×

খবর

৩৩ বছর পর মা-বাবা পেয়েও ঘরে ফেরা হলো না ধলুর

আজ আঘাত করে প্রলঙ্ককারী জলোচ্ছ¡াস

Icon

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

এম এ মান্নান, কুতুবদিয়া (কক্সবাজার) থেকে : উপকূলবাসীর সামনে ৩৩ বছর আগের সেই ভয়াল প্রলঙ্ককারী জলোচ্ছ¡াসের দিনটি আজ সোমবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯১ সালের এই দিনে লাখেরও বেশি মানুষ জলোচ্ছ¡াসে প্রাণ হারান। তাই যখন দিনটি ফিরে আসে উপকূলবাসী অন্যরকম হয়ে পড়েন। রাতের আঁধারে আঘাতহানা প্রলঙ্ককারী ঘূর্ণিঝড়ে কুতুবদিয়ার কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। এমন কোনো পরিবার ছিল না যে, সেদিন তারা স্বজন হারাননি। ৩৩ বছর পর জলোচ্ছ¡াসে ভেসে যাওয়া কুতুবদিয়ার নুরুল আবছার ধলুর সন্ধান মিলেছে। কিন্তু ধুলর স্বজনরা তার সন্ধান পেলেও ঘরে ফিরিয়ে নিতে পারেননি। তিনি উপজেলার বড়ঘোপ উত্তর মগডেইল গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে। গত ২৮ জানুয়ারি নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপে কবুতর হোটেলে তার সন্ধান পাওয়া যায়। তার আগে ২৪ জানুয়ারি নাগরিক টিভির স্থানীয় প্রতিবেদক সাইদুজ্জামান ধলুকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচার করেন। এই সূত্র ধরেই ধলুর পিতা আবদুর রহমান ও ছোট ভাই মো. ফুরকান হাতিয়ায় ছুটে যান। ধলুর বড়ভাই উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন নুরুল হক বলেন, ভয়াল জলোচ্ছ¡াস যখন হয়, সেই সময়ে ৪ ভাইয়ের মধ্যে অবস্থানের দিক দিয়ে নুরুল আবছার (ধলু) দ্বিতীয় ছিল। ১৯৯১ সালে ধলু মহেশখালীর হোয়ানকে লবণ মাঠে কাজ করতে যায়। তখন বয়স ছিল ১৫ বছর। ঘূর্ণিঝড়ে ধলুও ভেসে যায় বলে তারা খবর পান। খোঁজখবর নিয়েও তার কোনো সন্ধান পাননি। দীর্ঘ ৩৩ বছর পর হাতিয়ার ইউটিউব চ্যানেলে সংবাদ দেখে তাদের মনে হয়েছে, ধলুই হলো প্রলঙ্ককারী জলোচ্ছ¡াসে ভেসে যাওয়া তাদের ভাইটি। তিনি আরো বলেন, খবর পেয়ে তার বাবা আব্দুর রহমান ও ছোট ভাই মো. ফুরকান হাতিয়ায় পৌঁছান ২৮ জানুয়ারি। নুরুল আবছার ধলু হাতিয়ার কবুতর হোটেলে কর্মরত ছিলেন। তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল ও মানসিক ভারসাম্যের অভাব রয়েছে। তবে তার বাবা সেখানে গেলে ‘বাবা’ বলে জড়িয়ে ধরে পিতাকে। শারীরিক গঠন, কাপড়-চোপড় খুলেও বিভিন্ন নমুনা শনাক্ত করেন তার পিতা। দুদিন সেখানে অবস্থানের পর পিতা বাড়িতে এসে সবাইকে নিশ্চিত করেন ফিরে পেয়েছেন তার ভেসে যাওয়া সন্তানকে। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে ঘরে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ধলুকে আনতে হলে হোটেল মালিক এক লাখ টাকা দিতে হবে হলে জানান তিনি। কবুতর হোটেলের মালিকের ছেলে মো. বিপ্লব বলেন, ধলুকে ’৯১ এর পর ভবঘুরে অবস্থায় তার পিতা মোল্লা হুজুর হোটেলে আশ্রয় দেন। তিনিই তাকে লালনপালন করে আসছিলেন। ২০১১ সালে তার পিতা মারা যাওয়ার পর তিনি ধলুর দায়িত্ব নিয়েই দেখাশোনা করে আসছেন। টিভিতে সংবাদ প্রচারের পর কুতুবদিয়ার আব্দুর রহমান নামের এক ব্যক্তি তাদের সন্তান বলে শনাক্ত করে গেছেন। তবে বোয়ালখালী উপজেলার জনৈক মহিলা তার স্বামী দাবি করায় বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তারা ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া ধলুকে কোনো পক্ষের কাছেই হস্তান্তর করতে পারি না বলে জানান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App