার জন্য বাংলাদেশের এনার্জি উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রয়োজন। আমরা উন্নয়ন ও টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বাসী। উন্নয়নের পাশাপাশি সেটাকে টেকসই করতে চাই। এসব উন্নয়ন থামানোর জন্য কোনো ধরনের অপসাংবাদিকতা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবেশ নিয়ে সাংবাদিকতার চর্চা করতে গিয়ে সাংবাদিকরা দেশের কোথাও কোনো সমস্যায় পড়লে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা ও সুরক্ষার ব্যবস্থা নেব। কোনো রিপোর্টার স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হয়রানির শিকার হলে তথ্য মন্ত্রণালয় সেই রিপোর্টারের পাশে দাঁড়াবে। সাহসী সাংবাদিকদের আইনি সুরক্ষা আরো জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, তথ্য কমিশনে আইন আছে। আমি তাদের সঙ্গে বসে কথা বলেছি। দুদিকে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে বলে আমার মনে হয়েছে। আমি দেখেছি তথ্য চাইলেই সরকারি অনেক কর্মকর্তা খুব ডিফেন্সিভ হয়ে যায়। তথ্য কেন চাইবে- এমন একটা বিষয় দাঁড়ায়। আসলে এটা তাদের দোষ নয়। আমাদের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন এবং বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র নষ্ট হওয়ার প্রভাব এটা। আমরা মন্ত্রী থেকে শুরু করে সব কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এ বিষয়টি আরো সহজতর করব। এছাড়া তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী সাংবাদিকরাও যেন সঠিক উপায়ে তথ্য পেতে পারে সেদিকেও লক্ষ্য রেখে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। একইসঙ্গে ‘ফ্যাক্ট চেক’ নিয়ে আরো জোরালো ভূমিকা নিতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার (আরএসএফ)-এর র‌্যাংকিংয়ের উদ্যোগ খুব ভালো। তবে তাদের কাছে আমি অনুরোধ করব- পদ্ধতিগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা সবসময় সঠিক তথ্য সরবরাহ করবে। এরপর আমাদের অবস্থান বা র‌্যাংকিং যা হয় হবে। তবে তারা বারবার ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি করলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা কমে আসবে। আমরাও প্রতিবাদ জানাব। তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমে সৎ, সাহসী সাংবাদিকতা ও সুরক্ষার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষার জন্য আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। সাংবাদিকদের সহযোগিতা করার জন্য কোনো রাজনীতি আমরা দেখি না। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সবাইকেই সহযোগিতা করা হচ্ছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, আগামী দিনগুলোয় জলবায়ুর পরিবর্তন ও বিরূপ প্রভাবের বিষয়গুলো তুলে ধরে সাংবাদিকদের প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, বিশ্ব আজ নানাবিধ সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো জলবায়ু সমস্যা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের একাংশ ডুবে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে পরিবেশ সাংবাদিকতাও চ্যালেঞ্জের মুখে। জলবায়ুর পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবগুলো তুলে ধরে সাংবাদিকদের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১০২ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, এর মধ্যে ৭০ শতাংশ নারী ও শিশু রয়েছে। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক, ডিক্যাব সভাপতি নুরুল ইসলাম হাসিব প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক ক্লাইমেট চেঞ্জ বিভাগের পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সেমিনার উপকমিটির আহবায় জুলহাস আলম।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App