×

শেষের পাতা

ফের যুগপৎ আন্দোলনে নামছে বিএনপি

Icon

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 ফের যুগপৎ আন্দোলনে  নামছে বিএনপি

কাগজ প্রতিবেদক : দীর্ঘ বিরতির পর ফের যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেয়া দলগুলোকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচিতে নামছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে এবার যুগপৎভাবে ভারতের সঙ্গে ‘দেশবিরোধী’ চুক্তি, দুর্নীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে গুচ্ছ কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এককভাবে কর্মসূচি পালন করতে চায় তারা।

গত সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করলেও যৌথভাবে কর্মসূচি হয়নি। কয়েক মাস আগে শরিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এসব বৈঠকে পুনরায় যুগপৎ আন্দোলন শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বৈঠক সূত্র জানায়, কর্মসূচি প্রণয়নে দুএকদিনের মধ্যে মিত্র দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে বিএনপি। এর আগে আজ (বুধবার) দলের যুগ্ম মহাসচিবদের সঙ্গে বৈঠক করবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাদের কাছে থেকে কর্মসূচির ব্যাপারে মতামত নেয়া হবে। বৈঠক সূত্র জানায়, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের এই সময় বিএনপি সমমনাদের নিয়ে অন্তত ৩টি ইস্যুতে আন্দোলন চালাতে চায়।

দলের নেতারা মনে করেন, সার্বিকভাবে দেশের ক্রান্তিকাল চলছে। দুর্নীতির নানা চিত্র গণমাধ্যমে উঠে আসছে। এই ক্রান্তিকালে দেশের সমস্যা নিয়ে বিএনপি সরব থাকা উচিত। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের পাশাপাশি আরো কয়েকটি ইস্যুতে কর্মসূচি দেয়া হবে। এবার যুগপৎভাবে এসব কর্মসূচি পালন করা হতে পারে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের মহানগর ও জেলা সদরে তিন দিনের সমাবেশ কর্মসূচি শেষে গত সোমবার রাতে দলের পরবর্তী সময়ে কর্মসূচি নিয়ে বৈঠকে বসে স্থায়ী কমিটি। এ পর্যায়ে জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে গণঅনশন, স্বেচ্ছা কারাবরণসহ কয়েকটি কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বুধবার যুগ্ম মহাসচিবদের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বৈঠক আছে। তার ধারণা, আন্দোলন কর্মসূচির বিষয়ে মতামত নিতেই বৈঠক ডাকা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একজন নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে ১০টি ‘সমঝোতা চুক্তি’ হয়েছে। প্রতিটি ‘চুক্তি’ই দেশের স্বার্থবিরোধী। এখানে একতরফাভাবে ভারত লাভবান হয়েছে। এর প্রতিবাদে কর্মসূচি দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাছাড়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচি নেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়।

গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত ঢাকাসহ সারাদেশের মহানগর ও জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করায় স্থায়ী কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করে। এ ইস্যুতে পরবর্তী সময়ে কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি, নজিরবিহীন দুর্নীতি, দেশের ও বাইরের ব্যাংকগুলো থেকে ঢালাও ঋণ নেয়ার ফলে ঋণ ফাঁদ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে জনগণের ওপর চাপ বাড়ছে। এ বিষয়গুলোকে নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সমৃদ্ধ প্রতিবেদন তৈরি করে জনগণের সামনে তুলে ধরতে লিফলেট বিতরণ, সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

সম্প্রতি লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় সভায় তীব্র নিন্দা জানানো হয়। সীমান্তহত্যা বন্ধের জন্য সরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বিএনপি মনে করে, সরকার সীমান্তহত্যা বন্ধ করতে ভারতের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বাড়ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App