×

খবর

শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা দেয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৮

Icon

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা দেয়ার নাম করে বিভিন্ন ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতে জড়িত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারের র?্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাব-৫ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লে. কর্নেল মো. মুনীম ফেরদৌস। গ্রেপ্তাররা হলেন- এ চক্রের হোতা জাকির হোসেন হাওলাদার (৪৭) ও মো. বাপ্পি মোল্লা (২০)। এছাড়াও আরো রয়েছেন- মো. উসমান গনি মোল্লা (৩৩), শামীম হোসেন (২৯), মোহাম্মদ জিহাদ (৩৪), কাজী সাদ্দাম হোসেন ওরফে আমির হামজা (২৬), মো. আহাদ গাজী (২৪) ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে জয় (২৬)। র‌্যাব জানায়, সারাদেশে চক্রটির ২ হাজারের বেশি সক্রিয় এজেন্ট বা সদস্য রয়েছে। এই চক্রের এজেন্ট হতে হলেও দিতে হয় অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও তাদের সঙ্গে জড়িত রয়েছে মোবাইল অপারেটর কোম্পানির সিম কার্ড বিক্রেতারাও। তারা কৌশলে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় অন্যের নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম সংগ্রহ করে প্রতারণামূলক কাজসহ মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খোলার কাজ করে থাকে। র‌্যাব-৫ এর সিও জানান, এক ভুক্তভোগীকে ২২ হাজার ৫০০ টাকা উপবৃত্তি দেয়ার নামে ফাঁদে ফেলে চক্রটি। পরে চার দফায় ১ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আরএমপির বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা জড়িতদের গ্রেপ্তারে র‌্যাব-৫ এর বরাবর অধিযাচনপত্র দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-৪, ৮, ১০, ১১ ও ১৪ এর সহায়তায় ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুর, কুমিল্লা, ফরিদপুর ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অভিযান চলিয়ে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, চক্রটির সদস্যরা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সরকারি অফিস থেকে শিক্ষা উপবৃত্তি টাকা দেয়ার তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর তারা ওয়েলকাম/হ্যালো গ্রুপ কলিং সেন্টারে শেয়ার করে। এরপর এ চক্রের হোতা জাকির হোসেনের দুই ছেলে মানিক ও হিরা কলিং সেন্টারের পরিচয়ে ফোন দেয় এবং নাম্বার নেয়। কথা বলে বিশ্বস্ততা অর্জন করে ওটিপি নিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে। এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-৫ সিও বলেন, সারাদেশে ওয়েলকাম/হ্যালো গ্রুপের ২ হাজারের বেশি এজেন্ট রয়েছে। এজেন্ট হতে হলে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে এন্ট্রি করতে হয়। এরপর মোবাইলে তাদের নামে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়। ইতোমধ্যে তদন্তে ১ হাজার ৮৬১টি মোবাইল নাম্বার শনাক্ত করা হয়েছে- যাতে টাকা লেনদেন হয়েছে। র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, শহরের দূরে অবস্থান করে এ চক্রের সদস্যরা। তাছাড়া তারা এক জায়গায় বেশি দিন থাকেনও না। মূল শহর থেকে ১৫-১৬ কিমি. দূরে অবস্থান করেন। অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা মাত্র কাছের কোনো এজেন্ট মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করেন। তারা নিজেরা অন্য কোনো যানবাহনে চলাচল না করে মোটরসাইকেলে চলাচল করেন। বাড়িতেও থাকেন না, থাকেন নির্জনে। বংশ পরম্পরায় অনেকে জড়িয়েছে প্রতারণায় উল্লেখ করে লে. কর্নেল মুনীম বলেন, এই প্রতারণাকে তারা ব্যবসা হিসেবে দেখেন। খারাপ কিছু ভাবেন না। প্রতারক চক্রে বাড়িতে বেড়াতে আসা আত্মীয়স্বজনরাও প্রভাবিত হয়ে অনেকে এই অভিনব প্রতারণা কাজে জড়িয়েছে বলে তথ্য রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App