×

শেষের পাতা

সিলেটের পর্যটন খাতে বড় ধাক্কা

বন্যায় ক্ষতি ৫শ কোটি টাকা

Icon

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের পর্যটন খাতে বড় ধাক্কা

খালেদ আহমদ, সিলেট থেকে : ‘সুরমা গাঙের পাড় বাড়ি, শাহজালালের উত্তরসূরি, কথায় কথায় বেটাগিরি, আমরা হক্কল সিলটি, আমরা হক্কল সিলটি’। সিলেটের জনপ্রিয় এই আঞ্চলিক গানের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। শুধু গানই নয়, সিলেট কারো কাছে আধ্যাত্মিক নগরী, কারো কাছে চায়ের দেশ, কেউবা বলেন দ্বিতীয় লন্ডন, কারো চোখে প্রকৃতিকন্যা। এমন ভিন্ন ভিন্ন নামে খ্যাত সিলেটে এখন চলছে পর্যটনের ভরা মৌসুম। তবে দফায় দফায় বন্যার কারণে ঘোষণা দিয়ে পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। এতে ধস নেমেছে সিলেটের পর্যটন শিল্পে।

পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিলেটে দফায় দফায় বন্যায় শুধু পর্যটন খাতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে কোটি টাকার উপরে। এ বিশাল ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

মূলত দিগন্তবিস্তৃত নীল জলরাশি হাওরের কারণে সিলেটে বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক পর্যটক সমাগম ঘটে। তবে এবার বর্ষার আগেই বন্যা দেখা দেয়। এর প্রভাবে গত ঈদুল আজহায়ও পর্যটকমুখর হয়নি প্রকৃতিকন্যা সিলেট। এতে পর্যটন খাতে বড় ধাক্কা খেতে হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, গত ২৯ মে ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটে প্রথম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ৮ জুনের পর পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়। বন্যার দ্বিতীয় ধাক্কা আসে ১৬ জুন। সেদিন আবার পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সীমান্তবর্তী দুই উপজেলা বন্যার কবলে পড়ে। পরে নগর এলাকাসহ জেলার ১৩টি উপজেলায় বন্যা দেখা যায়। গত ১৯ জুন অতিবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ওই সব উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এছাড়া ১৭ জুন থেকে সুনামগঞ্জ জেলায় ফের বন্যা দেখা দেয়। পরে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় তা বিস্তৃত হয়। এরপর ২৫ জুন থেকে সিলেট অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা উন্নতি হতে শুরু করে। তবে ১ জুলাই থেকে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বেড়ে আবার বন্যা পরিস্থিতি তীব্র আকার ধারণ করে। সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জে এখন বন্যার পানি নামছে।

ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় বন্যার কারণে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। সদর, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাড়া বাকি সব উপজেলায় গত সোমবার পর্যন্ত ২১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করে ৯ হাজার ৬৪২ জন মানুষ। দফায় দফায় বন্যায় গৃহহীন হয়ে পড়ে অনেক মানুষ। পর্যটন কেন্দ্রগুলোও রয়েছে পানিতে নিমজ্জিত।

সিলেট হোটেল-মোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলায় পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল রয়েছে। যার বেশির ভাগ এখনো ফাঁকা। গত ঈদের দিন থেকে বন্যা শুরু হওয়ায় পর্যটক কেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল প্রশাসন। এরপর নিষেধাজ্ঞা ওঠে গেলেও আর সিলেটমুখী হননি পর্যটকরা।

সিলেট হোটেল, মোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সুমাইয়াত নুরী জুয়েল বলেন, বন্যার কারণে ঈদুল আজহার সময় তার হোটেলে কোনো পর্যটক আসেনি। হোটেলের রুম বুকিং ছিল একেবারে নিল। ঈদ মৌসুমে এ রকম অবস্থা আগে কখনো হয়নি। এখন বন্যার পানি নেমে যাচ্ছে, এরপরও দেখা মিলছে না পর্যটকের। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো হোটেল-মোটেল ব্যবসা ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

সিলেট চেম্বারের সভাপতি তাহমিন আহমদ বলেন, পর্যটনের সঙ্গে শুধু হোটেল নয়, অনেক বিষয় জড়িত। এর সঙ্গে পরিবহন, রেস্টুরেন্ট, শপিং মল ও নৌকার বিষয়টিও জড়িত। অর্থাৎ পর্যটকরা যেদিকে যাবেন, সেদিকে আর্থিক বিষয় সম্পৃক্ত। পর্যটক না আসায় সব খাতেই এর প্রভাব পড়েছে। বন্যায় এ পর্যন্ত পর্যটন খাতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, বন্যার কারণে শিল্প-বাণিজ্যের সব খাতে কোনো না কোনোভাবে ক্ষতি হয়েছে। এখন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পানি পুরোপুরি নেমে যায়নি। আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন অবস্থান করছেন।

তিনি আরো বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পর্যটনসমৃদ্ধ উপজেলাগুলোর নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যটন কেন্দ্রগুলো আবার মুখর হয়ে উঠবে বলে আশা করেন তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App