×

খবর

কুমারখালীতে বৃষ্টির আশায় ‘ইস্তিসকার’ নামাজ আদায়

Icon

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তীব্র তাপপ্রবাহ থেকে রক্ষা পেতে ও বৃষ্টির প্রত্যাশা করে ‘ইস্তিসকার’ নামাজ আদায় শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৯টা দিকে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামের খড়িলার বিলে খোলা আকাশের নিচে নামাজ শেষে মোনাজাত করেন স্থানীয়রা। এতে ইউনিয়নের বল্লভপুর, রসুলপুর, ভবানীপুর, জোতমোড়া ও বরইচারা গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন। নামাজ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন রসুলপুর মাদ্রাসার হেফজখানার শিক্ষক মাওলানা মুফতি নাসির উদ্দিন আল ফরিদী। আজ মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবার একই স্থানে সকাল ৮টায় বৃষ্টির জন্য ‘ইস্তিসকার’ নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। জানা গেছে, কালবৈশাখীর মৌসুমেও প্রায় এক মাস বৃষ্টির দেখা নেই। নদীনালা, খালবিল ও পুকুর শুকিয়ে গেছে। পানির স্তর নেমে যাওয়ায় পানি উঠছেনা নলকূপ ও সেচপাম্পে। তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ক্ষেতে রোদে পুড়ে ফসল নষ্ট হচ্ছে। আম ও লিচুর গুটি ঝরে পড়ছে। শ্রমজীবী মানুষ রোদে বেশিক্ষণ কাজ করতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে তারা বৃষ্টির জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনার আয়োজন করেন। নামাজে সবাইকে অংশ নেয়ার জন্য আগে থেকেই মাইকে প্রচার করা হয়। সকালে সরজমিন খড়িলার বিলে গিয়ে দেখা যায়, নানা বয়সি মানুষ মাঠে হাজির হয়েছেন। সবাই নামাজ শেষে দুহাত তুলে তাপ্রপবাহ ও খরা থেকে রক্ষা পেতে বৃষ্টির জন্য মোনাজাত করেন। কৃষক মিরাজুল রহমান বিশ্বাস বলেন, বৃষ্টি জন্য আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করেছি। রসুলপুর মাদ্রাসার হেফজখানার শিক্ষক মাওলানা মুফতি নাসির উদ্দিন আল ফরিদী জানান, কুরআন ও হাসিদের আলোকে যতটুকু জানা যায়, তা হলো মানুষের পাপের কারণে মহান আল্লাহ অনাবৃষ্টি ও খরা দেন। বৃষ্টি না হলে আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) সাহাবীদের নিয়ে খোলা ময়দানে ‘ইস্তিসকা’ নামাজ আদায় করতেন। সেসময় তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে পাপের তওবা করতেন। ক্ষমা চেয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে বৃষ্টি চেয়ে প্রার্থনা করতেন। দহখোলা দক্ষিণ ভবানীপুর কওমি হাফেজিয়া মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা রাসেল মোল্লা বলেন, মঙ্গলবার (আজ) ও বুধবার (কাল) একই স্থানে বৃষ্টির নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। কুমারখালী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, সকালে ৩৩ থেকে ৩৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকছে। তবে বিকাল ৩টার দিকে তা বেগে ৩৯ থেকে ৪১ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে। তার ভাষ্য, প্রায় এক মাস কোনো বৃষ্টি হয়নি। আপাতত বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনাও নেই।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App