×

খবর

রওশনের জাপার সভা স্থগিত, আরেক অংশের সভা আজ

Icon

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির (জাপা) আজ শনিবারের পূর্বনির্ধারিত পরিচিতি সভা স্থগিত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে জাপার এই অংশটি ৫ দিনব্যাপী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ১০টি স্থানে তীব্র তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ জনসাধারণের মধ্যে পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করবে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিজয়নগরের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানায় রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একই দিনে কাকরাইল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিউটে দলের বর্ধিত সভা ডেকেছে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। এ নিয়ে গত কয়েকদিন দুটি গ্রুপের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থও হন দুই অংশের নেতারা। পরে গতকাল শুক্রবার এমন সিদ্ধান্ত আসে। আজ শনিবারের দলের কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভায় নেতাকর্মীদের ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নিয়ে নির্দেশনা দেয়া ছাড়াও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জাতীয় পার্টিতে কী হয়েছিল দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সে বিষয়েও জানাবেন বলে জানা গেছে। সংবাদ সম্মেলনে রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, এই তীব্র তাপপ্রবাহে জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক সভাসমাবেশ করা তামাশার সামিল বলে আমরা মনে করি। তাই আগামীকালের (আজ) পরিচিতি সভা স্থগিত করে ৫ দিনব্যাপী ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে ১০টি স্থানে তীব্র তাপপ্রবাহে অতিষ্ঠ জনসাধারণের মধ্যে আমরা পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করব। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ও ব্যাংক খাতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। বড় বড় ব্যাংকগুলো ছোট ছোট ব্যাংক গিলে খাচ্ছে। এসব বিষয়ে আজ সংসদে কথা হচ্ছে না। আগে জাতীয় পার্টিকে বলা হতো গৃহপালিত বিরোধী দল। আর এখন বলা হয় কৃতদাস। জাতীয় পার্টির ওপর মানুষের আস্থা নেই। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি এ পার্টিকে কীভাবে গুছিয়ে রাখা যায়। কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, আগামীতে দুটি মার্কা ছাড়া অন্য মার্কা খুজে পাওয়া যাবে না। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেননও নিজেদের মার্কা বাদ দিয়ে নৌকায় উঠেছেন। তারপরও অনেককে ডুবে যেতে হয়েছে। নির্বাচন এখন নির্বাচনে নেই। একটি দলের মধ্যেই নির্বাচন হয়। সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, হঠাৎ করে বড়লোক হওয়ার একমাত্র পথ রাজনীতি। রাজনীতি নিয়ে অপরাজনীতি চলছে। এদিকে বর্ধিত সভা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জিএম কাদের বলেন, আমরা নির্বাচনের আগেও বর্ধিত সভা করেছিলাম। এখন আবার করছি। আমাদের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় অনেক বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। সেসব বিষয়ে আলোচনা হবে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দল নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলো সম্পর্কে কথা বলব। কী হয়েছিল, সামনে কী হবে, আমাদের কী করণীয় এসব নিয়ে আলোচনা হবে বর্ধিত সভায়। বিরোধীদলীয় নেতা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা করছেন, তা ওয়ান পার্টির চর্চা। এভাবে চলতে থাকলে দেশে কোনো রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব থাকবে না। এতে দেশে চরমপন্থার উত্থান হবে। আমি সংসদেও বলেছি, এখন যেভাবে ‘ওয়ান পার্টি রুল’ চলছে, তাতে জাতীয় পার্টি, বিএনপি কেউ থাকবে না। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের রাজনীতিও থাকবে না। নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক রাজনীতি না থাকলে কোনো দলই টিকবে না। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক চরিত্রও থাকবে না। অস্বাভাবিক রাজনীতির উত্থান হবে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App