×

খবর

বন্ধ থাকবে প্রাক-প্রাথমিক

তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই স্কুল-কলেজ খুলছে আজ

Icon

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : শিগগিরই তাপপ্রবাহ কমার সম্ভাবনা না থাকলেও আজ রবিবার থেকে খুলছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলো। তবে প্রাক-প্রথমিক শ্রেণি বন্ধ থাকবে। গতকাল শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এর আগে গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। জারি হওয়া পৃথক দুটো আদেশেই বলা হয়েছে, তাপপ্রবাহ সহনীয় না হওয়া পর্যন্ত অ্যাসেম্বলি (প্রাত্যহিক সমাবেশ) বন্ধ থাকবে। মাউশির অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরবর্তী নির্দেশ নো দেয়া পর্যন্ত শনিবারও ক্লাস হবে। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, অর্থাৎ শনিবার আগের মতোই সাপ্তাহিক ছুটি থাকছে। এছাড়া এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষের বাইরে বা সূর্যের আলোতে যেসব কার্যক্রম থাকে সেগুলো সীমিত করা হবে। প্রসঙ্গত, ঈদের ছুটি শেষে গত ২১ এপ্রিল স্কুল-কলেজ খোলার কথা থাকলেও সারাদেশে তীব্র তাপদাহের কারণে বন্ধের মেয়াদ ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেছেন, দেশব্যাপী চলমান প্রাণঘাতী আপপ্রবাহের মধ্যে আগামী ২ মের আগে স্কুল খুলে দিলে শিশু-কিশোর ও কিশোরীদের হিটস্ট্রোকে মৃত্যুঝুঁকি থাকবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশুকল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টারগুলোতে আজ থেকে শ্রেণি কার্যক্রম চলমান থাকবে। এক পালায় (শিফটে) পরিচালিত বিদ্যালয়গুলো প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলবে। আর দুই পালায় বিদ্যালয়গুলোয় প্রথম পালা সকাল ৮টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা এবং দ্বিতীয় পালা সকাল পৌনে ১০টা থেকে থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলমান থাকবে। তবে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২৮ এপ্রিল রবিবার থেকে যথারীতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে এবং শ্রেণি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে শ্রেণি কার্যক্রমের যে অংশ শ্রেণিকক্ষের বাইরে পরিচালিত হয়ে থাকে এবং যেসব কার্যক্রমে সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসতে হয়, সেসব কার্যক্রম সীমিত থাকবে। তাপপ্রবাহ এবং অন্যান্য কারণে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকার ফলে যে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ এবং নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী শিখন ফল অর্জনের জন্য পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত শনিবারও শ্রেণি কার্যক্রম চলবে। গরমের দাপট না কমলেও স্কুল-কলেজ খুলে যাওয়ার সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। তারা বলেছেন, চতুর্থ দফায় হিট অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বৃদ্ধ ও শিশুদের এই তাপমাত্রার মধ্যে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুরা স্কুলে গিয়ে রোগব্যধিতে আক্রান্ত হলে এর দায় নেবে কে? এমনকি কোনো বাচ্চার যদি বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যায় তাহলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কি এর দায় এড়াতে পারবে? নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবারও স্কুল খোলা থাকবে। অর্থাৎ সপ্তাহে পাঁচ দিন নয়; এখন থেকে ছয় দিন স্কুলে যেতে হবে শিশুদের। এই সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য বলছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশু হাসপাতালের সাবেক পরিচালক শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সফি আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, এই তাপমাত্রার মধ্যে শিশুদের কোনোভাবেই ঘর থেকে বের হওয়া উচিত না। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে শিশুরা বাইরে গেলে নানা ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখাই ভালো। বৃষ্টি হওয়ার পর তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তখন স্কুল খুললে ভালো হতো।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App