×

খবর

ছড়িয়ে পড়ছে ঢাকার অভিজাত এলাকায়

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডাকে এলো ভয়ংকর মাদক, গ্রেপ্তার ৩

Icon

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে পার্সেলে দেশে আসছে টেট্রাহাইড্রো ক্যানাবিনলযুক্ত কুশ (বিশেষ ধরনের গাঁজা), গাঁজার তৈরি চকলেট ও কেকসহ বিভিন্ন ধরনের উচ্চমূল্যের ভয়ংকর মাদক। এসব মাদক সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এমনই একটি চক্রের ৩ সদস্যকে প্রায় কোটি টাকার মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রাসেল মিয়া, রমজান মিয়া ও মো. ইমরান ওরফে রাজ। ডিএনসি বলছে, গত রবিবার পল্টনের ডাক ভবনের বৈদেশিক শাখায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে আসা একটি পার্সেল জব্দ করা হয়। সেই পার্সেল খুলে পাওয়া যায় প্রায় কোটি টাকা মূল্যের এসব মাদক। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় ওই ৩ জনের। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিএনসির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, পার্সেলটি খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে খেলনার মধ্যে বিশেষ কায়দায় ছয়টি প্যাকেটে ছিল টেট্রাহাইড্রো ক্যানাবিনলযুক্ত কুশ (আমেরিকার তৈরি), যার ওজন এক কেজি ৩০০ গ্রাম। এছাড়া ছিল আমেরিকায় তৈরি গাঁজার ৯টি চকলেট ও গাঁজার ১০টি কেক; যার বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা। পার্সেলে একটি ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দেয়া ছিল। তবে ঠিকানাটা ছিল ভুল। তাই মোবাইল নম্বর ধরে অভিযান চালায় ডিএনসি। প্রথমে পার্সেলে থাকা মোবাইল নম্বর ধরে প্রযুক্তির সহায়তায় আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাসেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানান, পার্সেলটি তিনি ডেলিভারি নেবেন। পরে তার কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে রিসিভ করার কথা ছিল রমজান মিয়ার। পরে আশুলিয়ার আমতলা এলাকা থেকে রমজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। রমজান জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তাকে টাকার বিনিময়ে পার্সেলটি রিসিভ করতে বলেন মো. ইমরান ওরফে রাজ। এরপর আমতলা থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় রাজকে। তারা দুজন বন্ধু। মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী আরো বলেন, যে প্যাকেটে মাদকগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসেছিল সেগুলো ছিল বাচ্চাদের খেলনার প্যাকেট। এটা করার কারণ যাতে কেউ বুঝতে না পারে এসব প্যাকেটে মাদক রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বিদেশ থেকে গাঁজার কেক, কুশ ও চকলেট এনে রাজধানীরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিল। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় এসব মাদক বৈধ কিংবা অবৈধ সেটি বিষয় না। বাংলাদেশে এই মাদক অবৈধ, তাই বাংলাদেশে এই মাদক পাঠানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বাংলাদেশে এটা অবৈধ জেনেই তারা শিশুদের খেলনার প্যাকেটে মাদক পাঠিয়েছে। এই পার্সেলটি যে কোনো আমেরিকান নাগরিক পাঠিয়েছেন বিষয়টি এমন নয়। ওখানে বসবাসরত অন্য কোনো দেশের নাগরিকও পাঠাতে পারেন। তরুণরা কীভাবে কোটি টাকার মাদকের কারবার করে আসছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মার্কেটিং অফিসার। আমরা তদন্তে জানার চেষ্টা করব তাদের অর্থের উৎস কী এবং তারা কীভাবে অর্থ সেখানে পাঠিয়েছে। এর সঙ্গে মানিলন্ডারিং জড়িত থাকতে পারে। তাদের পেছনে আরো কেউ আছে কিনা এমন সব বিষয়ে তদন্ত করব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App