×

খবর

দুদকে ব্যারিস্টার সুমনের আবেদন

সাবেক আইজিপি বেনজীরের দুর্নীতি অনুসন্ধানের তাগিদ

Icon

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে কমিশন বরাবর এ আবেদন করেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। এ সময় তিনি বেনজীরকে নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করেন। আবেদনে বেনজীর আহমেদের পাশাপাশি তার স্ত্রী জিসান মির্জা, দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাশিন রাইসা বিনতে বেনজীরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়। পরে ব্যারিস্টার সুমন সাংবাদিকদের বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, প্রায় হাজার কোটি টাকার, তার দুর্নীতির বিষয়ে যে অভিযোগ এসেছে পত্রিকায়, হেডলাইন হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অনুসন্ধানের ব্যবস্থা না দেখে দুদকে এসে নাগরিক হিসেবে আবেদন করে বলেছি, এ বিষয়টির অনুসন্ধান করা দরকার। কারণ সাবেক আইজিপির যদি এত সম্পদ থাকে তবে বাংলাদেশের পুলিশ ফোর্সের মধ্যে যারা সৎ অফিসার আছেন তারা খুব বেশি হতাশাগ্রস্ত হবেন। আর যারা অসৎ আছেন, তারা মোটামুটি প্রতিযোগিতায় নামবেন। যদি অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে তাহলে তারা বলবেন, আমরা সবাই বেনজীর হতে চাই। আমার কাছে মনে হয়েছে, দেশের জন্য এটা একটা ভয়ানক বিষয়। দুদক পদক্ষেপ না নিলে কী করবেন, জানতে চাইলে সুমন বলেন, দুদক অনুসন্ধান শুরু না করলে আমি হাইকোর্টে যাব। সুমনের আবেদনের পর সুপ্রিম কোর্টে দুদকের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, জানতে পেরেছি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সম্পদ নিয়ে যে খবর ছাপা হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে ব্যারিস্টার সুমন দুদকে একটি দরখাস্ত দাখিল করেছেন। তার এই দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক তার আইন ও বিধি অনুসারে যাচাই-বাছাই করবে। কমিশন যদি মনে করে এটি দুদকের আওতার মধ্যে পড়ে তাহলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেবে। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে ব্যক্তি মুখ্য নয়। কে কী সেটি এখানে ইস্যু নয়। দুদক দেখে যে অভিযোগটি তফসিলভুক্ত অপরাধের মধ্যে পড়ে কিনা। কমিশন দেখবে তথ্যে সত্যতা কতটুকু। এখানে অনেকগুলো ধাপ আছে। তিনি (সায়েদুল হক সুমন) যে দরখাস্ত দিয়েছেন তা যাচাই-বাছাই কমিটিতে যাবে। কমিটি সেটি দেখে সিদ্ধান্ত দেবে। এরপর কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে কমিশন যদি মনে করে অনুসন্ধান করা উচিত, তারা সেটি করবে। সুমনের আবেদনে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশ পুলিশের ৩০তম আইজিপি ছিলেন। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি অবসরে যান। কিন্তু চাকরিতে থাকাকালে তার স্ত্রী ও মেয়েদের নামে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে খবর বেরিয়েছে, যে সম্পদগুলো তার আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ওই আবেদনে বলা হয়, বেনজীর আহমেদের বৈধ আয়ের চেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের পরিমাণ অনেক। ফলে বেনজীর আহমেদ চাকরিতে থাকাকালে পদ-পদবি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে। অতএব, বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী-সন্তানদের সম্পদের তদন্তে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করছি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App