×

খবর

সংসদে শোক প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী

আব্দুল হাইয়ের কারণে দেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে

Icon

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আব্দুল হাইয়ের মতো ত্যাগী নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে ছিল বলেই দেশের উন্নয়নে সফলতা আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ঝিনাইদহ এমন একটা সন্ত্রাসী এলাকা ছিল যেখানে গ্রামের মানুষ টিকতে পারত না। সেখানে নির্বাচন করা, রাজনীতি করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। সেই অবস্থার মধ্যেও আব্দুল হাই অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে সংগঠন ধরে রাখে এবং সংগঠনকে সুংগঠিত করে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে উপস্থাপিত শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। এ সময় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। স্পিকার অধিবেশনে এই শোক প্রস্তাব আনেন। গত ১৬ মার্চ আব্দুল হাই থাইল্যান্ডের একটি হাসপতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শেখ হাসিনা বলেন, আব্দুল হাই অত্যন্ত সাহসী ছিলেন, ভালো সংগঠক ছিলেন। এ জন্য সফলতার সঙ্গে তিনি সংগঠনটাকে দাঁড় করান। গ্রামে মানুষ টিকতে পারত না, অস্ত্রের ঝনঝনানি। বিএনপি নামক যে দলটির সৃষ্টি হয়েছিল, আন্ডার গ্রাউন্ড পার্টির বেশির ভাগ লোক কিন্তু এই বিএনপিই করত। সেখানে প্রতিনিয়ত আমাদের নেতাকর্মীর ওপর হামলা হতো, কত লাশ যে পড়েছে তার হিসাবে নেই। সেই অবস্থায় সংগঠনকে গড়ে তোলা এবং বার বার নির্বাচিত হয়ে আসা- এটা একটা বিরাট দক্ষতার পরিচয় তিনি দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই সবচেয়ে কষ্ট লাগছে যে তিনি এই সংসদে বসতে পারলেন না। এবারো তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। আবার একজন রিট করল, তার সংসদ সদস্যপদ স্থগিত করা হল। সেটা আবার আপিল করে স্থগিত করা হয়েছিল বলেই তিনি সংসদে বসতে পেরেছিলেন। এটা খুব অদ্ভুত ব্যাপার যে যিনি বার বার নির্বাচিত হয়ে আসেন তার ওপর এই ধরনের আচরণ কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। তারপরও তিনি অন্তত আসতে পেরেছিলেন, এরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, অনেক সংগ্রামের পথ বেয়ে আওয়ামী লীগ সরকারে এসেছে, আওয়ামী লীগ সরকারে এসেছে বলেই কিন্তু আজ বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের জীবনমান উন্নত হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ আজ একটা মর্যাদা নিয়ে চলতে পারে বিশ্ব দরবারে। এটা আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে এই কারণে যে আব্দুল হাইয়ের মতো ত্যাগী নেতাকর্মী বলেই এই সাফল্য আমরা আনতে পেরেছি। আলোচনায় আরো অংশ নেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, মো. তৌহিদুজ্জামান ও নাসির শাহরিয়ার। সংসদে আরো যাদের নামে গতকাল শোক প্রস্তাব আনা হয় তারা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য শামছুল হক ভুইয়া, আবুল হাসেম খান, পিনু খান, নজির হোসেন ও মোখলেছুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা সৈনিক, একুশের পদকপ্রাপ্ত ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ সাংবাদিক ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ড. প্রণব কুমার বড়–য়া। পরে শোক প্রস্তাবটি সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। জাতীয় সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী চলমান সংসদের কোনো একজন এমপির মৃত্যুতে সংসদ মুলতবি ঘোষণা করা হয়ে থাকে। সেই হিসেবে স্পিকার শোক প্রস্তাবটি সংসদে পাসের পরে সংসদের অধিবেশন আগামী রবিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App