×

খবর

তাপপ্রবাহের প্রভাব কাঁচাবাজারে

মাছ মাংস মুরগি চড়া, বেড়েছে পেঁয়াজ রসুন সবজির দামও

Icon

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : দেশজুড়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে কাঁচাবাজারেও। সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে মুরগি ও সবজির দাম বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, আর সোনালি মুরগি কেজিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সব ধরনের সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী। একই সঙ্গে পেঁয়াজ, রসুন, দেশি আদা ও আলুর দাম বেড়েছে। সবজি ও মুরগির দামে তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে বলে জানালেন পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। বাজারে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছিল। গত সপ্তাহে খুচরা বাজারে সোনালি মুরগির কেজি ছিল ৩৪০-৩৬০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে সেই দাম বেড়ে হয়েছে ৩৭০-৩৯০ টাকা। অর্থাৎ সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মতো বেড়েছে। মুরগির দামে অস্থিরতার বিষয়ে শান্তিনগর কাঁচাবাজারের মুরগি ব্যবসায়ী মহসিন আলী বলেন, তীব্র গরমের কারণে বেশ কয়েকদিন ধরেই মুরগির বাজারে অস্থিরতা চলছে। দুই দিন আগেও ব্রয়লার ১৮৫ টাকা এবং সোনালি ৩৭০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। কিন্তু আজ (গতকাল শুক্রবার) ব্রয়লারের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। এর কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, হঠাৎ পাইকারি বাজারে মুরগির দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া মুরগি কিনে গরমে বেশি সময় দোকানেও রাখা যাচ্ছে না। মালিবাগ কাঁচাবাজারের মুরগি ব্যবসায়ী মোবারক মিয়া বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত তাপ সহ্য করতে না পেরে প্রান্তিক খামারিদের কয়েক লাখ মুরগি মারা গেছে। অসহনীয় গরমের পাশাপাশি বিদ্যুতের লোডশেডিং ও মুরগি মারা যাওয়ার কারণ বলে জানালেন তিনি। গত সপ্তাহে মুরগির দাম কমে আবার বাড়ার কারণ কী জানতে চাইলে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, অসহনীয় গরমের কারণে গত দুই সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক খামারিদের কয়েক লাখ মুরগি মারা যায়। এতে অনেক খামারি বাজারে মুরগি বিক্রি করে দেন। তাতে সরবরাহ বাড়ায় মুরগির দাম কমে যায়। আর এখন প্রান্তিক খামারিদের কাছে মুরগি নেই। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দুই-তিন দিন ধরে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের চুক্তিভিত্তিক খামারিরা বাড়তি দামে মুরগি বিক্রি শুরু করেছেন। মুরগির পাশাপাশি তারা ডিমের দামও বাড়িয়েছেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের একজন মুরগি ব্যবসায়ী জানান, আগামী বেশ কিছুদিন মুরগির দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ গরমের কারণে প্রান্তিক খামারিরা তাদের সব মুরগি বিক্রি করে দিয়েছেন। আবার একই কারণে তারা নতুন করে মুরগি তুলছেন না। ফলে মুরগির বাজার স্বাভাবিক হতে আরো কিছুদিন সময় লাগতে পারে। এদিকে, পেঁয়াজ, রসুন ও আলুর দামও বেড়েছে। টিসিবির বাজার দর অনুযায়ী, ঈদের সপ্তাহখানেক আগে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৪৫-৫৫ টাকা কেজি। সেই দাম বেড়ে গতকাল বাজারভেদে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে কেজিতে পেঁয়াজের দাম ৫-১০ টাকা বেড়েছে। পেঁয়াজের পাশাপাশি বেড়েছে রসুনের দামও। বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি ও আমদানি করা উভয় প্রকার রসুনের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। গতকাল বাজারভেদে দেশি রসুন ১৮০-২০০ টাকা ও আমদানি করা রসুন ২৩০-২৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। দেশি আদার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ২৪০ টাকা হয়েছে। এছাড়া আলুর দাম কেজি প্রতি ৫ টাকা বেড়েছে। গতকাল বিভিন্ন খুচরা বাজারে ৫০-৫৫ টাকা কেজি আলু বিক্রি হতে দেখা যায়। অন্যদিকে, তীব্র তাপপ্রবাহে অস্থির সবজির বাজারও। সব ধরনের সবজি চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। ঢাকার বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি কচুরমুখী ১৪০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা কেজি, শসা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, পেঁপে প্রতি কেজি ৫০ টাকা, ধুন্দুল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, সজনা ১৬০ টাকা এবং কাঁচা আম প্রকারভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে প্রতি কেজি মূলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, শিম ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস, ব্রকলি ৪০ টাকা পিস, পাকা টমেটো প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং গাজর ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে লেবুর হালি ২০ থেকে ৬০ টাকা, ধনে পাতা ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কলার হালি ৪০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়া কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া লাল শাক ১০ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৩০ টাকা, মূলা শাক ১৫ টাকা, পালং শাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, কলমি শাক ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। এছাড়া, মাছের দামও চড়া। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৫০০ টাকা, এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়। প্রতি কেজি রুই মাছের দাম (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২১০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৩০০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। পোয়া মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৬০০ টাকা, সোল মাছ ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে । বাজারে গরুর মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১০৫০-১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, হাঁসের ডিম ১৮০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ৮৫ টাকা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App