তথ্য উপদেষ্টা
পরিবহন খাতে দুর্নীতি বন্ধের তাগিদ
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কাগজ প্রতিবেদক : সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের সমাজের উচ্চপর্যায়ের কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকলে তার বিচার আর হয় না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার ভোরে রাজধানীর পূর্বাচলে বেপোরায়া গতির প্রাইভেট কারের ধাক্কায় বুয়েটের এক শিক্ষার্থী নিহত হন। ওই প্রাইভেট কার চালাচ্ছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তার ছেলে। সেই ঘটনা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বুয়েটের একজন মারা গেল। একটা ধারণা যে সমাজের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে যারা আছেন, তাদের বিচার হয় না, জবাবদিহি হয় না। এখানে সাধারণ মানুষের জীবনটাই আসলে যায়। এই চিত্র আমাদের সমাজে আছে। এটার পরিবর্তন দরকার।
গতকাল শনিবার রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে (পিআইবি) ‘সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি। বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এ সংলাপের আয়োজন করে। দিনব্যাপী এই সংলাপে সড়ককেন্দ্রিক বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও পরিবহন সেক্টরের অংশীজন তাদের মতামত ও বক্তব্য তুলে ধরেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সবাইকে বিচারের আওতায় আনা দরকার। এখানে কাঠামোগত সংস্কার দরকার। উন্নয়নের নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। পরিবহন খাতে দুর্নীতি চলমান আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের দল দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল, আবার এখন আরেক দল রয়েছে। এই দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা দরকার। কারণ রাজনৈতিক কর্মীরাই এগুলোয় জড়িত।
পরিবহন খাতের সমস্যা বহুমুখী উল্লেখ করে উপদেষ্টা নাহিদ বলেন, এখানে দুর্নীতির সমস্যা রয়েছে। রাজনৈতিকীকরণের সমস্যা রয়েছে। শিক্ষা ও জনসচেতনতার সমস্যা রয়েছে। আমাদের অদক্ষতা ও নিয়মনীতি না মানার বাস্তবতা আছে। এখানে বহুমাত্রিক সমস্যা, তাই এটার সমাধানও চ্যালেঞ্জের। সব অংশীজনকে একত্রে আনতে হবে। এখানে রাজনৈতিক চাপ থাকবে; কারণ একটা সুবিধাভোগীগোষ্ঠী এতে জড়িত।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ছিল আমাদের জন্য মূলভিত্তি। সে সময় স্কুল-কলেজের দুজন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে এই আন্দোলন শুরু হয়। মানুষের দীর্ঘদিনের একটা ক্ষোভ ছিল। নিরাপদ সড়ক না থাকায় মানুষের ভোগান্তি ছিল। ওই আন্দোলন সহিংসভাবে দমনের চেষ্টা করে সেই সময়ের সরকার। বিগত ১৫ থেকে ১৬ বছর আমরা উন্নয়নের গল্প শুনেছি। ব্যাপক উন্নয়ন বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের একটা ন্যারেটিভ। আমরাও দেখতে পেয়েছি অনেক রাস্তাঘাট, মহাসড়ক, সেতু হয়েছে। এত উন্নয়ন সত্ত্বেও নিরাপদ সড়ক নিয়ে আন্দোলন হয়েছে। তার মানে এই উন্নয়ন জনকল্যাণমূলক হয়নি। এই উন্নয়নের সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা যোগ হয়নি। এগুলো কাঠামোগত উন্নয়ন দেখানো হয়েছে। সেসব উন্নয়নের সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপদ সড়কের সম্পর্ক ছিল না। আমাদের উন্নয়ন নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত উন্নয়ন করতে হবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মো. ইয়াসীন বলেন, বিআরটিএ ও পুলিশ সড়কে শৃঙ্খলা আনতে হিমশিম খাচ্ছে। কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না। ফুটপাত দখলমুক্ত করার পরই আবার দখল হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, রাস্তায় কোনো পুরনো গাড়ি থাকবে না। বিআরটিএর সব ম্যাজিস্ট্রেট রাস্তায় রয়েছে।
বিআরটির চেয়ারম্যান এরপর এসব আয়োজন সরাসরি স্টেকহোল্ডার বা পরিবহন মালিক বা শ্রমিকদের সঙ্গে করার কথা উল্লেখ করে বলেন, এরপরের আয়োজনটা সায়েদাবাদ করলে ভালো হবে।
জাতীয় এ সংলাপে আরো অংশ নেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক আরমানা সাবিহা হক প্রমুখ।
