×

শেষের পাতা

গাজীপুরে মাটির নিচে মিলল ১৬ আর্জেস গ্রেনেড

Icon

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

এম নজরুল ইসলাম, গাজীপুর থেকে : মহানগরীর সদর মেট্রো থানার জোড়পুকুরপাড় এলাকায় একটি পরিত্যক্ত জমিতে মাটির নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৬টি আর্জেস গ্রেনেড পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে বোম ডিসপোজাল ইউনিট এসে গ্রেনেডগুলোর কয়েকটি নিষ্ক্রিয় করে ও কয়েকটির বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন র‌্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ রাফিউল করিম।

স্থানীয়রা জানায়, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বাসিন্দা ও সৌদি প্রবাসী আবুল কাশেম বাড়ি নির্মাণ করার জন্য গাজীপুর মহানগরীর সদর থানার দক্ষিণ ছায়াবীথি (জোরপুকুরপাড়) এলাকায় সাড়ে তিন কাঠা জমি কিনে বাউন্ডারি দিয়ে ফেলে রাখেন। সম্প্রতি তিনি জমিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রস্তুতি নেন। সোমবার সকালে ওই জমিতে শ্রমিকরা মাটি খনন কাজ শুরু করে। সকাল ৯টার দিকে মাটির খনন করার সময় গর্তের মধ্যে একটি মাটির কলস বেরিয়ে আসে। এ সময় আঘাত লেগে ভেঙে গেলে কলসের ভিতর গ্রেনেড সদৃশ কয়েকটি বস্তু দেখা যায়। পরে নিরাপত্তার জন্য এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে দেয়া হয় এবং সীমানা ঘেরা জমির গেটে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।

বাড়ির মালিক আবুল কাশেম বলেন, শ্রমিকরা সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি জানায়। পরে প্রথমেই ৯৯৯-এ ফোন দেই এবং নিজে গাজীপুর সদর থানায় গিয়ে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ রাফিউলল করিম জানান, গ্রেনেড সদৃশ কিছু বস্তু পাওয়া গেছে। বেলা ১২টার দিকে ঢাকা থেকে বোম ডিসপোসাল ইউনিটের ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে আসে। দুটি অত্যাধুনিক রোবটসহ দলটি ঘটনাস্থলে এসে আশপাশের লোকজনকে সরিয়ে দেয়। পরে কলসের ভিতর থেকে ১৬টি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার করে। পরে বিকাল ৪টার দিকে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়। এ সময় হ্যান্ড মাইকে ঘোষণা দিয়ে নিরাপদ স্থানে গ্রেনেটগুলো কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

গ্রেনেড নিস্ক্রিয়করণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বোম ডিসপোজাল ইউনিটের টিম লিডার ও সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে আমরা এসে দেখতে পেলাম, একটি মটকার (মাটির কলসি) ভিতরে প্রচুর শক্তিশালী গ্রেনেড, যাকে আর্জেস গ্রেনেড বলা হয়। এ কারণে এ জায়গাটা আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল; যে কারণে আমরা আমাদের আরওভি রোবট (রিমোটলি অপারেটর ভেহিকেল) এই রোবটের মাধ্যমে প্রত্যেকটি গ্রেনেড আমরা দেখার চেষ্টা করি গ্রেনেডের পিনগুলো অক্ষত আছে কিনা। কারণ গ্রেনেডের পিন খুলে গেলে এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে।

তিনি আরো বলেন, পরবর্তী সময় আমরা গ্রেনেডগুলো আলাদা করতে সক্ষম হই। পরে আমাদের টিমের দুজন সদস্য বোম শ্যুট পড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রত্যেকটি গ্রেনেড আলাদাভাবে ডিসপোজ করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা জানেন আর্জেস গ্রেনেড একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময় ব্যবহার করা হয়েছিল। এটা আসলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার আছে। এগুলো আমরা নিয়ে যাব, এটা আমরা ফরেনসিক চেক করব, এটা আমরা বিস্ফোরক অধিদপ্তরে পাঠাব।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App