×

খবর

মহান মে দিবস পালিত

শ্রমিকদের কল্যাণে বিশেষ নজর দেয়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

Icon

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে ‘শ্রমিক মালিক গড়বো দেশ, স্মার্ট হবে বাংলাদেশ’ সেøাগানে গত বুধবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে পালিত হয়েছে মহান মে দিবস। মহান এই দিবসে কলকারখানা মালিকদের প্রতি বিলাসিতা কিছুটা কমিয়ে শ্রমিকদের কল্যাণে বিশেষ নজর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত মে দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে শ্রমিকরা তাদের কঠোর শ্রম দিয়ে উৎপাদন বাড়িয়ে মালিকদের জীবনজীবিকা উন্নত করা বা বিলাসবহুল জীবনযাপনের সুযোগ করে দিচ্ছে সেখানে তারা বিলাসিতা একটু কমিয়ে শ্রমিকদের দিকে বিশেষভাবে নজর দেবেন এটিই আমি চাই। কোভিড-১৯ মহামারির সময় মালিকদের প্রণোদনা প্যাকেজ দেয়া এবং মাত্র চার শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, কলকারখানায় উৎপাদন যেন অব্যাহত থাকে এজন্য সরকার এটি করেছে এবং মালিকরা ধীরে ধীরে তা শোধ করছেন। এর পেছনে সরকারের ভর্তুকি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জানি বাংলাদেশে কিছু ভাড়াটে লোক কথায় কথায় শ্রমিকদের নিয়ে রাস্তায় নামার চেষ্টা করে। এখন যে কারখানা আপনাদের ভাত কাপড়ের ব্যবস্থা করছে কাজের ব্যবস্থা করছে জীবনজীবিকার ব্যবস্থা করছে এই কারখানা নিজেরা যদি ধ্বংস করতে যান, ভাঙচুর করেন তাহলে ক্ষতিটা কার হচ্ছে? এতে নিজের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, পরিবারের ক্ষতি হচ্ছে তেমনি দেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। মালিকদেরও ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু মালিকদের তো আর একটা ব্যবসা থাকে না আরও অনেক ব্যবসা থাকে। তারা হয়ত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু আপনাদের নিজেদের ক্ষতি তো আপনারা নিজেরা করেন। ধাপে ধাপে গার্মেন্টস শ্রমিক মজুরি মাত্র ৮০০ টাকা থেকে ১৬০০ এবং পর্যায়ক্রমে ২০২৩ সালে তা ১২ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাদের দেশের শ্রমিক শ্রেণির দাবির জন্য, কথা বলার জন্য আমরা তো আছি। আমরা তো বলি। শেখ হাসিনা বলেন, আমি শুধু প্রধানমন্ত্রী নই, আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে। আমি সেভাবেই নিজেকে বিবেচনা করি। তিনি বলেন, আপনাদের যদি কোনো অসুবিধা হয়, আমার দুয়ার আপনাদের জন্য সবসময় খোলা। আপনারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সেগুলো আমরা দেখব এবং আমাদের শ্রমিক সংগঠনও রয়েছে। শ্রমিকদের শুধু নয় কৃষক, এমনকি বর্গা চাষিদের বিনা জামানতে ঋণের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, শিশু শ্রম বন্ধের উদ্যোগ সরকার নিয়েছে। আজকে ৯৮ শতাংশ শিশু স্কুলে যাচ্ছে। আমরা তাদের বৃত্তি দিচ্ছি, খাবারের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য ব্যাপকহারে বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। এটা আগে ছিল না, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আমরা করেছি। তিনি বলেন, আজকে আমাদের বেকারের সংখ্যা ৩ শতাংশ নেমে এসেছে- যা প্রায় ২ থেকে ৩ গুণ বেশি ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো সমস্যা হলে সেটা বলবেন, কিন্তু কারো প্ররোচনায় বা কারো উসকানিতে যেটা থেকে নিজের রুটি রুজি ও ভাত কাপড় আসবে সেটাকে যেন ধ্বংস করা না হয়। এর প্রতি আপনারা অবশ্যই যতœবান হবেন। আর মালিকদের বলবো আপনারা আপনাদের বিলাসিতার কিছু অংশ ছেড়ে দিয়ে শ্রমিকদের কল্যাণ দেখবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেও নারীরা পুরুষের সমান মজুরি পায় না, কিন্তু বাংলাদেশে পাচ্ছে। বর্তমানে আমাদের কর্মজীবী মহিলার সংখ্যা ৪৩ দশমিক ৪১ ভাগ বেড়েছে, যা ছিল মাত্র ২২ দশমিক ৮১ ভাগ। এখন মেয়েরা সবক্ষেত্রে কাজ করতে পারছে, সে সুযোগ আমরা সৃষ্টি করে দিয়েছি। অনুষ্ঠানে কয়েকটি শ্রমিক পরিবারের কাছে আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন তিনি। আলোচনায় অংশ নেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এম ইব্রাহিম, সচিব মো. মাহবুব হোসেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর তুওমো পুতিয়ানেন, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি আরদাশির কবির ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি নূর কুতুব আলম মান্নান প্রমুখ। এদিকে মহান মে দিবস উপলক্ষে বুধবার বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয় শ্রমিক লীগ। সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর কুতুব আলম মান্নানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গত বুধবার সকালে দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গার্মেন্টস শ্রমিকদের রেশনিং ব্যবস্থা চালু-অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে সমাবেশে করেছে গ্রিন বাংলা গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন ও ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টার। পরে যৌথ উদ্যোগে লাল পতাকা মিছিল করেন সংগঠনের নেতারা। মহান মে দিবস উপলক্ষে গত বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। ডিইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ডিইউজের সাবেক সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, বিএফইউজের কোষাধ্যক্ষ খায়রুজ্জামান কামাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এদিকে মহান মে দিবস উপলক্ষে সকালে সেগুনবাগিচায় সংহতি মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করে বিপ্লবী শ্রমিক সংহতি। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী শ্রমিক সংহতি সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, জাতীয় শ্রমিক জোট, বাংলাদেশ লেবার কংগ্রেস (বিএলসি), ন্যাশনাল ডমেস্টিক ওয়ার্কার্স সেন্টার, বিপ্লবী শ্রমিক সংহতি, প্রবাসী শ্রমিক কল্যাণ পরিষদ, সম্মিলিত শ্রমিক পরিষদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (ট্যাফ) এবং শ্রমজীবী পরিষদসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মানববন্ধন ও র‌্যালির আয়োজন করে। এছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থার মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়সমূহ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সড়কদ্বীপ ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে সজ্জিত করা হয়। এছাড়া মহান মে দিবস উপলক্ষে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান ও টকশো সম্প্রচার করে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App