×

খবর

শেষ হলো জাতীয় উচ্চাঙ্গসংগীত সম্মেলন

সুরের মোহনীয় ধারায় আবিষ্ট দর্শক-শ্রোতা

Icon

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : সুরের ঝর্ণাধারায় দর্শক-শ্রোতাদের বিমোহিত করে চট্টগ্রামে গতকাল রবিবার শেষ হলো তিন দিনব্যাপী ২৭তম জাতীয় উচ্চাঙ্গসংগীত সম্মেলন। বাংলাদেশ ও ভারতের উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পীরা এতে অংশ নেন। এই সংগীত সম্মেলনের আয়োজক সদারঙ্গ উচ্চাঙ্গসংগীত পরিষদ। চারুকেশী, শিবরঞ্জনী, চন্দ্রকোষ, ইমন, কলাবতী, মালকোষ, বাগেশ্রী, খাম্বাজ, পটদীপ, দেশ, ভূপালী, কিরওয়ানী প্রমুখ রাগের সন্নিবেশ হয়েছিল এই উচ্চাঙ্গসংগীত সম্মেলনে। সুরের নিনাদে থেকে গেল সন্তুর-বাঁশি-সরোদ-বেহালার শ্রæতির মুরকি (সুরের এক ধরনের অলংকার)। উস্তাদ রশিদ খানকে উৎসর্গ করা এই সম্মেলন গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হয়। সম্মেলন উদ্বোধন করেন সুরস¤্রাট আলাউদ্দিন খাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র ও উস্তাদ আয়েত আলী খাঁর আত্মজ, বরেণ্য সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক শেখ সাদী খান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, যারা উচ্চাঙ্গসংগীত চর্চা করেন তারা অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী হন। তারা কখনো খারাপ হতে পারেন না। আমরা যারা গানবাজনা করি, তারা সবাই সদারঙ্গের কাছে ঋণী, ২৭ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এরকম অনন্য আয়োজন করার জন্য। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল বলেন, উচ্চাঙ্গসংগীতের শ্রোতা তুলনামূলক কম হলেও তাদের মান উচ্চমার্গীয়। সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদারঙ্গের সাধারণ সম্পাদক রাজীব দাশ। উদ্বোধনী অধিবেশনের পর সম্মেলনের প্রথম দিনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় সদারঙ্গের শিক্ষার্থীদের সমবেত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। সদারঙ্গের প্রতিষ্ঠাতা ও শাস্ত্রীয় সংগীত শাস্ত্রী, পণ্ডিত স্বর্ণময় চক্রবর্ত্তীর রচনা এবং সুরে কলাবতী রাগে নিবদ্ধ ‘মিতবা মোরা আঈ রে’ বন্দিশটি পরিবেশন করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর রাজশাহীর আলমগীর পারভেজ সুমনের হৃদয়গ্রাহী আলাপ ও পুকারে ঋদ্ধ হন শ্রোতারা। তারপর তিনি খাম্বাজ রাগে একটি ঠুমরী পরিবেশন করেন। তবলায় ছিলেন রাজীব চক্রবর্তী, হারমোনিয়ামে বিটু শীল, তানপুরায় মীর মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ সানী এবং পল্লবী বড়ুয়া। বাঁশিতে রাগ চারুকেশীতে মাতিয়ে রাখেন চট্টগ্রামের রণধীর দাশ। পরে তিনি একটি ধুন পরিবেশন করেন। তবলায় ছিলেন অমিত চৌধুরী দীপ্ত। রাগ ‘মালকোষ’ এবং ‘দেশ’ পরিবেশন করে আসর জমিয়ে তোলেন বর্ষীয়ান সঙ্গীতজ্ঞ পণ্ডিত অসিত কুমার দে। তার দরদি আলাপ, তান, সরগম উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের বিমোহিত করেন। রাগ ইমনের সুরে ক্ল্যাসিক্যাল ভায়োলিনিস্ট, চট্টগ্রামের দলীয় পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন শুরু হয়। সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন শিল্পী প্রিয়তোষ বড়ুয়া। এরপর রাগ বাগেশ্রীতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন চট্টগ্রামের শিল্পী রাজীব দাশ। তার আলাপের পুকার অংশ সুরেলা ও হৃদয়গ্রাহী ছিল। তবলায় ছিলেন শিল্পী রাজীব চক্রবর্ত্তী, হারমোনিয়ামে শিল্পী প্রমিত বড়ুয়া এবং তানপুরায় আরাধ্যা দাশ এবং জয়িতা ঘোষ। বেহালায় রাগ যোগ-এর মোহনীয় সুরে শ্রোতাদের আবিষ্ট করে রাখেন রংপুরের মাহামুদুল হাসান। পরে তিনি একটি ধুন পরিবেশন করেন। তবলায় ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের শিল্পী প্রশান্ত কুমার দাস। পশ্চিমবঙ্গের শিল্পী অর্ঘ্য চক্রবর্ত্তী রাগ চন্দ্রকোষ পরিবেশন করেন। তার দরদি আলাপ, তান, বাট উপস্থিত শ্রোতাদের সুরের রাজ্যে নিয়ে যায়। তবলায় ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের শিল্পী সমীর আচার্য্য, হারমোনিয়ামে শিল্পী দিলীপ বিশ্বাস এবং তানপুরায় মীর মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ্ সানি। সরোদে রাগ কিরওয়ানি ও শিবরঞ্জনী পরিবেশন করেন ঢাকার শিল্পী শামীম জহির। তবলায় ছিলেন শিল্পী জাকির হোসেন। এরপর ধুন পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন শেষ হয়। গত শনিবার সম্মেলনের শেষ দিনের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগীত অনুরাগী রিয়াজ ওয়ায়েজ। ক্ল্যাসিক্যাল তবলা স্টুডেন্টস্ ফোরাম, চট্টগ্রামের দলীয় পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সম্মেলনের শেষ অধিবেশন শুরু হয়। এরপর বেলা ১১টায় প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ও রাজীব দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় ‘উচ্চাঙ্গসংগীতের প্রচার ও প্রসারে উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পীদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App