×

খবর

মহিলা পরিষদের জাতীয় পরিষদ সভা শুরু

নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে মানবিক উন্নয়নে জোর

Icon

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : শুধু নারী হওয়ার জন্য পরিবার, সমাজ ও আইনি কাঠামোতে সুনির্দিষ্ট বৈষম্য রয়েছে। আইনি কাঠামো ও পারিবারিক দুর্বলতা, সামাজিক চিন্তা-চেতনার পশ্চাৎপদতা এবং ধর্মান্ধতা নারীর প্রতি সহিংসতাকে জিইয়ে রেখেছে। নারীর প্রতি এই বৈষম্য দূর করতে জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মানবিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জাতীয় পরিষদ সভা-২০২৪ এর উদ্বোধনী অধিবেশনে এ আহ্বান জানান বক্তরা। ‘নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করি, শক্তিশালী নারী আন্দোলন গড়ে তুলি’ প্রতিপাদ্যে গতকাল শুক্রবার সংগঠনটির দুই দিনব্যাপী জাতীয় পরিষদ সভা শুরু হয়েছে। সকালে ঢাকার শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে সভার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন (রিমি)। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক এবং অ্যাম্বাসি অব সুইডেনের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার (গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং লিঙ্গ সমতা উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগ) রেহানা খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে, মুক্তিযুদ্ধের আলোকে দেশপ্রেমকে সমুন্নত রাখতে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটছে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। এই জায়গায় মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে কাজ করে যেতে হবে। নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে নারীর প্রতি থাকা বৈষম্য দূর করে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক ড. তানিয়া হক বলেন, এই বিনিয়োগ শুধু জেন্ডার বাজেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজে নারীর অসম অবস্থানকে চিহ্নিত করে তা উত্তরণের জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। রেহানা খান বলেন, জেন্ডার সমতা অর্জন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৫ নম্বর লক্ষ্য অর্জনটি সুইডেন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। শুধু নারীর অর্জনকে সামনে না এনে চ্যালেঞ্জগুলো কী রয়েছে তার প্রতি মনোযোগ দেয়া দরকার। ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী হওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট বৈষম্য আছে পরিবারে, সমাজে, আইনি কাঠামোতে। আইনি কাঠামোর দুর্বলতা, পারিবারিক দুর্বলতা, সামাজিক চিন্তা-চেতনার পশ্চাৎপদতা এবং ধর্মান্ধতা নারীর প্রতি সহিংসতাকে জিইয়ে রেখেছে। নারীর প্রতি এই বৈষম্য দূর করতে সংগঠনকে অর্ন্তভুক্তিমূলক আন্তপ্রজন্মগত নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে হবে। মালেকা বানু বলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে উগ্রবাদ, মৌলবাদ, ধর্মান্ধতা থেকে নিজেকে ও সমাজকে মুক্ত করে প্রযুক্তির ব্যবহারে সক্ষমতা অর্জন, বাস্তব জগতে নিজেদের দৃঢ় অবস্থান তৈরি করে নারী আন্দোলনকে নতুন শতাব্দীর জন্য উপযোগী ও বিস্তৃত করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App