×
Icon এইমাত্র
কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূল ভবনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ। কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগে শুনানি রবিবার: চেম্বার আদালতের আদেশ ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট হ্যাক ‘লাশ-রক্ত মাড়িয়ে’ সংলাপে বসতে রাজি নন আন্দোলনকারীরা

শেষের পাতা

এমপি আনার হত্যা

কিলিং মিশনের সদস্যদেরও ট্র্যাপে ফেলেন হোতা শাহিন

Icon

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কিলিং মিশনের সদস্যদেরও ট্র্যাপে ফেলেন হোতা শাহিন

ইমরান রহমান : কলকাতার সঞ্জীবা গার্ডেন্সে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার ঘটনায় যতই সময় যাচ্ছে; ততই বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কিলিং মিশনের আদ্যোপান্ত বেড়িয়ে এলেও সঞ্জীবা গার্ডেন্সের ফ্লাটটিতে তাদের বিচ্ছিন্নভাবে মিলিত হওয়া, এমপি আনারের অশ্লীল ভিডিও করে ব্লাকমেইলের আগেই হত্যা করা, বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডে নির্দেশদাতার ভূমিকা পালন করে আসা চরমপন্থি শিমুল ভূঁইয়ার নিজের উপস্থিতি, কয়েকজনের হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকে না জানার বিষয়গুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন গোয়েন্দারা। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মনে হচ্ছে- এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ড আখতারুজ্জামান শাহিন কিলিং মিশনে অংশ নেয়া সদস্যদেরও ধোঁকা দিয়ে ট্রাপে ফেলেন।

কিলিং মিশনের একজন সদস্য যখন আনারের গলায় ছুরি মেরে বসেন; তখন অন্যদের কাছে লাশ টুকরো করে গুম করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। শাহিনের এই ধোঁকায় পড়ে থাকতে পারেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু ও ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুও। তাদের খুবই সূ²ভাবে ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের মিশন সফল করেছেন শাহিন। হত্যাকাণ্ড ঘটলে উদ্ঘাটিত হবেই- এমন চিন্তা থেকে নিজে নিরাপদে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন। ফলে এখনো রহস্যের বৃত্তেই রয়ে গেছে হত্যাকাণ্ডের মোটিভ। আসামিদের কেউ এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছুই বলতে পারছে না। রাজনৈতিক বিরোধ ও স্বর্ণ চোরাচালানের দ্ব›দ্বকে মোটিভ হিসেবে ধারণা করা হলেও এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে কিনা- সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে সামনে আসছে। ডিবি পুলিশও দাবি করেছে, শাহিনকে গ্রেপ্তার করা না গেলে এই হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট মোটিভ বের করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এদিকে এমপি আনারকে খুনের উদ্দেশে অপহরণের মামলার আসামি ফয়সাল আলী সাহাজী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল বুধবার ৬ দিনের রিমান্ড শেষে ফয়সালকে আদালতে হাজির করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার মাহফুজুর রহমান। এরপর আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ডের আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আদালত সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত মঙ্গলবার এ মামলার আরেক আসামি মোস্তাফিজুর রহমান ফকির আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সবমিলিয়ে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার ৭ জনের ৬ জনই স্বীকারোক্তমূলক জবানবন্দি দিলেন। জবানবন্দি দেননি শুধু ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু। ডিবি সূত্র জানায়, কিলিং মিশনের সবাই এমপি আনারকে হত্যার

বিষয়ে জানতেন না। শাহিন কাউকে কাউকে বলেছেন, এমপি আনারের অশ্লীল ভিডিও করে ব্লাকমেইলে ফেললে মোটা অংকের টাকা পাওয়া যাবে। ব্লাকমেইলে ফেলার সব ব্যবস্থা করে দেবেন শাহিন। সে উদ্দেশ্যে আনারকে চেয়ারেও বেঁধে অচেতন করা হয়। এরই মধ্যে একজন গলায় ছুরি চালিয়ে দেয়। তখন লাশ টুকরো করে গুম করা ছাড়া তাদের সবার আর কোনো উপায় হাতে ছিল না। বিশেষ করে হত্যার দুদিন আগে শাহিন বাংলাদেশে চলে এলেও শিমুল ভূঁইয়ার সেখানে থেকে যাওয়াটাই ট্রাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে বেশি। কারণ চরমপন্থি নেতা শিমুল বেশ কিছু হত্যাকাণ্ড ঘটালেও নিজে কখনো কিলিং মিশনে অংশ নেননি। নিজের অনুসারী পাঠিয়ে সব হত্যাকাণ্ড ঘটাতেন। শিমুল ভূঁইয়া তার জবানবন্দিতে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সবশেষ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেপ্তার আসামি মোস্তাফিজ ও ফয়সালকে বড় অংকের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে একটা কাজ করে দেয়ার জন্য কলকাতায় যেতে বলেন শিমুল ভূঁইয়া। পাসপোর্ট, ভিসা, টিকেটসহ সব কাজ শিমুল ভূঁইয়া করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। জরুরি পাসপোর্ট করার জন্য মোস্তাফিজ ও ফয়সালকে টাকাও দেন শিমুল ভূঁইয়া। ১৫ এপ্রিল খুলনা থেকে ঢাকায় এসে শাহিনের বসুন্ধরার বাসায় ওঠেন মোস্তাফিজ ও ফয়সাল। পরদিন শাহিনের পিএস সিয়াম হোসেন এসে তাদের যমুনা ফিউচার পার্কের ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। এ সময় সিয়াম মোস্তাফিজ ও ফয়সালকে বলেন, শাহিন স্যারই আপনাদের পাসপোর্ট করার জন্য টাকা দিয়েছেন। তিনিই আপনাদের দ্রুত ভিসা করে দেয়ার ব্যবস্থা করছেন।

১৫-২৪ এপ্রিল মোস্তাফিজ ও ফয়সাল শাহিনের তত্ত্বাবধানে বসুন্ধরার বাসায় ছিল। এ সময় শাহিনের পিএস সিয়াম হোসেন তাদের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। সিয়াম তাদের জানিয়েছিলেন, তাদের ভিসার জন্য শাহিন ব্যাংক স্টেটমেন্ট, মেডিকেল প্রেসক্রিপশনসহ আনুষঙ্গিক কাজে প্রচুর টাকা খরচ করেছেন। ২৫ এপ্রিল ভারতীয় মেডিকেল ভিসা পেয়ে ঢাকা থেকে খুলনা ফিরে যান। এরপর শিমুল ও শাহিনের পরিকল্পনা মোতাবেক মোস্তাফিজ ও ফয়সাল ২ মে কলকাতায় যান এবং নিউমার্কেট এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০ মে কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেন্সের বাসায় যান মোস্তাফিজুর। মিশন শেষে ১৯ মে কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরেন মোস্তাফিজ ও ফয়সাল। ওঠেন শাহিনের বসুন্ধরার বাসায়। পরবর্তী সময়ে আনারের মেয়ে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা রুজু করলে মূলঘাতক শিমুল ভূঁইয়া গ্রেপ্তার হয়। এতে পুলিশের তৎপরতা টের পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান মোস্তাফিজ ও ফয়সাল।

উল্লেখ্য, বাড়ি থেকে বেরোনোর ৫ দিন পর ১৮ মে কলকাতার বরাহনগর থানায় আনোয়ারুল আজীম নিখোঁজের বিষয়ে একটি জিডি করেন তার বন্ধু গোপাল বিশ্বাস। এরপরও খোঁজ মেলেনি তিনবারের এ সংসদ সদস্যের। ২২ মে হঠাৎ খবর ছড়ায়, কলকাতার পার্শ্ববর্তী নিউটাউন এলাকায় সঞ্জীবা গার্ডেন্স নামে একটি আবাসিক ভবনের বিইউ ৫৬ নম্বর রুমে আনোয়ারুল আজীম খুন হয়েছেন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App