×

খবর

খারিয়াদের মাতৃভাষা রক্ষায় গুরুত্ব প্রধান বিচারপতির

খারিয়া ভাষায় কথা বলা মাত্র কয়েকজন বেঁচে আছেন

Icon

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, বাংলাদেশের কোনো ভাষাকেই হারিয়ে যেতে দেয়া ঠিক হবে না, যে কোনো উপায়ে খাড়িয়া সম্প্রদায়ের মাতৃভাষাকে (ফার্সি) রক্ষা করতে হবে। এজন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। গতকাল শুক্রবার দুপুরে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রের গেস্ট হাউসে দেখা করেন খাড়িয়া জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে। তিনি খাড়িয়া জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় নিয়ে কথা বলেন। তাদের ভাষায় কথোপকথন শোনেন। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে শ্রীমঙ্গল বর্মাছড়া চা বাগানের খাড়িয়া সম্প্রদায়ের দুই বোন ভেরোনিকা কেরকেটা ও খ্রিস্টিনা কেরকেটা নিজেদের ভাষায় কথা বলেন। আর তাদের সম্প্রদায়ের অপর একজন জহরলাল ইন্দোয়ার তা বাংলায় অনুবাদ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক উর্মি বিনতে সালাম, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আল-মাহমুদ ফায়জুল কবির, জেলা পুলিশ সুপার মো. মনজুর রহমান এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু তালেব প্রমুখ। প্রধান বিচারপতি বলেন, বাংলাদেশ হলো ভাষা বৈচিত্র্যের দেশ। তিনি গণমাধ্যম থেকে জানতে পারেন খাড়িয়া সম্প্রদায়ের দুজন বেঁচে আছেন। তারা কথা বলেন মাতৃভাষাতেই। তারা যদি মারা যান তাহলে বাংলাদেশ থেকে তাদের ভাষাও হারিয়ে যাবে। এটি তাকে চিন্তিত করেছে। তাই তিনি এই দুজন নারীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। এখানে এসে তিনি আশ্বস্ত হয়েছেন যে, এই দুজন শুধু নয়, এই ভাষায় কথা বলতে পারা মানুষ আরো কজন রয়েছেন। খারিয়া জনগোষ্ঠীর প্রায় আড়াই তিন হাজার মানুষ বাংলাদেশে বসবাস করেন। এ সময় এই ভাষাটি রক্ষার সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজনীতা উপলব্ধি করে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এগিয়ে আসার আহ্ববান জানান। তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্রীয় ভাষা বাংলা। কিন্তু এর বাইরেও আরো অনেক ভাষা আছে। দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ভিন্ন। রাষ্ট্রীয় ভাষা বাংলা সবার জন্য প্রজোয্য। দেশে যার যার যে মাতৃভাষা তা টিকিয়ে রাখার জন্য সরকার মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট হয়তো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। খারিয়া জনগোষ্ঠীর ভাষা রক্ষার জন্য এবং এর বর্ণমালা সংগ্রহের জন্য ভারতের যে রাজ্যে খাড়িয়া সম্প্রদায়ের মানুষ আছেন দরকার পড়লে সেখান থেকে তা সংগ্রহ করতে হবে। এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনেরও সহায়তাও নেয়া যেতে পারে। এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম বলেন, প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের যে নির্দেশনা, যেন খাড়িয়া সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা বিলুপ্ত না হয়। এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন কাজ করবে। ভারতের অঙ্গরাজ্য থেকে তাদের এই বর্ণমালা সংগ্রহ করে এখানে ভাষা শিক্ষা বা ভাষাচর্চা কেন্দ্র করার উদ্যোগ নেয়া হবে। খাড়িয়া জনগোষ্ঠীর নেতা জহরলাল ইন্দোয়ার বলেন, তাদের পূর্বপুরুষ ভারতের রাচি এলাকা থেকে এদেশে আসে। যার বসতী রয়েছে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন চা বাগানে। মুখে মুখেই এই ভাষা চলমান এর কোনো লিখত রূপ বাংলাদেশে নেই। এই ভাষায় কথা বলতে পারা খ্রিস্টিনা কেরকেটা বলেন, তিনি চা বাগানে কাজ করেন। ভাষা শিখানোর জন্য তাকে সময় দিতে হলে অন্য কাজ তিনি করতে পারবেন না। সংসার চালানোর জন্য তাকে কাজ করতে হয়। তবুও তারা দুই বোন প্রতি রবিবার কিছু সময় ব্যয় করেন শিশুদের এ ভাষা শিখানোর কাজে। ভেরোনিকা কেরকেটা বলেন, এই ভাষা তিনি তার মায়ের কাছ থেকেই শিখেছেন। কিন্তু তার ছেলে মেয়ে ভালো বলতে পারে না। তবে কথা বললে তারা বুঝতে পারে। কিছু কিছু বলতেও পারে। তিনি বলেন, কাজে-কর্মে ছেলেমেয়েরা বাহিরে চলে গেলে তখন এই ভাষায় আর কথা বলার প্রয়োজন হয় না। অন্য ভাষায় কথা বলতে বলতে মায়ের ভাষাটা সন্তানরা ভুলে যাচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App