×
Icon ব্রেকিং
রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ

শেষের পাতা

মেডিকেল অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সভা আজ

ডব্লিউএফএমইর শর্ত পূরণে তোড়জোড়

Icon

সেবিকা দেবনাথ

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ডব্লিউএফএমইর শর্ত পূরণে তোড়জোড়

বিভিন্ন দেশ থেকে সরকারি হাসপাতালের জন্য চুক্তি ভিত্তিতে চিকিৎসক নিচ্ছে ওমান। তবে সেখানে বাংলাদেশ থেকে এমবিবিএস পাস করা কোনো চিকিৎসক আবেদন করতে পারবেন না। শুধু বাংলাদেশ নয়- চীনা, রাশিয়া ও ইউক্রেনের এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসকরাও আবেদন করতে পারবেন না।

ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের (ডব্লিউএফএমই) শর্ত পূরণ করতে না পারার কারণেই কি ওমান সরকারের এমন সিদ্ধান্ত? এ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন বিষয়টি তা নয়। কারণ ডব্লিউএফএমইর শর্ত মেনে ইতোমধ্যেই সংসদে বাংলাদেশ চিকিৎসা শিক্ষা অ্যাক্রেডিটেশন বিল- ২০২৩ পাস হয়েছে। মেডিকেল অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলও গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষক, অবকাঠামোসহ নানা সংকট সমাধানসহ যে শর্তগুলো ছিল; সেগুলোও পূরণে কাজ চলছে। যা ডব্লিউএফএমইর সভাপতিকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।

জানা যায়, ২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক নেয় ওমান সরকার। তখন প্রায় দেড়শ বাংলাদেশি চিকিৎসকের চাকরি হয় সেখানে। সেই চিকিৎসকদের দারুণ সুনাম ওমানে। তাই পরে বাংলাদেশ থেকে আরো চিকিৎসক নেয়ার পরিকল্পনা নেয় ওমান সরকার। ঢাকায় আসেন ওমান স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় তারা আর বাংলাদেশ থেকে কোনো চিকিৎসক নেয়নি। ঝুঁকে পড়ে শ্রীলঙ্কার চিকিৎসকদের দিকে।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন ভোরের কাগজকে জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মেডিকেল অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। মেডিকেল অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদকে।

তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের জন্য এখনো সরকারি নতুন অফিস হয়নি। কিন্তু তাই বলে কার্যক্রম বন্ধ নেই। ইতোমধ্যেই কাউন্সিলের কার্যক্রম শুরু করেছি। কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষার ক্ষেত্রে ডব্লিউএফএমইর প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা যে কাজ করছি তা ফেডারেশনের সভাপতিকে আমরা চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। আজ সকাল ১০টায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ে মেডিকেল অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হবে।

চলতি বছরে জুনের মধ্যে ডাব্লিউএফএমইর শর্ত পূরণের সময় সীমা শেষ হওয়া প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই সময়ের মধ্যেই সব শর্ত পূরণ হয়ে যেতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। শর্ত পূরণে কাজ শুরু এবং কাজের গতি কতটা এগিয়েছে সেটিই দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিলে কাউন্সিল গঠনের মধ্যে দিয়ে আমরা আমাদের কাজ শুরু করে দিয়েছি। বিষয়টি তাদের জানিয়েও দিয়েছি। মেডিকেল শিক্ষার মান উন্নয়নের সুযোগ যেহেতু আমরা পেয়েছি তাহলে কেন তা করব না?

ওমানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি আমার নজরে এসেছে। এটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তাদের নিজস্ব পলিসি। তারা ইউক্রেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে আমাদের এমবিবিএস ডিগ্রির মান মিলিয়ে ফেলেছে। চীন ও ইউক্রেনের মেডিকেল শিক্ষার মতো আমাদের দেশের মেডিকেল শিক্ষা নয়। আমাদের দেশের মেডিকেল শিক্ষার্থীকে ইউকে স্টাইলের কারিকুলাম ও পদ্ধতিতে পড়ানো হয়। রাশিয়ার কোনো এমবিবিএস ডিগ্রিধারী ইউকেতে চাকরি করতে পারে না। কিন্তু আমাদের দেশের চিকিৎসকরা হরহামেশাই সেখানে চাকরি করছেন। ওমানের বিষয়টি আমরা আমলে নিয়েছি। তবে এর মানে এই নয়; আমাদের মেডিকেল শিক্ষা একেবারেই তলানিতে চলে গেছে।

মেডিকেল অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের খণ্ডকালীন সদস্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, ডব্লিউএফএমইর শর্ত পূরণে আমাদের কাজের অগ্রগতি ভালো। কাউন্সিল গঠন হয়েছে এবং এর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। কাউন্সিলের জন্য বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটের অফিসের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা বড় অগ্রগতি।

ওমান সরকারের বাংলাদেশি চিকিৎসকদের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ডাব্লিউএফএমইর শর্তের সঙ্গে জড়িত নয় বলে মনে করেন বিশিষ্ট এই জনস্বাস্থ্যবিদ ও শিশু বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, অনেক সময় অনেক কারণেই একটি দেশের আপত্তি থাকতে পারে। তবে বিষয়টি আমাদের আমলে নিতে হবে।

প্রসঙ্গত; ডাব্লিউএফএমই সারাবিশ্বে মেডিকেল কলেজের আন্তর্জাতিকমান নিশ্চিতে কাজ করে। প্রতিবেশী দেশ ভারত, এমনকি নেপালও তাদের স্বীকৃতি পেয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ডাব্লিউএফএমইর যৌথ টাস্কফোর্সের সুপারিশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মধ্যে সব দেশকে একটি অ্যাক্রেডিটেশনের মধ্যে আসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে যদি না আসে, তাহলে সে দেশের এমবিবিএস ডিগ্রি গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। এতে হাতছাড়া হবে চাকরির বাজার। অংশ নিতে পারবে না কোনো আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণেও। এছাড়া তাদের শিক্ষার্থীরা অন্য দেশে গিয়ে শিক্ষাও নিতে পারবেন না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App