×

খবর

বিজিবি-বিএসএফের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

সীমান্তে দুই গ্রামের মানুষই ঠেকাবে মাদক চোরাচালান

Icon

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও আলোকিত সীমান্ত গড়তে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে উভয় দেশের সীমান্তবর্তী দুই গ্রামের জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে নওগাঁ জেলার সীমান্তের খয়েরবাড়ি এবং ভারতের ভুলকিপুর এলাকা। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের খয়েরবাড়ি এবং ভারতের ভুলকিপুর দুই দেশের সীমান্তবর্তী দুটি গ্রাম। এলাকা দুটি অধিক চোরাচালানপ্রবণ এলাকা হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। বিজিবি এবং বিএসএফ ক্যাম্প থেকে এই গ্রাম দুটি কিছুটা দূরে। সীমান্তের এই অংশে ভারতের কোনো কাঁটাতারের বেড়াও নেই। ফলে চোরাচালানিরা এখানে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। দুষ্কৃতকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকাকে মাদকপাচার ও চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বিজিবি ও বিএসএফ অনেক দিন ধরেই এই এলাকার মাদকপাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধের উপায় খুঁজছিলেন। এরই অংশ হিসেবে গত ২০ এপ্রিল বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে এক ব্যতিক্রমী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির ১৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পতœীতলা ব্যাটালিয়নের (১৪ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হামিদ উদ্দিন। অপরদিকে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট বিএসএফ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফ ১৩৭ ব্যাটালিয়নের পতিরামের কমান্ড্যান্ট শুকভীর ধাংগার। এই দুই ভূখণ্ডের নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও আলোকিত সীমান্ত গড়তে বিজিবি ও বিএসএফের অধিনায়ক পর্যায়ের বৈঠকটিও ছিল কিছুটা ভিন্ন ধরনের। এর আগে এলাকাটিকে মাদক ও চোরাচালান মুক্ত করতে বিজিবি-বিএসএফের অধিনায়ক পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা, বিভিন্ন কৌশল নির্ধারণ এবং এ বিষয়ে সহযোগিতার ভিত্তিতে কিছু কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। এ ব্যাপারে যৌথ পরিকল্পনাও নেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত ২০ এপ্রিলের বৈঠকে বিজিবি ও বিএসএফ মনে করে, শুধু নিরাপত্তামূলক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এই এলাকাকে মাদক ও চোরাচালানমুক্ত করা সম্ভব নয়। উভয় দেশের স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা এবং সীমান্তবর্তী তৃণমূল জনগণের বৃহত্তর সহযোগিতা প্রয়োজন। সব পক্ষের সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমেই সীমান্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দৌরাত্ম্য দমন করা সম্ভব। বৈঠকে বিজিবি-বিএসএফের সমন্বয়ে উভয় দেশের জনগণকে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার বৃহত্তর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উভয় দেশের সাধারণ মানুষ এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। বিজিবির পতœীতলা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল হামিদ উদ্দিন জানান, মাদক পাচারকারী ও চোরাকারবারিদের অন্ধকার জীবন থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিজিবি একটি মহতী উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগের মূল প্রতিপাদ্য হলো- ‘আলোকিত গ্রাম, আলোকিত মানুষ, আলোকিত সীমান্ত’। সীমান্তবর্তী এলাকার স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের হাতে থাকবে বইখাতা। তাদের চোখেমুখে থাকবে রঙিন স্বপ্ন। সীমান্তবর্তী কৃষক, বেকার ও সাধারণ মানুষ তাদের জীবন-জীবিকার জন্য মাদক পাচার ও চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নয়, বরং বেছে নেবে বিকল্প কোনো অর্থনৈতিক উপায়। সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন বদলে দেয়ার এই যুগান্তকারী উদ্যোগে বহুমুখী কার্যক্রম নিয়ে আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে বিজিবি সব সময় তাদের পাশে থাকবে। জীবন পাল্টে দেয়ার প্রতিশ্রæতিতে খয়েরবাড়ি গ্রামটি হয়তো হয়ে উঠবে বাংলাদেশের অন্যান্য সীমান্তবর্তী এলাকার জন্য অনুকরণীয় ‘মডেল গ্রাম’। ভবিষ্যতে মাদক ও চোরাচালানমুক্ত আলোকিত সীমান্ত গড়তে উভয় দেশের সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে আরো বড় পরিসরে বিভিন্ন খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বিজিবি ও বিএসএফ অধিনায়ক। একইসঙ্গে তারা সীমান্তবর্তী জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত আলোকিত সীমান্ত গড়তে একসঙ্গে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App