×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

শেষের পাতা

ধীরগতিতে পানি কমায় বানভাসিদের দুর্ভোগ

বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্যালাইন ও জীবন রক্ষাকারী ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

 ধীরগতিতে পানি কমায় বানভাসিদের দুর্ভোগ

কাগজ ডেস্ক : উত্তরের বিভিন্ন জেলায় নদনদীর পানি ধীরগতিতে কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ। বন্যাকবলিত এলাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিঘিœত হওয়ার পাশাপাশি গবাদিপশু রাখার স্থান ও গো-খাদ্য, স্যানিটেশনসহ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ ব্যপারে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কুড়িগ্রাম : জেলার নদনদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে সামান্য কমলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গতকাল কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র চিলমারী পয়েন্টে ৫৫ সেন্টিমিটার, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার পাটেশ্বরী পয়েন্ট ২৯ সেন্টিমিটার ও ধরলা কুড়িগ্রাম ব্রিজ পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বন্যায় প্লাবিত হয়েছে নয় উপজেলার ৪৯ ইউনিয়নের চার শতাধিক গ্রামের দেড় লক্ষাধিক মানুষ। পানিবন্দি পরিবারগুলো আট দিন ধরে গবাদি পশু-পাখিসহ পাকা সড়ক ও উঁচু বাঁধে আশ্রয় নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। বন্যার পানিতে তাদের বাড়িঘর তলিয়ে আছে। কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা ও কলা গাছের ভেলাই বানভাসিদের একমাত্র ভরসা।

বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্যালাইন, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বেশির ভাগ বানভাসিদের ঘরের মজুত খাবার ফুরিয়ে যাওয়ায় খাদ্য সঙ্কটে পড়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ৩৮৭ টন চাল, নগদ ২২ লাখ টাকা ও ১৮ হাজার শুকনো খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হলেও অনেকের ভাগ্যে জোটেনি এই ত্রাণ সহায়তা।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরিফ জানান, ২৩ হাজার ৪৫২ পরিবারের ১ লাখ ১৭ হাজার ২৬০ জন পানিবন্দি রয়েছে। তিনি আরো জানান, ৩৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ রয়েছে, ৩টি বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়েছে। বন্যার্তদের জন্য ৪০৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে এর মধ্যে ২৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২ হাজার ১৯২ জন বন্যার্ত আশ্রয় নিয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যার্তদের মাঝে ৩৮৭ মেট্রিক টন চাল, ২১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ও ১৮ হাজার ৯৮০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। ৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত রয়েছে। বানভাসিদের সহায়তায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ৮৩টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

গাইবান্ধা : জেলায় ব্রহ্মপুত্র ৬৩ সেন্টিমিটার ও ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বন্যার কারণে চার উপজেলার প্রায় এক লাখ মানুষ পানিবন্দি জীবনযাপন করছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোকসানা বেগম ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, বন্যার প্রভাবে এ পর্যন্ত জেলার ১৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাদ্রাসাসহ ২২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি কলেজ এবং ১১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ফুলছড়ি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র

বন্ধ ঘোষণা করে পরীক্ষার্থীদের

ভরতখালি উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের মাঝে জরুরি নিরাপত্তা, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, ভিটামিন ট্যাবলেট, পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট ও নিরাপদ পানি বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন ও দুর্যোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ডব্লিএফপির (ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম) অর্থায়নে ২০ হাজার পরিবারকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক জানান, ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। গতকাল সকাল ৯টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি স্টেশন পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটিার কমে বিপৎসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটিার কমে বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুল বলেন, এ পর্যন্ত গাইবান্ধার ৪টি উপজেলার বন্যার্ত মানুষের মাঝে ৩ হাজার ৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার, ১৬৫ মেট্রিক টন জিআর চাল এবং ১০ লাখ টাকা নগদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আরো ২৬৫ টন চাল মজুত রয়েছে। ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য নৌকা, স্পিড বোট প্রস্তুত রয়েছে।

জামালপুর : ধীরগতিতে কমছে যমুনা নদীর পানি। সোমবার বেলা ১২টায় যমুনা নদীর পানি জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে যমুনার পানি বিপৎসীমার নিচে নামতে আরো পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে পাউবো।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, জামালপুর সদর ব্যাতীত বাকি ছয় উপজেলার ৪০টি ইউনিয়নে এখন পানিবন্দি রয়েছেন ৫৮ হাজার ৫৩২টি পরিবারের ২ লাখ ৪৮ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে জেলার ১৫টি আশ্রয়ণ কেন্দ্রে রয়েছেন ৮৩৮ জন বানভাসি। এছাড়া বানভাসীদের স্বাস্থ্যসেবায় ২২টি মেডিকেল টিম গঠন করা হলেও বন্যাকবলিত এলাকায় কাজ করছে ১৭টি টিম। এছাড়া শিক্ষা বিভাগ থেকে জানা যায়, বন্যার পানি প্রবেশ করেছে ২৬৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ও ৮৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, সাত উপজেলার ১ হাজার ৮৬৮ হেক্টর জমির আউশ, ১০০ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলা, ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমির পাট, ৮৭৩ হেক্টর জমির শাক সবজি, ৩০ হেক্টর জমির তিল, ৭২.৫ হেক্টর জমির মরিচ, ৮৫ হেক্টর জমির ভুট্টা, ১২ হেক্টর জমির আখ ও ১৫ হেক্টর জমির কলা বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, এপর্যন্ত বানভাসিদের মাঝে ৫৩৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ সাত লাখ টাকা ও ৪ হাজার ৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৭৭৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৫ লাখ টাকা ও ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রয়েছে।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীর পানি যে নদীতে গিয়ে মিলিত হয় সেখানে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অঞ্চলের পানি কমতে সময় লাগছে। এছাড়া যমুনা নদী ও এর তীরবর্তী অঞ্চল সমান্তরাল এবং ঢালু না হওয়ায় পানি কমছে ধীরগতিতে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App