×

খবর

কষ্টিপাথর কিনে প্রতারিত ঠিকাদার

খোকন প্রতারকের ভায়রাকে অপহরণ, গ্রেপ্তার ৭

Icon

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : ঝালকাঠির বাসিন্দা মোস্তফা হাওলাদার অবৈধভাবে কষ্টিপাথরের মূর্তি ও বিভিন্ন ধাতব মুদ্রা সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। আর ঢাকার বাসিন্দা হাজি ওয়াজী উল্লাহ্ খোকন ঠিকাদার পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এসব কষ্টিপাথরের মূর্তি ও বিভিন্ন ধাতব মুদ্রা কিনে ভারতে পাচার করে আসছিলেন। সম্প্রতি মোস্তফার কাছ থেকে ৯৫ লাখ টাকায় কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ধাতব মুদ্রা কিনে প্রতারিত হন খোকন। নকল মূর্তি ও মুদ্রা বিক্রি করে আত্মগোপনে চলে যান মোস্তফা। প্রতারিত হয়ে ক্ষুব্ধ খোকন ও তার চক্রের সদস্যরা মোস্তফার ভায়রাভাই আনোয়ার হোসেন খানকে অপহরণ করেন। অভিযোগ পেয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা খোকনসহ সাতজনকে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র?্যাব-৩। এ সময় উদ্ধার করা হয় অপহৃত আনোয়ারকে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- হাজি ওয়াজী উল্লাহ্ খোকন (৬৫), মো. আরিফ হোসেন (৫৫), সাইফ উদ্দিন আহমেদ মিলন (৬২), সিরাতুল মোস্তাকিম (৫৮), মো. রুহুল আমিন (৬০), মো. জাকির হোসেন (৩০) ও মো. স্বাধীন (৫২)। র‌্যাব বলছে, গ্রেপ্তারকৃতরা অবৈধ পন্থায় কষ্টিপাথরের মূর্তি ও বিভিন্ন ধাতব মুদ্রা সংগ্রহ করে বিক্রি করে থাকে। এ চক্রের হোতা হাজি ওয়াজী উল্লাহ্ খোকন। সম্প্রতি মোস্তফা নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৯৫ লাখ টাকায় মূর্তি ও ধাতব মুদ্রা কিনে প্রতারিত হন খোকন। এর পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান মোস্তফা। তার খোঁজে ছিলেন খোকন। কিন্তু তার কোনো হদিস না পেয়ে টাকা আদায় করতে মোস্তফার ভায়রাভাই আনোয়ার হোসেন খানকে (৪৪) অপহরণ করেন খোকন ও তার চক্রের সদস্যরা। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার তুষারধারা এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে আনোয়ারের হোসেনকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়ে ওই ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ সময় অপহৃতকে উদ্ধারসহ ১টি রিভালবার, ৮ রাউন্ড গুলি ও শটগান জব্দ করা হয়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার র?্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র?্যাব-৩ এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল মো. ফিরোজ কবীর এ বিষয়ে ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, গত পহেলা মে রাত ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার তুষারধারা এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে খোকনের নেতৃত্বে ৮-৯ জনের একটি অপহরণকারী চক্র আনোয়ারকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে কেরানীগঞ্জ থানার চুনকুটিয়া এলাকায় খোকনের মালিকানাধীন চুনকুটিয়া রিয়েল এস্টেট লিমিটেড অফিসে আটকে রাখে। অপহরণকারীরা আনোয়ারের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে পরিবারের কাছে ৯৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আনোয়ারের জীবন বাঁচাতে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা জোগাড় করে অপহরণকারী চক্রের দেয়া একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরে পাঠানো হয়। সাড়ে ১৭ লাখ টাকা পাওয়ার পরও আরো টাকার দাবিতে নির্যাতন চালাতে থাকে তারা। এমনকি অপহরণকারীরা টাকা না দিলে আনোয়ারকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এ অভিযোগ পেয়ে র‌্যাব-৩ এর গোয়েন্দা দল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকায় অপহরণকারী চক্র ও অপহৃতের অবস্থান শনাক্ত করে। খোকনের অফিসে অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চক্রের ৭ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র?্যাব-৩ এর অধিনায়ক জানান, আসামি খোকন ২০১৫ সাল থেকে মূল্যবান কষ্টিপাথরের মূর্তি ও দুষ্প্রাপ্য পিতলের ধাতব মুদ্রা ভারতে পাচার করে আসছিলেন। তার এই অপকর্মের সহযোগী ছিল ভারতীয় এক নাগরিক, যার নাম মিলন চক্রবর্তী। যিনি নিজেকে একটি বিখ্যাত ভারতীয় কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিতেন। কষ্টিপাথরের মূর্তি ও পিতলের ধাতব মুদ্রার মূল ক্রেতা মিলন চক্রবর্তী। খোকন ২০১৫-১৭ সালের মধ্যে কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ধাতব মুদ্রার ৭টি চালান ভারতে পাচার করেন। কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ধাতবমুদ্রা সংগ্রহের কাজে নাঈম (৩৫), মোস্তফা হাওলাদার (৫০) ও রবি নামে কয়েকজন সহযোগী বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে কাজ করত। বিনিময়ে তাদের মাসে ৩০ হাজার টাকা করে দিতেন খোকন। গত ১ মে মোস্তফা হাওলাদার ও নাঈমের একজন সহযোগী মোবাইল ফোনে খোকনকে বলেন, মোস্তফার ভায়রাভাই আনোয়ার ফতুল্লা থানার তুষারধারা এলাকায় একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। তাকে ধরলে মোস্তফা হাওলাদারের সন্ধান পাওয়া যাবে। এই তথ্য পেয়ে খোকন তার সহযোগীদের নিয়ে আনোয়ারকে অপহরণের পরিকল্পনা করে। র?্যাব-৩ এর সিও আরো জানান, খোকন একজন ঠিকাদার। ঢাকার মতিঝিলে তার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ঠিকাদারি ব্যবসার আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কষ্টিপাথরের মূর্তি ও দুষ্প্রাপ্য ধাতব মুদ্রার কারবার করে আসছিলেন। এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত তার সহযোগীরাও অবৈধ কষ্টিপাথর ও ধাতব মুদ্রার কারবারের জড়িত। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App