×

খবর

চট্টগ্রামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা বন্ধ ভোগান্তিতে রোগীরা

Icon

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামে দুই চিকিৎসককে মারধরের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বেসরকারি পর্যায়ে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখেছেন চিকিৎসকরা। জেলা ও মহানগরীতে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মিলিয়ে প্রায় ৬০০ প্রতিষ্ঠানে রোগী ভর্তি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা গতকাল সকাল ৬টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়। পাঁচ হাজারেরও বেশি চিকিৎসক চেম্বার বন্ধ রেখে ব্যক্তিগতভাবে কোনো রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেননি। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামে বেসরকারি খাতের চিকিৎসাসেবা। ভোগান্তিতে পড়েন চিকিৎসা বা বিভিন্ন টেস্ট করতে আসা রোগীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে সব ধরনের সেবা বন্ধ রাখে প্রতিষ্ঠানগুলো। বেসরকারি পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় শত-শত রোগী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেক রোগী ও তাদের স্বজনদের সকাল থেকে বিভিন্ন ল্যাব ও ক্লিনিকের সামনে অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ছিল রোগীর ব্যাপক চাপ। সংশ্লিষ্টরা বলেন, রোগীদের জিম্মি করে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিয়ে কর্মসূচি পালন করা অমানবিক। নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য হাজার হাজার রোগী ও রোগীর স্বজনদের এমন দুর্ভোগের মধ্যে ফেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা ও রোগ নির্ণয়কারী প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন রোগীরা। তবে কোনো চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন না চিকিৎসকরা। এছাড়া কোনো ধরনের টেস্টও করতে পারছেন না ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেবা না নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে রোগীদের। বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে সেবা না পাওয়ায় রোগীরা ছুটতে থাকেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ-চমেক হাসপাতালের দিকে। রোগীর চাপ বৃদ্ধিতে সেখানে গিয়েও সেবা পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগী ও স্বজনদের। ন্যাশনাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, বিএমএর কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে আমাদের সেবা বন্ধ রাখা হয়। কর্মসূচি শেষ হলে আমাদের সেবা পুনরায় চালু হবে। তবে হাসপাতালে যে রোগী ভর্তি আছে তাদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। নতুন রোগী ভর্তি বা কোনো টেস্ট করানো হচ্ছে না। পাশাপাশি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাক্টিসও বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান বলেন, আমাদের সহকর্মীকে মারধরের ঘটনায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বুধবার (২৪ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত আমাদের এ কর্মসূচি চলবে। তবে জরুরি চিকিৎসাসেবা এ কর্মসূচির আওতামুক্ত রয়েছে। বিএমএ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হলে আগামীতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। এদিকে, চমেক হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, বেসরকারি হাসপাতালে সেবা বন্ধ থাকায় অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল মঙ্গলবার চমেক হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি ছিল। অতিরিক্ত চাপের কারণে রোগীরা চমেক হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও সেবা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন অনেক রোগীর স্বজন। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। এ অবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতে চিকিৎসাসেবায় কোনো ব্যত্যয় না ঘটে, সেটা জোরালোভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. লিয়াকত আলী খান বলেন, ‘সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে নিবন্ধিত ৫৮০টি বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ল্যাব আছে। সবগুলোতেই জরুরি সেবা ছাড়া অন্য কোনো সেবা দেয়া হচ্ছে না। তবে যেসব রোগী আগে থেকে ভর্তি আছেন, তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’ রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোগীদের দুর্ভোগ হচ্ছে, এটা আমরা স্বীকার করছি। কিন্তু চিকিৎসকদের নিরাপত্তারও তো একটা বিষয় আছে। কর্মস্থলে একজন চিকিৎসক নিরাপত্তাহীন থাকলে তিনি চিকিৎসা দেবেন কীভাবে? দিনের পর দিন চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে, ইদানিং সেটা আরো বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থার অবসান হওয়া দরকার।’ প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল ‘পটিয়া জেনারেল হাসপাতালে’ দুর্ঘটনায় আহত এক রোগীকে চিকিৎসা দিতে দেরি হওয়ার অভিযোগ এনে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রক্তিম দাশকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ডা. রক্তিম দাশ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনার রেশ না কাটতেই ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে এনআইসিইউতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রিয়াজ উদ্দিন শিবলুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ডা. রিয়াজ বর্তমানে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এ দুই ঘটনার জের ধরে ১৮ এপ্রিল চমেক হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে মানববন্ধন করেন চট্টগ্রামের চিকিৎসকরা। এছাড়া গত ২০ এপ্রিল চট্টগ্রামের সব সরকারি- বেসরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেন চিকিৎসকরা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App