×

খবর

৩ ঘণ্টা বন্ধ ছিল রেল যোগাযোগ

ঝড়ে মৌলভীবাজারের শত শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত

Icon

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিকুল চক্রবর্তী, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) থেকে : কালবৈশাখী ঝড়ে মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া বনের ভেতরে রেললাইনের উপর গাছ ভেঙে পড়ে সারাদেশের সঙ্গে ৩ ঘণ্টা বন্ধ ছিল রেল যোগাযোগ। একই সঙ্গে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর একাধিক গাছ ভেঙে পড়ে প্রায় ২ ঘণ্টা যান চলাচলও বন্ধ ছিল। এছাড়া শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন গ্রামে শতশত ঘরবাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে বহু মানুষ পড়েছেন দুর্ভোগে। শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শাখাওয়াত হোসেন জানান, গতকাল রবিবার বিকাল ৫টার দিকে প্রচণ্ড বেগে ঝড় হয়। এতে লাউয়াছড়া বনে রেললাইনের উপর একাধিক স্থানে গাছ ভেঙে পড়ে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রায় তিন ঘণ্টা কাজ করার পর রাত ৮টার দিকে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। এতে শ্রীমঙ্গল স্টেশনে আটকা পড়ে জয়ন্তীকা ও ভানুগাছ স্টেশন আটকা পড়ে পারাবত এক্সপ্রেস। অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড়ে লাউয়াছড়া বনের বেশ কয়েকটি বড় বড় গাছ শিকড় উপড়ে সড়কের ওপর পড়ে এবং কিছু গাছ ভেঙে রাস্তার পড়ে। এতে রাস্তার দুই পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঝড়ের মধ্যেই সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। এ সময় বনের ভেতর থাকা যানবাহনের যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ঝড় থামার পর প্রায় দুই ঘণ্টা বন বিভাগ ও স্থানীয়রা মিলে রাস্তা থেকে গাছ কেটে সরালে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়। সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিকাল ৫টার দিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ভেতর ঢুকলে ঝড়-বাতাস শুরু হয়। সে সময় গাড়ির সামনে বড় দুটি গাছ ভেঙে পড়ে। এতে অল্পের জন্য তাদের সিএনজি ড্রাইভারসহ অন্য যাত্রীরা রক্ষা পেয়েছেন। তিনি আরো বলেন, যে কোনো সময় আরো গাছ তাদের উপর পড়বে এই ভয়ে ছিলেন। শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, বড় গাছ কাটা ও সরানোর জন্য প্রয়োজন উন্নত সরঞ্জাম। তাদের কাছে এমন সরঞ্জাম না থাকায় কাছ কাটতে বিলম্ব হয়। লালবাগ এলাকার সুহেল আহমদ জানান, ঝড়ের সঙ্গে শিলা বৃষ্টি হয়ে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. দুদু মিয়া জানান, ঝড়ে তার ইউনিয়নের ৫/৬টি গ্রামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি ক্ষতির পরিমাণ ও পরিবারগুলো চিহ্নিত করেছেন। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু তালেব জানান, রবিবার বিকালে শ্রীমঙ্গলের উপর দিয়ে প্রবল শক্তিশালী এক ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ আসছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে। মৌলভীবাজার পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক আব্দুর রহিম জানান, এই ঝড়ে অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে মৌলভীবাজার পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির। তিনি বলেন কত জায়গায় বিদ্যুতের তার ও খুঁটি ভেঙ্গে পড়েছে তা বলে শেষ করা যাবে না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App