×

শেষের পাতা

ট্রানজিট ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বায়নের এই যুগে দরজা বন্ধ করে রাখতে পারি না

Icon

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ প্রতিবেদক : ভারতের সঙ্গে ট্রানজিটের সুবিধা বিনিময়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বায়নের যুগে আমরা নিজেদের দরজা বন্ধ করে রাখতে পারি না। আজকে পৃথিবীটা গেøাবাল ভিলেজ, একের অপরের ওপর নির্ভরশীল, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ- এসব ক্ষেত্রে দরজা বন্ধ করে থাকা যায় না। গতকাল বুধবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ট্রান্স-এশিয়া হাইওয়ে, ট্রান্স-এশিয়া রেলের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। আজকে ভারতকে আমরা ট্রানজিট দিলাম কেন? এটা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া। আমাদের ট্রানজিট তো আছেই। ত্রিপুরা থেকে বাস চলে আসে ঢাকায়, ঢাকা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত তো যাচ্ছে। এতে ক্ষতিটা কি হচ্ছে। বরং আমরা রাস্তার ভাড়া পাচ্ছি। সুবিধা পাচ্ছে আমাদের দেশের মানুষ। অনেকে অর্থ উপার্জনও করছে।

সরকারপ্রধান বলেন, সারাবিশ্বের সঙ্গে একটা যোগাযোগ হচ্ছে। আমরা নেপাল-ভুটানের সঙ্গে ট্রানজিট করেছি ভারতে। এটা কোনো একটা দেশকে নয়; আঞ্চলিক ট্রানজিট সুবিধা এবং যোগাযোগ সুবিধার জন্য করা হয়েছে। আমরা নেপাল, ভুটান, ভারত ও বাংলাদেশ- এই চারটি দেশ নিয়ে প্রতিটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা, ট্রানজিটের ব্যবস্থা করেছি। আজকে নেপাল থেকে আমরা জলবিদ্যুৎ কেনা শুরু করতে যাচ্ছি, সেখানে গ্রিড লাইন করা, আমরা সেই চুক্তি করেছি, সেটা আমরা কার্যকরও করছি, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর যেসব রেলপথ, নৌ পথ- যোগাযোগ বন্ধ ছিল সেগুলো আমরা উন্মুক্ত করে দিচ্ছি। আজকে ভারত রেল নিয়ে

যাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ভুটান থেকে একটি রাস্তা যাচ্ছে মিয়ানমার হয়ে থাইল্যান্ড পর্যন্ত; অথচ সেই রাস্তাটা যাচ্ছে বাংলাদেশকে বাইপাস করে। বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে যে রোড হচ্ছে তা থেকে বিচ্ছিন্ন, কেন আমরা বিচ্ছিন্ন থাকব। ভারত চাচ্ছিল ভুটান থেকে এই রাস্তাটা বাংলাদেশ হয়ে, ভারত হয়ে মিয়ানমার হয়ে থাইল্যান্ডে যাবে। আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ সব কিছু কত সুবিধা হতো। সেটাও খালেদা জিয়া নাকচ করে দিয়েছিল। এই হলো অবস্থা। আমি প্রথমবার সরকারে এসে অনেকবার চেষ্টা করেছি কিন্তু আমরা যুক্ত হতে পারিনি।

ভারত থেকে পাইপলাইনে তেল নিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা আসামের রুমালিগড় থেকে পাইপলাইনে তেল নিয়ে এসেছি। পার্বতিপুর ডিপোতে সেই তেল আসছে। ক্ষতিটা কী হয়েছে। বরং আমরাই কিন্তু স্বস্তায় কিনতে পারছি। আমাদের দেশের জন্য, ওই অঞ্চলের মানুষের চাহিদা আমরা পূরণ করতে পারি। উত্তরাঞ্চলে কোনো শিল্পায়ন হয়নি, এখন শিল্পায়নে আমরা যেতে পারি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রও আমরা নির্মাণ করেছি। আমরা নিজেদের দরজা তো বন্ধ করে রাখতে পারি না। এটাই তো কথা।

খালেদা জিয়া মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার সুযোগ নষ্ট করেছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কী সমস্যা দেশের জন্য করেছে দেখেন- মিয়ানমারের গ্যাস ফিল্ডের গ্যাস ভারত, চীন, জাপান সবাই চাইছে। এই গ্যাসকে বাংলাদেশের ভেতর থেকে ভারতে নিয়ে যাবে, এই নিয়ে যাওয়ার সময় এই গ্যাস থেকে আমরা একটা ভাগ নেব। তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামসহ ঐ এলাকায় আমাদের গ্যাসের কোনো অভাবই হতো না। খালেদা জিয়া সেটা নিতে দেয়নি। কেন দেয়নি?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে সেই গ্যাস নিচ্ছে চীন। আর কোনো দেশ নিতে পারছে না। আমরা সরকারে আসার পর কথা বলেছিলাম মিয়ানমারের সঙ্গে, আনতে পারি কিনা। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। তারা এটা অলরেডি দিয়ে দিয়েছে।

বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ সালের বাজেট যাতে কার্যকর হয়, বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়- সে জন্য সংসদ সদস্যদের যতœবান হতে হবে। বর্তমানে বৈশ্বিক যে মূল্যস্ফীতি রয়েছে, তা বিবেচনায় রেখে সবাইকে কৃচ্ছ্রসাধন করতে হবে। তিনি বলেন, আমার তো হারাবার কিছু নেই, আমার একটাই লক্ষ্য- বঙ্গবন্ধরু স্বপ্নের বাংলাদেশ বির্নিমাণ, দেশের দরিদ্র, গৃহহীন, নিঃস্ব^ মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, তাদের চিকিৎসা, স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। এদেশে কাউকে গৃহহীন থাকতে দেব না। আগামী ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত সম্মৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ ।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App