×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

শেষের পাতা

বগুড়ায় রথযাত্রা দুর্ঘটনা

আইসিইউতে দুজনের জন্য প্রার্থনায় স্বজনরা

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আজিজুর রহমান জিদনী ও হায়দার আলী : মেয়েসহ আমারও রথযাত্রায় যাওয়ার কথা ছিল। তবে কিছুটা অসুস্থ বোধ করায় সে বলেছিল, আমাদের বাসার সামনে দিয়ে রথ যখন যাবে তখন যেন আমরা অংশ নিই। রথ আসার অপেক্ষায় ছিলাম, কিন্তু কীসের ভেতর কী হয়ে গেল। এখন সে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তখন ছিলাম রথের অপেক্ষায়, এখন তার সুস্থ হয়ে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছি। গতকাল ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউয়ের বাইরে ভোরের কাগজের সঙ্গে চন্দন কুমার দেবের বিষয়ে এসব কথাই বলছিলেন তার স্ত্রী মালা দেব। বগুড়া জেলা শহরে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন চন্দন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন রঞ্জন চন্দ্র পালও। আহতদের স্বজনরা উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের একটাই প্রার্থনা সুস্থ হয়ে যেন ফিরে আসে দুজন।

বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সার্জন ডা. আহমেদুর রহমান সবুজ জানান, গতকাল সোমবার ভোরে দুজনকে এখানে আনা হয়। চন্দন কুমার দেবের শরীরে ২৫ শতাংশ আর রঞ্জন চন্দ্র পালের শরীরের ৯ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া দুজনেরই মাথায় আঘাত রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

আহতদের দেখতে গতকাল সোমবার সকালে বার্ন ইনস্টিটিউটে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। তিনি জানান, আহতদের যথাযথ ও সুষ্ঠু চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার সব খরচ সরকার বহন করবে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ মর্মান্তিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত।

গতকাল বার্ন ইনস্টিটিউটের আইসিইউয়ের বাইরে ভোরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেন রঞ্জন চন্দ্র পালের বড় মেয়ে রাখি পাল। তিনি জানান, তার বিয়ে হয়ে গেছে। বগুড়া সদর উপজেলার সেউজগাড়ি পালপাড়ায় তার ছোট দুই বোনকে নিয়ে থাকেন বাবা ও মা। বাবা মুদি দোকানি। গত রবিবার রথযাত্রা চলাকালে তার বাবা রথের পেছনে ধরে ছিলেন। আর মা ও ছোট দুই বোন ছিলেন সামনের দিকে। রথের উপরের অংশ বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শ এলে রথ ধরে থাকা তার বাবা বিদ্যুতায়িত হন। স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। রাখির ছোট দুই বোন- রিয়া পাল বগুড়া প্রিক্যাডেট হাই স্কুলের ৯ম শ্রেণির ও রিতি পাল প্রাইমারি স্কুলের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবাই সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। রাখি বলেন, ওই ঘটনায় বাবার মাথা ও কোমরের ওপর অংশসহ নানা জায়গায় আঘাত রয়েছে। শরীরে সাদা ব্যান্ডেজ মোড়ানো। বাবার কিছু হলে পরিবারের কী হবে? বাবার সুস্থ হয়ে ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করছেন তারা।

চন্দন কুমার দেবের ছেলে পরাগ দেব জানান, তারা থাকেন সদর উপজেলার দত্তবাড়ী এলাকায়। তার বাবা ইসকনের অনুসারী। দুর্ঘটনার খবর শোনার পর খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, হতাহতদের সবাইকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেলে নেয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে তার বাবাকে দেখতে পান। আইসিইউতে রাখা হয়েছিল তাকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল সোমবার ভোরে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। পরাগ বলেন, ঘটনার পর থেকে বাবা বারবার বুকে ব্যথার কথা বলছেন। তার মাথার পেছনে, কপালে, কানে জখম হয়েছে। বুক থেকে নিচের পুরোটা ব্যান্ডেজ মোড়ানো।

দগ্ধদের দেখতে গতকাল হাসপাতালে আসেন ইসকন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা। এ সময় কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জগৎ গুরু গৌরাঙ্গ দাস ভোরের কাগজকে বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকেই সার্বিক বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি। কেন্দ্রীয় নেতারা ঘটনাস্থলে গেছেন। নিহতদের সৎকার করাসহ অন্যান্য বিষয়ে সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। দগ্ধদের চিকিৎসায় আমরা সার্বিক সহায়তা চালিয়ে যাব। এরই মধ্যে তাদের নগদ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App